পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক নেতা পারভেজ মুশারফ, যিনি বিগত বছর গুলিতে অভিবাসন নিয়েছিলেন, তিনি বৃহত্ রাজনীতিতে ফিরে আসছেন. প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্ট নির্বাচনে যাচ্ছেন নতুন দল সারা পাকিস্তান মুসলিম লীগের নেতা হিসাবে. পাকিস্তানের রাজনীতিতে মুশারফের প্রত্যাবর্তন খুবই তীক্ষ্ণ করে তুলবে রহস্যকে, যেখানে প্রাক্তন শক্তিশালী নেতাকে নিয়ে মানুষের মধ্যে পুরনো কথা মনে করে আচ্ছন্ন থাকা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বর্তমানের অসামরিক রাষ্ট্রপতি জারদারির মন্ত্রীসভার প্রতি জনপ্রিয়তা কমছে. এই রকম মনে করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“পাকিস্তানের বিগত দশকের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ও বিতর্কের কারণ হওয়া রাজনীতিবিদ পারভেজ মুশারফ দুবাই থেকে করাচী এসেছেন গত রবিবারে. জন্মভূমিতে ফেরার পরে দেওয়া প্রথম ঘোষণায়, ২০০৮ সালে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার ভয়ে রাষ্ট্রপতি পদ ছেড়ে দেওয়া পাকিস্তানের প্রাক্তন সামরিক নেতা তাঁর জন্য বিমানবন্দরে থাকা সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিদের বলেছেন যে, তিনি পরস্পর বিরোধী অনুভূতি টের পাচ্ছেন: একদিকে দেশে ফেরার আনন্দ ও অন্য দিকে তা মলিন করা নিজের জীবন ও নিজের সমর্থকদের জীবনের উপরে হুমকির জন্য উদ্বেগ”.

করাচী বিমান বন্দরে প্রাক্তন নেতার অবতরণের জন্য একেবারেই অভূতপূর্ব নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল. সন্ত্রাসের ভয়ে সরকার করাচী শহরে মহম্মদ আলি জিন্নার কবরের কাছে মুশারফের নতুন দলের সমর্থকদের সমাবেশ বাতিল করে দিয়েছে.

মুশারফের ফিরে আসার আগে তেহরিক-এ-তালিবান গোষ্ঠীর ঘোষণা প্রকাশ করা হয়েছে. ঐস্লামিকেরা বলেছে যে, তারা স্নাইপার ও একদল আত্মঘাতী পাঠাবে, যাতে নিজেদের বহু কালের শত্রুকে জাহান্নমে পাঠানো সম্ভব হয়. পারভেজ মুশারফের প্রতি এক ভিডিও তোলা হুমকি পাঠিয়েছে প্রাক্তন বিমান বাহিনীর অফিসার আদনান রাশিদ, যে দেশের প্রধানকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগে জেলে বন্দী ছিল ও গত বছরে যাকে তালিবরা মুক্ত করেছে.

তালিবান আন্দোলনের লোকরা পারভেজ মুশারফকে নিশ্চিহ্ণ করার জন্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছিল পাকিস্তানের তরফ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জর্জ বুশের বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস বিরোধী জোটে যোগ দেওয়ার পরে, তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“আসলে দেশে ফিরে এসে পারভেজ মুশারফ দুই আগুনের মুখে পড়েছেন, - তার সঙ্গে হিসেব চুকানোর জন্য শুধু ঐস্লামিকেরা নয়, বরং বর্তমানের অসামরিক প্রশাসনও চাইছে. ২০১১ সালেই পাকিস্তানের আদালত পারভেজ মুশারফকে গ্রেপ্তারের রায় দিয়েছিল, কারণ তিনি ২০০৭ সালে প্রাক্তন বিরোধী নেত্রী বেনজির ভুট্টো হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে. তাঁর বিরুদ্ধে বাড়িয়ে দেওয়া অভিযোগের মধ্যে ছিল – ভুট্টো হত্যায় সহযোগিতা”.

