আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যুরোর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি স্টেইন ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে সরকারী প্রতিনিধিদল রাশিয়ার শহর একাতেরিনবার্গে এসে পৌঁছেছে. তিনদিন ধরে তারা রুশী শহরটির সারাবিশ্ব এক্সপো-২০২০র আয়োজন করার সামর্থ্যের মূল্যায়ণ করবেন. একাতেরিনবার্গের প্রধান প্রতিদ্বন্দীরা হচ্ছে – সান-পাউলু(ব্রাজিল), দুবাই(সংযুক্ত আরব আমিরশাহী), ইজমির(তুরস্ক) ও আয়ুত্থা(থাইল্যান্ড). প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২০ সালের ১লা মে থেকে ৩১শে অক্টোবর পর্যন্ত.

রাশিয়া প্রদর্শনীর আয়োজন করার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছিল ২০১২ সালের নভেম্বরে. প্রদর্শনীর প্রস্তাবিত স্লোগান – “বিশ্বব্যাপী চেতনা. বিশ্বায়নের ভবিষ্যত ও আমাদের পৃথিবীর উপর তার প্রভাব”. – আজ এর গুরুত্ব অপরিসীম – বলছেন একাতেরিনবার্গের উপ-নগরপাল সের্গেই তুশিনঃ

বিশ্বায়নের চিন্তাধারা – এটা তাই, যা আজকে নগরীর, গোটা বিশ্বেরই বিকাশের গতি ও অভিমুখ নির্ধারণ করে. আজ বিশ্ব জনসমাজ, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ীদের উপর মহলের জন্য অপরিহার্য অনুধাবন করা – এই বিশ্বায়নের আকার কিরকম? এটা আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? বিশ্বায়ন দুনিয়াকে কিভাবে বদলাচ্ছে? এর প্রতি প্রদর্শনীকে উত্সর্গ করা হবে. ধারনাটি সারবস্তুসমৃদ্ধ. এটা শুধু নগরীর জন্যই প্রদর্শনী নয়, গোটা রাশিয়ার জন্য, এই ঘটনা বিশ্বের পরিসরে, যার প্রভাব পড়বে সারা দুনিয়ার উপরে.

শাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত এক্সপো-২০১০-এর পরে রাশিয়ার এক্সপো-২০২০ দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রদর্শনী হতে পারে. প্রদর্শনীর জন্য ৫০০ হেক্টর জমি ছেড়ে দেওয়া হবে. ১০০টিরও বেশি প্যাভিলিয়ন ইচ্ছুক সব দেশকে কোনোরকম জটিলতা ছাড়াই প্রদর্শনীতে যোগ দেওয়ার সুযোগ দেবে. এই প্রসঙ্গে বলছেন স্ভের্ধলোভস্ক জেলার উপ-প্রধানমন্ত্রী মিখাইল মাক্সিমভ. একাতেরিনবার্গ নগরী এই জেলার সদর শহর.-

প্রদর্শনী এক্সপোর অস্তিত্ব যতদিন বজায় আছে, রাশিয়ায় কিন্তু এখনো কোনোদিন এই প্রদর্শনী আয়োজিত হয়নি. গত ২ বছরে যে বিশাল কাজ করা হয়েছে, তার সুবাদে একাতেরিনবার্গ এত বিশাল মাপের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিয়ে প্রস্তুত. আমাদের পরিবহন কাঠামো আধুনিক, নতুন বিমানবন্দর চালু হয়েছে আর সদ্য আমরা নতুন এক্সিবিশন কমপ্লেক্স নির্মাণের কাজ পুরোপুরি শেষ করেছি, যা বিশ্বমানের.

উপরন্তু বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করছেন, যে রাশিয়া শাংহাইয়ে ২০১০ সালের এক্সপোতেই নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করেছে, যেখানে ১৮৯টি দেশকে পেছনে ফেলে রাশিয়া প্রদর্শনীতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল. আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যুরোর সাধারণ পরিষদে ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রদর্শনীর আয়োজক নগরীর নাম ঘোষনা করা হবে ২০১৩ সালের শেষ নাগাদ.