ব্রিকস গোষ্ঠীর শীর্ষ সম্মেলন, যা হতে চলেছে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে, তা সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য অংশগ্রহণকারী দেশ গুলির অবস্থান স্বচ্ছ করতে পারে. তারই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অপেক্ষা করা যেতে পারে ব্রিকস গোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ ব্যাঙ্ক গঠনের খবর. এই বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি মিনিস্টার সের্গেই রিবকভ “রেডিও রাশিয়া” ও টেলিভিশন চ্যানেল “রাশিয়া টুডেকে” এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন.

ব্রিকস গোষ্ঠীতে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের পাঁচটি সবচেয়ে দ্রুত উন্নতিশীল বৃহত্ অর্থনীতি – ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা. দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের একটি প্রধান বিষয় হতে চলেছে সিরিয়ার বিরোধ. এই শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে, পরিস্থিতি এই দেশে আবারও তীক্ষ্ণ হয়েছে.

ব্রিকস গোষ্ঠীর সমস্ত সদস্যই বিশ্বাস করে যে, আন্তর্সিরিয়া আলোচনা এখনও সম্ভব, এই কথাই উল্লেখ করে রিবকভ বলেছেন:

“দামাস্কাসের প্রশাসনকে সমর্থন করা, অন্তত পক্ষে রাশিয়ার জন্য প্রশ্ন হয়ে নেই. আমরা আসাদের মামলায় উকিল নই. আমরা বিশ্বাস করি যে, এখনও আন্তর্সিরিয়া আলোচনার জন্য মঞ্চ তৈরী করায় আসা যেতে পারে, শান্তি স্থাপন ধরনের কিছু একটা – সম্ভব. এর কোনও বিকল্প নেই. অন্যান্য ব্রিকস দেশ গুলিও এই ধারণা পোষণ করে. আমি বিশ্বাস করি, ডারবান অনেক ক্ষেত্রেই সেই বিষয় স্বচ্ছ করে দেবে যে, আমাদের আস্থা অনুযায়ী ঐক্যবদ্ধ ও স্পষ্ট কি বার্তা সমস্যা সমাধানের জন্য কি করা উচিত সেই ব্যাপারে দেওয়া হবে”.

ব্রিকসের দুই অংশীদার – রাশিয়া ও চিন – রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ. সিরিয়ার নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে তাদের অবস্থান ঐক্যবদ্ধ. মস্কো ও বেজিং রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পশ্চিমের খসড়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে তাদের ভেটো দেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করেছে.

গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের নব নির্বাচিত সভাপতি হিসাবে বর্তমানে নিজের প্রথম বিদেশ সফর রাশিয়াতে করছেন শী জিনপিন. মস্কো এটাকে মূল্যায়ণ করেছে এক প্রতীকী পদক্ষেপ বলেই, রিবকভ তাই বলেছেন:

“আমরা আমাদের সম্পর্ক উন্নত করতে চাই, আর আমরা খুবই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি যে, আমরা কি করতে পারি, আর কি করতে চাই. ব্রিকস এই যোগাযোগের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা পালন করে. এটাও ঠিক যে, আমাদের মধ্যে মতের অমিল রয়েছে. কিন্তু আমাদের সম্পর্ক পরিণত হওয়াতে আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে ভবিষ্যতের দিকে নজর দেওয়ার, এটা বুঝে গিয়ে যে, আর কিছুই এই সম্পর্ককে পিছিয়ে নিয়ে যেতে পারে না”.

ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা ব্রিকসের মঞ্চকে দেখেছে অংশগ্রহণকারী দেশ গুলির মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের মঞ্চ হিসাবে. একই সময়ে পশ্চিমে একটা মত তৈরী হয়েছে যে, রাশিয়া ও চিন ব্রিকস গোষ্ঠীকে চেষ্টা করছে একটা শক্তিতে পরিণত করতে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের অবস্থানকে ধ্বসিয়ে দিতে পারে. এই অবস্থান বাস্তব পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে না বলে উল্লেখ করে রিবকভ যোগ করেছেন:

“আমরা নিজেদের কারও বিরুদ্ধেই খাড়া করতে চাইছি না. আমরা বলছি এই গোষ্ঠীর মর্যাদা ও প্রভাব ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়ার কথা, আর এটা কোন সন্দেহের উদ্রেক করে না. এটার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে আমাদের নিজেদের স্বার্থকেই এগিয়ে দেওয়া যেতে পারে”.

একটি সর্বাধিক আলোচিত উদ্যোগ হয়েছে – ব্রিকস গোষ্ঠীর ঐক্যবদ্ধ উন্নয়ন ব্যাঙ্ক তৈরী. তা তৈরী হওয়াতে আর দেরী হবে না, এই ভরসা দিয়ে রিবকভ বলেছেন:

“আমরা এখন ব্যাঙ্ক তৈরী করা নিয়ে সরকারি ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণের মুখে. এই কাঠামো নতুন আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউটে পরিণত হবে. আমরা চাইব যাতে এই ব্যাঙ্ক বিদেশী বিনিয়োগের কারবারে, ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে, বিনিয়োগ তহবিল তৈরীর ক্ষেত্রে, প্রাথমিক ভাবে ব্রিকস দেশ গুলিতেই পরিকাঠামো তৈরীর বিষয়ে সহায়তা করবে”.

বিশ্বের অর্থনৈতিক সঙ্কটের প্রতিধ্বনির কথা বিচার করে ও ইউরো অঞ্চলের চলতেই থাকা সমস্যার কথা ভেবে, ব্রিকস ব্যাঙ্ক তৈরী হওয়া বাজার গুলিতে এক ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করবে. সের্গেই রিবকভের মতে, এই সিদ্ধান্তের ডারবান থেকে অপেক্ষা, করাই যেতে পারে.