গত সপ্তাহের শেষে ভারত ও চিন চুক্তি করেছে দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ পুনর্বহাল করার. এই সমঝোতা ভারতে চিনের জাতীয় স্বাধীনতা বাহিনীর সদর দপ্তরের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল শী জিয়াংগুও এর সফরের সময়ে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর সচিব শশী কান্ত শর্মার সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে করা হয়েছে. খুবই আসন্ন সময়ে নির্দিষ্ট কাজকর্মের পরিকল্পনা করা হবে, তার মধ্যে যৌথ মহড়াও থাকবে, যা এই বছরেই চিনের এলাকায় করা হবে.

এই ধরনের সামরিক দপ্তর গুলির মধ্যে যোগাযোগ দুই দেশের বন্ধ হয়েছিল ২০১০ সালে, যখন চিন ভারতীয় সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি দলকে তাদের দেশে যাওয়ার জন্য ভিসা দিতে আপত্তি করেছিল, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এখন পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, সামরিক বাহিনীর লোকদের মধ্যে আলাপ আলোচনা আবার করে শুরু হওয়া প্রমাণ করে দিতে পারে যে, ভারত ও চিনের সম্পর্কের মধ্যে ভালোর দিকে সব মিলিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে. এই বিষয়ে আরও উল্লেখ করে চিনের নতুন নেতৃত্বের প্রথম ঘোষণা ও এই সপ্তাহের মাঝামাঝি দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ব্রিকস গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলনের প্রসঙ্গ, যেখানে পাঁচ রাষ্ট্রের সকলের একসাথে করা নানা অনুষ্ঠানের মধ্যে চিনের সভাপতি শী জিনপিনের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের দ্বিপাক্ষিক আলোচনাও থাকবে.

এক সপ্তাহ আগে, নিজের প্রথম প্রকাশ্য বক্তৃতায়, চিনের নব নির্বাচিত সভাপতি বিশেষ করে মনোযোগ দিয়েছেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে. শী জিনপিন বিশেষ করে বলেছেন যে, বেশ কিছু অসমাধিত ও বিতর্কিত প্রশ্ন দুই দেশের মধ্যে থাকা স্বত্ত্বেও, যার মধ্যে সীমান্ত সমস্যাও রয়েছে, দুই দেশেরই উচিত্ হবে শান্তি ও সহিষ্ণুতা বজায় রেখে কাজ করার, যাতে বিতর্কিত প্রশ্ন গুলি সামগ্রিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে না পারে”.

শী জিনপিন এমনকি প্রস্তাব করেছেন শান্তিপূর্ণ ভাবে সহাবস্থানের জন্য পাঁচটি নীতির এক নতুন সংস্করণ, যা পঞ্চশীল নীতি নামে গত শতকের পঞ্চাশের দশকেই প্রস্তাবিত হয়েছিল, যার উপরে ভিত্তি করে ভারত ও চিনের সম্পর্ক থাকা উচিত্, এই নীতি গুলি হল:

ভারত ও চিনের উচিত্ হবে:

- স্ট্র্যাটেজিক যোগাযোগ বজায় রাখা ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে সঠিক রাস্তায় ধরে রাখা;

- একে অপরের তুলনার যোগ্য শক্তিকে লাগাম পরান ও পরিকাঠামো, পারস্পরিক বিনিয়োগ এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও সব পক্ষেরই জয় হয়, এমন সহযোগিতা করা;

- সাংস্কৃতিক যোগাযোগ শক্তিশালী করা ও আমাদের দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্ব বৃদ্ধি করা;

- বহু পাক্ষিক বিষয়ে যোগাযোগ বাড়ানো ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা, যাতে সম্মিলিত ভাবে উন্নতিশীল দেশ গুলি নিজেদের আইন সঙ্গত অধিকার বজায় রাখতে পারে ও বিশ্বের সমস্যা গুলির মোকাবিলা করা সম্ভব হয়;

- একে অপরের প্রধান উদ্দেশ্য গুলিকে জায়গা করে দেওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে থাকা সমস্যা এবং মতের অমিল গুলির ক্ষেত্রে সঠিক ভাবে অবস্থান নেওয়া.

বাস্তবে শী জিনপিনের এই সব প্রস্তাব, যা সম্পর্ক ভাল করার জন্যই করা হয়েছে, তাও কম প্রশ্নের উদয় করে না, এই রকম মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“যেমন, মূল প্রশ্ন গুলির ক্ষেত্রে কতটা অন্য পক্ষের উদ্বেগ ও স্বার্থের কথা নিজেদের বিচারের মধ্যে আনাকে মনে করা হবে কোন না পক্ষের তরফ থেকে ছাড় দেওয়া বলে, আর সমস্যা ও বিরোধের ক্ষেত্রে উপযুক্ত সম্পর্কের অর্থ কি. আর এই সব সমস্যা বিগত বছর গুলিতে তো কমেই নি, বরং তার সঙ্গে নতুনও যোগ হয়েছে. আর দিক পরিবর্তনের মুহূর্ত হয়েছে, যখন গত বছরের শুরুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাদের স্ট্র্যাটেজিক দিক পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করে বলা হয়েছে যে, এবার থেকে তাদের বিদেশ নীতিতে মনোযোগ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে. আর প্রায় তখনই ঠিক এর পরেই চিনের সঙ্গে তার প্রতিবেশী দেশ গুলির সম্পর্ক তীক্ষ্ণ হয়েছে দক্ষিণ চিন সাগরে, যা আবার হয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইনস ও সিঙ্গাপুরে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধির অনুষঙ্গেই. এই সব পরস্পর বিরোধী মতামতের জটে ভারতও জড়িয়ে গিয়েছে, যাদের নিজেদের স্বার্থ রয়েছে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে ও অংশতঃ দক্ষিণ চিন সাগরেও. স্বাভাবিক ভাবেই, এই সব কিছুই এশিয়ার দুই নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্রের মধ্যে ভরসার স্তরে কোনও বৃদ্ধি করতে পারে নি”.

এই সব কিছুরই সাথে আবার ভারত- চিন সম্পর্কের চরিত্র বর্ণনা করতে গিয়ে বলা যেতে পারে যে, চোখে দেখলেই ভয়, হাতে করলে কিচ্ছুই নয়. কারণ সরাসরি বিরোধ যেমন এক পক্ষের, তেমনই অন্য পক্ষেরও স্বার্থ সিদ্ধি করে না, তাই নিজেদের বাস্তব কাজকর্মের ক্ষেত্রে তারা, সমস্ত রকমের মতের অমিল থাকা স্বত্ত্বেও, খুবই সম্ভবপর করেছে ফলপ্রসূ সহযোগিতা বৃদ্ধি করাকে – এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও, যা দেখিয়ে দিয়েছে কয়েকদিন আগে চিনের জাতীয় স্বাধীনতা বাহিনীর সদর দপ্তরের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল শী জিয়াংগুও এর ভারত সফর.