কিন্তু পাকিস্তানের সরকার শুধু পারভেজ মুশারফকে তাঁর দেশে ফিরে আসার পরে বন্দী করতেই শুধু যে ঝুঁকি নেন নি, তা নয়, বরং তাঁর জন্য দিয়েছে বর্ম সমেত গাড়ী ও প্রহরী. অসামরিক প্রশাসনের ও রাষ্ট্রপতি জারদারির জনপ্রিয়তা কমে যাওয়াতে, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, সরকার অবিলম্বে এই রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছে না, যাঁর আট বছরের শাসন আজ আর তেমন অগণতান্ত্রিক বলে মনে হচ্ছে না, যা তাঁর দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার সময়ে, কয়েক বছর আগে মনে হয়েছিল, তাই তোমিন বলেছেন:

“কোন গোপন কথা নয় যে, ২০০৮ সালে যখন পারভেজ মুশারফ দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন, তখন তাঁর রেটিং ছিল সবচেয়ে নীচেতে. কিন্তু তাঁর পরিবর্তে যে অসামরিক মন্ত্রীসভা পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি ও তাদের জোটের সঙ্গে ক্ষমতায় রয়েছে, তারা দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশের জন্য প্রয়োজনীয় সামাজিক গণতান্ত্রিক সংশোধন ও ফলপ্রসূ প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরী করতে নিজেরা অক্ষম. সীমানা হীন দুর্নীতি ও প্রশাসনের বিভিন্ন শাখা প্রশাখার মধ্যে বিরোধ খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে রাষ্ট্রপতি জারদারির অসামরিক সরকারের প্রভূত্বকে খর্ব করেছে, আর বর্তমানে তা ঐতিহাসিক ভাবেই সবচেয়ে কম জনপ্রিয় হয়েছে. এই প্রসঙ্গে ইসলামাবাদের বিদেশী সহকর্মীরা, যারা পাকিস্তানের উচ্চ মহলে এই সব গোলমালের সাক্ষী হয়েছেন, তাঁরা বুঝে উঠতে পারছেন না: কে এই দেশে সত্যিকারের ক্ষমতা হাতে ধরে রয়েছে – রাষ্ট্রপতি, মুখ্য বিচারপতি, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব, নাকি গোপন পরিষেবা আইএসআই নেতৃত্ব? ইসলামাবাদে কার সঙ্গে কথা বলার অর্থ হয়? গণতন্ত্র গুটিয়ে ফেলার মতো পরিনাম ঘটিয়ে থাকলেও পারভেজ মুশারফের সময়ের প্রশাসন নিয়ে কিন্তু কারও মনে এই ধরনের প্রশ্নের উদয় হয় নি”.

এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, আজ দেশে শক্তিশালী নেতা নিয়ে একটা আচ্ছন্ন হওয়ার ভাব সৃষ্টি হয়েছে, যেটা নিয়ে পারভেজ মুশারফের দল দিব্যি বাজী ধরতে পারে. কারণ, ঠিক করে বলতে হলে, নিজের শাসন কালে পারভেজ মুশারফ একজন উদাহরণ স্বরূপ সামরিক স্বৈরতন্ত্রী নায়ক ছিলেন না. তিনি কখনোই বড় রক্তপাত হতে দেন নি, যখন ক্ষমতায় এসেছেন ও যখন ক্ষমতা থেকে বেরিয়েও গিয়েছেন, তখনও. ঐতিহাসিক ভাবে সমান্তরাল টানলে, বলা যেতে পারে যে, মুশারফকে শান্তি দেয় নি তুরস্কের সংস্কার সাধক আতাতুর্কের অর্জিত জনপ্রিয় হওয়ার পুরস্কার গুলি. কারণ তিনি পাকিস্তানের নেতার জন্য খুবই উচ্চাকাঙ্ক্ষী আর ঝুঁকি সম্পূর্ণ কাজ করার চেষ্টা করেছিলেন – দেশে আধুনিকীকরণ করতে, ইসলাম ও গণতন্ত্রের মধ্যে শান্তি ঘটিয়ে.

প্রথম অসফল প্রচেষ্টার পরে আজ পারভেজ মুশারফ দ্বিতীয় চেষ্টা করতে চলেছেন. তিনি প্রমাণ করতে চাইছেন যে, মিশন পসিবল্ – অর্থাত্ উদ্দেশ্য সাধনের যোগ্য, যদিও খুবই ভাল করে বুঝতে পারছেন যে, তা কতটা বিপজ্জনক.