ইরাক যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সরকারের ন্যায্যতা প্রমাণের পুনরায় চেষ্টা করা হয়েছে। ইরাক যুদ্ধের ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে একটি ডকুমেন্টারি চলচিত্র প্রচার করেছেন ব্রিটেনের সাংবাদিকরা। ছবিতে প্রমাণ করা হয়েছে যে, জর্জ ডব্লিও বুশ ও টনি ব্লেয়ার যারা ইরাক যুদ্ধ শুরুর নির্দেশ দিয়েছিলেন তাঁরা ভুল তথ্যের স্বীকার হয়েছিলেন। এর দায়ভার পড়েছে যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের ওপর যারা নেতাদের সঠিক তথ্য-উপাত্ত সরবরাহ করেন নি। তবে, সাংবাদিকদের ওই গবেষণা প্রতিবেদন বিশেষজ্ঞদের কাছে শুধু এক ফালি হাসি মুখ তৈরী করেছে।

১০ বছর আগে ইরাক যুদ্ধ নিয়ে বুশ ও ব্লেয়ারের কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ছিলো না এবং তা শুরু থেকে সবার কাছে পরিষ্কার ছিলো। সঙ্গত কারণেই ইরাক যুদ্ধ চলাকালে ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক যুদ্ধবিরোধী কর্মসূচি পালন করা হয় যা ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময়কাল থেকেও অনেক বেশী ছিল। এর মূলে ছিল, বুশ কিংবা ব্লেয়ার এদের কেউই সমাজের কাছে একটি কারণ দর্শাতে পারেনি যার জন্য ইরাকে সৈন্য পাঠাতে হয়েছিল। ইরাকের ভান্ডারে গণবিধ্বংসী রাসায়নিক অস্ত্রের মজুত থাকার কথা তা শুধু হোয়াইট হাউসের কর্তাদের মুখের বুলিতেই সীমাবদ্ধ ছিলো। তাছাড়া ইরাক থেকে নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের আগেই সরিয়ে নেন বুশ ও ব্লেয়ার যা যুদ্ধ শুরু হওয়ায় নিশ্চিত সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে। সত্য হলেও, ইরাকে হামলা করার পরেও কোন অস্ত্রই খুঁজে পাওয়া যায় নি দেশটিতে। আর এখন ১০ বছর পরে ব্রিটেনের সাংবাদিকরা বলছে, দুই দেশের সাবেক নেতাদের ভুলের জন্য দায়ী গোয়োন্দা বাহিনীর কর্মকর্তারা।

যদিও বিশেষজ্ঞরা এ ব্যাখ্যা বিশ্বাস করেন নি। আন্তর্জাতিক বিষয়ক রুশ পরিষদের সভাপতি আন্দ্রেই কারতুনোভ বলেন, “গোয়েন্দারা কখনোই রাজনীতির ঘটনার বাইরে নয়। মনে করি, মাঠ পর্যায়ে কর্মরত গোয়োন্দাদের পেশাগত দায়িত্ব নিয়ে সন্দেহ করা সঠিক বিবেচনাপূর্ন নয়। তাঁরা যে তথ্য পেয়েছেন তা এক অর্থে ঠিক ছিল, কিন্তু আমলাতন্ত্র প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসা ওই তথ্যের পরিবর্তন ঘটে। চুড়ান্ত পর্যায়ে যা ঘটে তা সমসাময়িক চিত্র নয় যা রাজনীতিবীদরা দেখতে চেয়েছিলেন।“

আজকের দিনে পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো ইরাক যুদ্ধ নিয়ে অনেকটাই আটকে পড়েছে। ইরাক যুদ্ধের পক্ষ হয়ে গণমাধ্যমের প্রতিবেদনও তাদের সাহায্য করতে পারবে না। পশ্চিমা দেশগুলোর সৈন্যরা ৯০ দশকের শুরু থেকেই আকাশপথে ইরাকের প্রাকৃতিক সম্পদের আধার উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলীয় প্রদেশের নজরদারী করেছিল। ওই সময়ই যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ইরাকী আর্মিকে লক্ষ্য করে হামলা করেছিল যা হয়েছিল দেশের অভ্যন্তরে সংকট সৃষ্টির প্রচেষ্টায় এবং দেশটির তেল সমৃদ্ধ অঞ্চলে নিজেদের কর্তৃত্ব নেওয়ায়।

এখন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জন্য একই পটচিত্র তৈরী করছে। তারা জোরপূর্বক চেষ্টা করছে ইরানে পারমানবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞরা আস্থার সাথেই বলছেন যে, ইরানে পারমানবিক অস্ত্র নেই এবং আগামী নিকট ভবিষ্যতেও তা থাকার সম্ভাবনা নেই। ইরাক যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য সংকটের চুড়ান্ত সমীকরণ শেষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, এ সব দেশ যুক্তরাষ্ট্র অথবা ইউরোপ কারো জন্যই হুঁমকির নয়। পশ্চিমারা নিজেরাই সমস্যা সৃষ্টি করেছে যাতে করে ওই অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করা যায়। আর এই প্রচেষ্টা এখনো চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কেন ১০ বছর আগের ইরাক যুদ্ধের ওপর তৈরী করা প্রতিবেদন এখন প্রকাশ করার প্রয়োজন মনে করলেন ব্রিটেনের সাংবাদিকরা।