সুদূর মধ্যযুগে লেওনার্দো দ্য ভিঞ্চি সগর্বে নিজেকে ইঞ্জিনীয়ার বলে অভিহিত করতেন, যদিও তিনি ছিলেন একাধারে বিশ্ববন্দিত চিত্রশিল্পী, ভাস্কর ও বিজ্ঞানী. ইঞ্জিনীয়ারের পেশার চাহিদা চিরকালের. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুরুষরাই এই পেশা গ্রহণ করে, কারণ ধরে নেওয়া হয়, যে মানবজাতির শক্তিশালী অর্ধাংশের প্রযুক্তিগত চিন্তাধারা অধিকতর উন্নত. এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করতে হয়েছে ‘রেডিও রাশিয়া’র সংবাদদাত্রী ইলেনা গাইদুককে. ইলেনা রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিজিনীয়ারিং ফ্যাকাল্টি পরিদর্শন করেছেন, যেখান থেকে বহু জ্ঞানীগুণী ইঞ্জিনীয়ার একসময়ে ডিগ্রি পেয়েছেন. দেখা গেল, যে শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা কম নয়. সংবাদদাত্রীর সাথে আলাপে ইঞ্জিনীয়ারিং ফ্যাকাল্টির ৩য় বর্ষের ছাত্রী সুদর্শনী ও শীর্ণকায়া সালিনি মেনন জোর দিয়ে বলছেন, যে ইঞ্জিনীয়ারের পেশা তার জন্য পূর্বনির্ধারিত.-

আমি বরাবর স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তির ওপর উচ্চশিক্ষা লাভ করতে চেয়েছি, ইন্টারনাল কমবাশন ইঞ্জিন নিয়ে কাজ করতে চেয়েছি. ইঞ্জিনীয়ারদের বহুরকম পেশা আছে, যেমনঃ মেকানিক্যাল, সিভিল, এনভায়রনমেন্ট ইত্যাদি. আমি এঞ্জিন ও মোটরের ওপর বিশেষজ্ঞ হতে চাই. কেন আমি ঠিক এই পেশা বেছে নিলাম - তার বহু কারণ আছে. আমার বরাবরই আর্টসের তুলনায় টেকনোলজিক্যাল বিষয়গুলির প্রতি বেশি ঝোঁক ছিল. যদিও ইঞ্জিনীয়ারের পদে কাজ করা সহজ নয়, আমি আত্মপ্রত্যয়ী, যে সব জটিলতা অতিক্রম করতে সক্ষম হব, কারণ আমার পছন্দ এই পেশা. আমি জানি, যে আমার জন্য এই কাজ কখনো বোরিং হবে না.

স্বীকার করা উচিত, যে আমার নির্বাচনের উপর বড় প্রভাব ফেলেছিলেন আমার কাকা, যিনিও রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনীয়ারিং পাশ করেছিলেন. বর্তমানে ইকনোমিস্ট ও ম্যানেজারদের সংখ্যা বাড়াবাড়ি রকমের বেশি. ঐ সব পেশায় চাকরি পাওয়া ক্রমশঃ দুস্কর হয়ে উঠছে. তাদের তুলনায় ইঞ্জিনীয়ারদের পক্ষে চাকরি পাওয়া অনেক সহজতর এবং তাদের মাইনেও বেশি. যে কোনো তরুন বিশেষজ্ঞের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যে তার চাকরি তার ভবিষ্যতকে যেন সুরক্ষিত করতে পারে. আমার মনে হয় আর্থিক স্বাধীনতা – খুব গুরুত্বপূর্ণ. সুতরাং ইঞ্জিনীয়ারদের ভবিষ্যত উজ্বল.

মাস্টার্স ডিগ্রি আমি করতে চাই ভারতে, আর তারপরে আশা রাখি বড় বড় আন্তর্জাতিক প্রকল্পে কাজ করার. ইঞ্জিনীয়ারের পেশা দেশের অর্থনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সংযুক্তঃ দেশ যতটা উন্নত, তত বেশি সংখ্যায় তার প্রয়োজন ইঞ্জিনীয়ারের.

ক্লাসের পরে আমরা ‘ভারতের ছন্দ’ গোষ্ঠীর নৃত্যানুষ্ঠান দেখলাম. আমার নতুন পরিচিতা তরুনী সালিনি মেনন অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সাথে অনুষ্ঠান করলো. সে চমত্কার গান গাইলো ও ভারতীয় লোকনৃত্য পরিবেশন করলো.