রাশিয়ার অর্থনীতিতে পরিবেশের খারাপ পরিস্থিতির জন্য ক্ষতি বছরে বার্ষিক জাতীয় উত্পাদনের শতকরা ৬ ভাগ পেরিয়ে যাচ্ছে. এই বিষয়ে জানিয়েছেন প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশ বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ের প্রধান সের্গেই দনস্কোই. মন্ত্রী ও সাংসদরা রাষ্ট্রীয় দ্যুমার এক বিশেষ বিতর্ক সভায় এই জানা সমস্যা – প্রকৃতি সংরক্ষণ ও পরিবেশ বিজ্ঞান নিয়ে কথা বলেছেন.

শেষ প্রকাশিত পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত প্রবন্ধ অনুযায়ী রাশিয়ার প্রায় একের তৃতীয়াংশ মানুষ পরিবেশ সংক্রান্ত খারাপ জায়গায় থাকেন. নোংরা জল, হাওয়ায় দূষণ, জমে ওঠা বর্জ্য পদার্থের স্তূপ – এই সবই নেতিবাচক ভাবে রাশিয়ার লোকদের স্বাস্থ্য ও আয়ুর উপরে প্রভাব ফেলেছে. যদিও বিগত দশ বছরে দেশের বার্ষিক গড় জাতীয় উত্পাদনের বহু গুণ বৃদ্ধি স্বত্ত্বেও দূষণের কারণ হওয়া প্রধান বস্তু ও আবর্জনার পরিমাণের মূল সূচক গুলির স্থিতিশীলই রয়েছে, তবুও পরিবেশের পরিস্থিতি বর্তমানে নেতিবাচক গতি প্রকৃতি নিয়েছে. তার মধ্যে আবার অনেক সমস্যার কারণ হয়েছে মানুষেরই কাজ কর্মের ফলে, তথাকথিত স্থানীয় চরিত্রের. যেমন, কোথাও মাটিতে এক বালতী পারদ ফেলা হয়েছে, না জেনে অথবা খেয়ালের অভাবে. মনে হতে পারে যে, এই বিশাল দেশের তুলনায় তা নেহাতই অকিঞ্চিত্কর ব্যাপার, কিন্তু আসলে এর ফলে যে ক্ষতি করা হল, তা বিপুল ও তা আবার করে পূরণ করতে লাগবে শুধু এক প্রজন্মই নয়.

অথবা জঙ্গল কেটে ফেলা. আইন শৃঙ্খলা রক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়াতে কাজ করছে সত্যিকারের জঙ্গলের মাফিয়া. তারা বেআইনি ভাবে সুদূর প্রাচ্যে মূল্যবান প্রজাতির গাছ কেটে ফেলে পাচার করছে চিনে, ইউরোপীয় এলাকার উত্তর- পশ্চিম অঞ্চলের থেকে ফিনল্যান্ডে পাঠাচ্ছে. রাশিয়ার অর্থনীতি তাই এই ধরনের বেআইনি ভাবে বন বিক্রী করে দেওয়ার ফলে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি রুবলের অথবা এক-শো সত্তর কোটি ডলারের ক্ষতি স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে. পরিবেশের এই কারণে ক্ষতি হচ্ছে অপূরণীয়. যারা চোরাই কাঠ বিক্রী করে, তারা কেটে নেওয়া জায়গায় আবার করে বন তৈরীর জন্য গাছ লাগায় না, ফলে রাশিয়ার কিছু জায়গায় গুণমান সম্পন্ন বনের সংখ্যা কমে এসেছে একেবারেই সঙ্কট জনক মাত্রায়.

সরকার এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে. বেআইনি চোরাই চালানকারীদের ধরছে. দেশের বন সম্পদ শিল্পের বিকাশের জন্য পরিকল্পনা, যা নেওয়া হয়েছে ২০২০ সাল পর্যন্ত, তা সংরক্ষিত অরণ্যের এলাকা বৃদ্ধি করবে, আর বন পুনরুদ্ধারের কাজের সক্রিয়তা বৃদ্ধি করবে. এই লক্ষ্যে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত ও সক্রিয় করার জন্য চালু হয়েছে জনতার নিয়ন্ত্রণ নামে তথ্য ব্যবস্থা, কিন্তু পরিবেশের ক্ষতি করার জন্য পূরণ করা নিয়ে আইনের ভিত্তি এখনও যথেষ্ট নয়. এইই বিষয়ে সাংসদরা, সম্পর্কিত দপ্তরের মন্ত্রীরাও একমত হয়েছেন. সমস্যা আছে বলে স্বীকার করাই – অর্ধেক কাজ হওয়া. এবারে গুরুত্বপূর্ণ হবে তার সমাধানের জন্য একসাথে সব দিক থেকে এগিয়ে চলার, এই রকম মনে করে রুশ বিজ্ঞানী ভেরনাদস্কির নামাঙ্কিত পরিবেশ সংরক্ষণ তহবিলের সভাপতি ভ্লাদিমির গ্রাচেভ বলেছেন:

“এটা খুবই ভাল হয়েছে, যে আবার এই ধরনের প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার পরিসরে. এর অর্থ হল যে, আইন নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝার সময় এসেছে, যা আমাদের পরিবেশের পরিস্থিতি ভাল করতে সাহায্য করবে. আর গুরুত্বপূর্ণ হল যে, যাতে শুধু প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রণালয়ই এটা না বোঝে, বরং অর্থ মন্ত্রণালয়, শিক্ষা ও বিজ্ঞান মন্ত্রণালয়ও এটা বুঝতে পারে, যাতে বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়. কারণ ভাল আইনের বয়ান লেখা যেতে পারে, কিন্তু যদি তা পালনের জন্য অর্থ বরাদ্দ না করা হয়, তবে কিছুই বদলাবে না. তাই প্রয়োজন পড়বে, যাতে সরকার সামগ্রিক ভাবে, নিজেদের সমস্ত বিভাগকে নিয়ে খুব মনোযোগ দিয়ে এই দিককে খেয়াল করে. আর সাংসদরা, স্বাভাবিক ভাবেই ঠিক আইন যেন গ্রহণ করেন. বোঝাপড়া রয়েছে – এটা ইতিমধ্যেই ভাল ব্যাপার. তার মানে হল, আশা করা যায় কাজও হবে”.

রাশিয়াতে ২০১৩ সালে রাষ্ট্রপতির নির্দেশ-বলে পরিবেশ সংরক্ষণ বত্সর পালন করা হচ্ছে. প্রশাসন ও সাংসদদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে. আর এখন ভিত্তি রয়েছে মনে করার যে, পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁরা বেশী করেই মনোযোগ দেবেন.