রাশিয়া ইউরোপীয় সঙ্ঘকে সাহায্য করবে সাইপ্রাসের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য. রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের উপরে দায়িত্ব দিয়েছেন নিকোসিয়াকে দেওয়া ২৫০ কোটি ইউরো ঋণের শর্ত নতুন করে বিচার করার জন্য.

এই দ্বীপে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই জটিল হওয়ার জন্য রাশিয়া সাইপ্রাসের জন্য শর্ত সহজ করে দিতে পারে. এর আগে ইউরোপীয় সঙ্ঘ রাজী হয়েছে সাইপ্রাসের সরকারকে সমর্থন করার জন্য এক হাজার কোটি ইউরো সাহায্য দেওয়ার জন্য. এর পরিবর্তে নিকোসিয়া দায়িত্ব নিয়েছে দেশের দুটি বৃহত্তম ব্যাঙ্ক নতুন করে ঢেলে সাজানোর. ব্রাসেলস শহরে মনে করা হয়েছে যে, অন্যান্য ব্যবস্থা গুলির সঙ্গে একত্রে এই ব্যবস্থা দ্বীপের বিনিয়োগ ক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে. কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, খুবই শক্তিশালী অর্থনৈতিক অধঃপতন সাইপ্রাসের জন্য হওয়ার একেবারে গ্যারান্টি রয়েছে: এই দেশের ব্যাঙ্ক গুলির কাজকর্মের ফলে দেশের বাজেটে বেশীর ভাগ অর্থ পৌঁছত. এবারে এই লাভের উপায়, খুব সম্ভবতঃ, দ্রুত কমে যাবে.

এই রকমের পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ঋণের বিষয়ে, যা দেওয়া হয়েছে ২০১১ সালে, তার শর্ত সহজ করে দেওয়া সাইপ্রাসের জন্য খুবই বাস্তবিক সহায়তা হবে. কিন্তু তার বিনিময়ে রাশিয়ার সরকার কয়েকটি শর্ত পালন করার দাবী করতেই পারে. যেমন, বৃহত্ সাইপ্রাসের ব্যাঙ্ক গুলিতে কিছু রুশ সরকারি জমা রাখা অ্যাকাউন্ট ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, এই রকম মনে করে আর্থ-বিনিয়োগ কোম্পানী আলেমার এর কার্যকরী প্রধান রোমান আন্দ্রেয়েভ বলেছেন:

“রাশিয়া, খুব সম্ভবতঃ, দাবী করবে সাইপ্রাসের সরকারের পক্ষ থেকে ছাড় – রাশিয়ার সরকারি কোম্পানী গুলির অর্থ যাতে না ছোঁয়া হয়. সেই ক্ষেত্রে রাশিয়া কোন এক রকমের সমঝোতায় পৌঁছনোর উপযুক্ত উপায় খুঁজে বার করতে পারে, যখন ঋণ ফেরতের সময় তিন থেকে পাঁচ বছরের জন্য বাড়িয়ে দেওয়া হতে পারে. আর সম্ভবতঃ, সুদের হার কমানো হতে পারে”.

এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, মস্কো থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে: সাইপ্রাসের সমস্যা সমাধান রাশিয়ার অংশগ্রহণ ব্যতীত সম্ভব নয়. কিন্তু ইউরোপীয় সঙ্ঘ কিছু দিন আগে পর্যন্তও অন্যরকম করে ভেবে এসেছে. যেমন, গত সপ্তাহের শুরুতে জার্মানীর চ্যানসেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল সাইপ্রাসের কাছ থেকে দাবী করেছিলেন যে, উদ্ধারের জন্য আলোচনা করা দরকার শুধু তিন ঋণ দাতার সঙ্গেই (ইউরোপীয় সঙ্ঘ, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল), সেখানে রাশিয়াকে অংশ নিতে না ডেকে. কিন্তু ইউরোপীয় সঙ্ঘের অবস্থান একেবারেই উল্টো দিকে ঘুরে গিয়েছে. সোমবারে ইউরো গ্রুপের প্রধান ইয়েরুন দেইস্সেলব্লুম ইতিমধ্যেই আশা প্রকাশ করেছেন যে, সাইপ্রাস রাশিয়ার সঙ্গে সাহায্য নিয়ে কথাবার্তা চালিয়ে যাবে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ইউরোপীয় সঙ্ঘের প্রশাসন বুঝতে পেরেছে: রাশিয়া ছাড়া, সাইপ্রাসের সঙ্কট তারা একা সামলাতে পারবে না. বিশেষ করে যদি হিসাব করা হয় যে, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা ছাড়াও আরও একটি গুরুতর সমস্যা রয়েছে - এই দ্বীপের প্রশাসনের বিশাল ঋণের, যা নিয়ে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের প্রাক্তন প্রধান সের্গেই দুবীনিন বলেছেন:

“সাইপ্রাসের ব্যাঙ্কের মত সংস্থা গুলির সমস্যা, খুব সম্ভবতঃ, সমাধান করা হবে. কিন্তু সাইপ্রাসের জন্য পরবর্তী সমস্যা হবে তাদের রাষ্ট্রীয় ঋণের... এখন তা গড় জাতীয় উত্পাদনের শতকরা ৮০ ভাগ. এটার জন্য সুদ দিতে হবে, আর যদি আন্তর্জাতিক কাজকর্মের থেকে কোন আয় না হতে থাকে, তবে শুধু পর্যটন থেকেই আয় থাকবে, আর কিছু স্থানীয় আয়. প্রয়োজন পড়বে বাজেটের খরচের খাত গুলি খুবই কমিয়ে আনার”.

অথবা আবার সাহায্যের জন্য হাত পাতা. বোঝাই যাচ্ছে যে, প্রাথমিক ভাবে সাইপ্রাসের সরকার তা করবেন রাশিয়া ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের কাছে.

তারই মধ্যে সাইপ্রাসের ব্যাঙ্ক গুলি আপাততঃ বন্ধই রয়েছে. স্থানীয় কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক স্থির করেছে ব্যাঙ্কের কাজ কর্ম শুধু বৃহস্পতিবারের পরে চালু করার, কিন্তু বেশ কিছু বাধা নিষেধ সহ. কিন্তু দ্বীপে পরিস্থিতি যে ভাবেই পরিবর্তন হোক না কেন, বিশেষজ্ঞরা সকলেই একটা বিষয়ে একমত যে, প্রশাসনের কাজকর্মে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা নষ্ট হয়েছে. গত সপ্তাহে সমস্ত রকমের ব্যাঙ্কের জমার উপরেই কর বসানোর জন্য নিকোসিয়ার চেষ্টা বাস্তবিক ভাবেই ব্যবসায়ী জগতকে চমকে দিয়েছে. এই কারণে দীর্ঘস্থায়ী সম্ভাবনার কথা বিচার করলে সাইপ্রাস খুব সম্ভবতঃ বিশ্বের একটি আর্থ-বাণিজ্য কেন্দ্রের মর্যাদা হারাতে বসেছে.