সাইপ্রাসের ব্যাঙ্ক গুলি বৃহস্পতিবার খুলছে, ২৮শে মার্চ. স্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সাময়িক ভাবে অ্যাকাউন্টের উপরে লেনদেন সীমিত করে দেবে, যাতে ব্যাঙ্ক গুলি থেকে ধ্বস নামার মতো করে লোকে তাদের জমা তুলে নিয়ে না যায়. রাশিয়াতে আশা করা হয়েছে যে, এই ধরনের সীমিত লেনদেন শুধু সেই সমস্ত ব্যাঙ্কেই হবে, যা বর্তমানে সমস্যায় পড়েছে. রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন দেশের মন্ত্রীসভাকে দায়িত্ব দিয়েছেন, যাতে সাইপ্রাসকে দেওয়া আড়াইশো কোটি ইউরো অর্থ ঋণের শর্তাবলী লঘু করার জন্য ভাবা হয়. কিন্তু মস্কো শেষ অবধি নিজেদের অবস্থান নির্দিষ্ট করবে, যখন সাইপ্রাস ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে হওয়া সমঝোতা নিয়ে সমস্ত কিছু খুঁটিয়ে জেনে নিতে পারবে.

সাইপ্রাসের সঙ্গে ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের নাটকীয় আলোচনা ব্রাসেলস থেকে বহু প্রতীক্ষিত খবর দিয়ে শেষ হয়েছে, যখন ইউরো গোষ্ঠী সাইপ্রাসের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রদ করে, তাদের এক হাজার কোটি ইউরো দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে. পরিবর্তে নিকোসিয়াকে দেশের দুটি বৃহত্তম ব্যাঙ্ককে ঢেলে সাজাতে হবে: সাইপ্রাস ব্যাঙ্ক ও সাইপ্রাস পপুলার ব্যাঙ্ক বা লাইকি ব্যাঙ্ককে.

এই প্রক্রিয়াকে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন প্রধান সের্গেই দুবীনিন পর্যালোচনা করে বলেছেন:

“দেশের নেতৃস্থানীয় ব্যাঙ্কগুলি দেউলিয়া হয়ে গিয়েছে. এবারে সব ছোটখাট ব্যাঙ্কের উদয় হবে, ছোটখাট জমা পরিষেবা দেওয়ার জন্য. কোন রকমের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দেওয়া হয় নি. সেখানে যারা বড় মাপের জমা রেখেছিল, তাদের সকলেরই যথেষ্ট রকমের ক্ষতি হতে চলেছে. এই ব্যাঙ্ক গুলি হয়ত চেহারা হিসাবে থেকেই যাবে, তবে তাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আগের স্তরে আর কখনও উঠে আসবে না”.

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে সমঝোতার মোদ্দা কথাটা খুবই সহজ: সাইপ্রাসের ব্যাঙ্ক গুলিতে এক লক্ষ ইউরো অবধি জমা সমস্ত অ্যাকাউন্ট থাকবে কোন রকমের ধরাছোঁয়ার বাইরে. লাইকি ব্যাঙ্ক সেই ধরনের সমস্ত জমা ও তারই সঙ্গে “ভাল” অন্যান্য অ্যাক্টিভ গুলি আর ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে করা নশো কোটি ইউরো ঋণ ব্যাঙ্ক অফ সাইপ্রাসকে দিয়ে দেবে. পরবর্তী কালে লাইকি ব্যাঙ্ক আর থাকবে না. একই ভাবে ব্যাঙ্ক অফ সাইপ্রাস ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে ঋণ ফেরত দেবে, আর তারই সঙ্গে নিজেদের “সুস্থ” করবে তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা সমস্ত এক লক্ষ ইউরোর বেশী জমা, শেয়ার ও অন্যান্য অ্যাক্টিভ থেকে অর্থ নিয়ে. প্রাথমিক মূল্যায়ণ অনুযায়ী, লাইকি ব্যাঙ্কের বড় ক্লায়েন্টরা নিজেদের শতকরা ৪০ ভাগ অর্থ হারাবেন, আর ব্যাঙ্ক অফ সাইপ্রাসের ধনী ক্লায়েন্টরা হারাতে বসেছেন শতকরা ৩০ ভাগ. রাষ্ট্রপতি আনাস্তাসিয়াদিস বর্তমানে হওয়া চুক্তিকে বলেছেন “বেদনা দায়ক, তবু বর্তমানের পরিস্থিতিতে সব থেকে ভাল”.

ইউরো গোষ্ঠীর প্রধান ইয়েরুন দেইস্সেলব্লুম ঘোষণা করেছেন যে, সাইপ্রাসের ব্যাঙ্ক গুলিকে রক্ষা করার জন্য বড় ক্লায়েন্টদের অর্থ নিয়ে যে ধরনের ঘটনা এবারে ঘটানো হল, তা “ভবিষ্যতে ইউরো এলাকায় সহায়তা প্যাকেজের মডেল হবে”. এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই ইউরোপের শেয়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে. ইউরোপের নেতৃস্থানীয় ব্যাঙ্ক গুলির শেয়ারের দাম পড়েছে শতকরা ২ ভাগ. বহু বিশেষজ্ঞই যেমন উল্লেখ করেছেন যে, এখন অবধি ইউরো গোষ্ঠীর নেতৃত্ব জোর দিয়ে বলেছিল যে, সাইপ্রাসের ঘটনা বিরল রকমের. আর এবারে এক লক্ষ ইউরো মূল্যের বেশী জমা যাদের রয়েছে. তারা ইউরোপের কোন দেশেই আর নিজেদের নিরাপদ বোধ করতে পারেন না.

ইতিমধ্যেই ইউরোপের আগের ঐক্যবদ্ধ বিনিয়োগ বাজার ধ্বসে পড়েছে: বৈশিষ্ট্যের কারণ হয়েছে তাদের জাতীয় অঙ্গ গুলি. ফলে – এখন সব থেকে শক্তিশালী নয়, এমন দেশ গুলির জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ছে মূলধন আকর্ষণ করা. আর তার মানে হল যে, তাদের এবারে নিজেদের দেশের ভিতরেই ব্যাঙ্ক ঋণ নিয়ে সমস্যা হতে চলেছে.