রাশিয়ার সামরিক শিল্প কমপ্লেক্সের ২০টির বেশী কোম্পানী ২৬ থেকে ৩০শে মার্চ নিজেদের সর্বাধুনিক সামরিক প্রযুক্তির উদাহরণ দেখাতে নিয়ে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও বিমান-মহাকাশ প্রদর্শনী লিমা – ২০১৩ (লঙ্কাভি আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ও বিমান-মহাকাশ প্রদর্শনী) উপলক্ষে, মালয়েশিয়ার দ্বীপ লঙ্কাভিতে.

রাশিয়ার উত্পাদকরা এই প্রদর্শনীতে উপস্থিত করছে সবচেয়ে প্রসারিত ভাবে সামরিক বিমান প্রযুক্তি, আকাশ নিরাপত্তার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক জাহাজ ও ছোট বোট. ১৯৯১ সাল থেকে রাশিয়া এই সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে অংস নিয়েছে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে রসআবারোনএক্সপোর্ট কোম্পানীর সরকারি প্রতিনিধি ভিয়াচেস্লাভ দাভীদেঙ্কো বলেছেন:

“প্রথম থেকেই রাশিয়া লিমা প্রদর্শনীকে জনপ্রিয় করার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা বর্তমানে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এক বৃহত্তম ও মহিমান্বিত সমরাস্ত্র প্রদর্শনীতে পরিণত হতে পেরেছে. আর তারই সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে পরিণত হয়েছে. আমরা এই প্রদর্শনীতে যাঁরা অংশ নেবেন ও অতিথি হিসাবে আসবেন তাঁদের দেখানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছি বহুমুখী অতি দ্রুত দিক পরিবর্তনে সক্ষম যুদ্ধবিমান সু – ৩৫, প্রশিক্ষণ ও যুদ্ধের উপযুক্ত বিমান ইয়াক – ১৩০, যুদ্ধের উপযুক্ত হেলিকপ্টার মি – ২৮এনএ, যুদ্ধ ও গুপ্ত ভাবে আঘাত হানার জন্য প্রয়োজনীয় মি- ২৬ হেলিকপ্টার. আমরা এখানে সামুদ্রিক প্রযুক্তিও দেখাবো. তার মধ্যে ফ্রিগেট গেপার্ড থাকবে, প্রহরার উপযুক্ত সামরিক বোট মিরাঝ ও সোবল. রসআবারোনএক্সপোর্ট এখানে বিদেশী সহকর্মীদের দেখানোর জন্য নিয়ে যাচ্ছে সবচেয়ে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা – বুক এমটুএম, রকেট ও গোলা ছোঁড়ার ব্যবস্থা পান্তসির- সি ওয়ান. বিশ্বের সমরাস্ত্র বাজারের এই বিশেষ ধরনের অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে রাশিয়ার প্রভাব খুবই শক্তিশালী”.

রাশিয়া ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত ক্ষেত্রে যোগাযোগ আজ বহু বছর ধরেই বৃদ্ধি পাচ্ছে. মালয়েশিয়া সেই ১৯৯৪ সালে কিনেছিল ১৮টি রাশিয়া থেকে মিগ – ২৯ বিমান. আর এটা রাশিয়ার পক্ষ থেকে অস্ত্র রপ্তানীর বিষয়ে একটা গতি প্রয়োগের কাজ করেছিল. মালয়েশিয়া চিন, ভারত বা আলজিরিয়ার মতো কোন কালেই রাশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সমরাস্ত্র ক্রয়ের সহকর্মী দেশ ছিল না ও দীর্ঘ দিন ধরে পশ্চিমের সমরাস্ত্রের ক্রেতা ছিল. কিন্তু ২০০০ সালের দিকে ১৮টি সু-৩০ বিমান তারা কিনেছিল. দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বাজার ও তার মধ্যে মালয়েশিয়ার বাজারও রাশিয়ার জন্য সমরাস্ত্র প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক কাঠামো কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইভান কনোভালভ বলেছেন:

“আমাদের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করা হয়েছে, যাদের জন্য আমরা নিয়মিত ভাবে অস্ত্র ব্যবস্থা রপ্তানী করেছি. এটা ভিয়েতনাম, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া. সুতরাং এই প্রদর্শনী সত্যই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়. এখানে উল্লেখযোগ্য জায়গা নিয়েছিল বিমান ব্যবস্থা. দক্ষিণ– পূর্ব এশিয়াতে বিশেষ করে জনপ্রিয় রাশিয়ার যুদ্ধ বিমান, প্রাথমিক ভাবে সু- ৩০. এখানে অনেকগুলি এই ধরনের বিমান বিক্রী করা হয়েছে. এই প্রদর্শনীতে রাশিয়ার সামুদ্রিক নৌবাহিনীর জাহাজ গুলিও অংশ নেবে”.

রাশিয়ার পতাকা বহন করে দেখানোর জন্য এই অনুষ্ঠানের সময়ে লঙ্কাভি বন্দরে পৌঁছেছে বিশাল ডেস্ট্রয়ার জাহাজ মার্শাল শাপোশনিকভ. মালয়েশিয়ার এই প্রদর্শনীর একটি অলঙ্কার হবে রাশিয়ার রুস্সকিয়ে ভিতিয়াজী নামের সর্বোত্তম বিমান চালনার দলের উড়ান প্রদর্শনী.