২২শে মার্চ – বিশ্ব জল সম্পদ দিবস. ২০ বছর আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভা এই দিনটিকে ঘোষণা করেছিল. এই ভাবেই আন্তর্জাতিক ক্যালেণ্ডারে সেই বিশ্ব জোড়া সমস্যার কথা বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছিল, যা যৌথ প্রয়াসে সমাধান করতে হবে. আধুনিক বিশ্বে এই গ্রহের অন্যান্য রসদের চেয়ে জলের বেশী করেই চাহিদা রয়েছে, কিন্তু আজই তা মেটানো যাচ্ছে না.

আমাদের গ্রহ বাস্তবিক ভাবেই জল দিয়ে ধোয়া. কিন্তু তার মাত্র এক শতাংশই মানবসমাজের পক্ষে ব্যবহার যোগ্য. মিষ্ট জলের খামতি আজই লক্ষ্য করা যাচ্ছে. যেমন, বিশ্বের একটি বৃহত্তম নদী – চিনের হুয়ান-হে বছরে মাত্র তিন সপ্তাহ সমুদ্রে এসে মেলে – যখন প্লাবন হয়. আর বাকী সময় চিনের লোকরা এই নদীর সমস্ত জলই ব্যবহার করে ফেলে. এমন সব জায়গা রয়েছে, যেখানে পরিস্থিতি আরও খারাপ, এই কথা উল্লেখ করে মিষ্ট জলের পরিবেশ সংরক্ষণ ব্যবস্থা সংরক্ষণ ও স্থিতিশীল জল শক্তি ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিশ্ব বন্য প্রকৃতি তহবিলের প্রকল্প যোগাযোগ কোঅর্ডিনেটর অক্সানা নিকিতিনা বলেছেন:

“বিশ্বের প্রত্যেক নবম ব্যক্তিরই বর্তমানে টাটকা ও পরিষ্কার জল পাওয়ার উপায় নেই, আর তাই প্রতি বছরে প্রায় ৩৫ লক্ষ মানুষ জল সম্পদের সঙ্গে যুক্ত সংক্রমণ ও রোগের কারণে মারা যাচ্ছেন. এটা প্রধান সমস্যা. মূল লক্ষ্য – জল সম্পদকে রক্ষা করা ও তা ভারসাম্য রেখে ব্যবহার করা. এই বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট কাজ – জনসাধারণের তথ্য সমৃদ্ধি উন্নতি করা ও তা বোঝানো যে, জল একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ. যদি তা বেহিসাবী ভাবে খরচ করা হয়, তবে পরবর্তী কালে এই সম্পদ বিপুল পরিমানেই পাওয়া না যেতে পারে”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তত্কালীন সিদ্ধান্তে বিশে, করে মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল সেই বিষয়ে যে, জল সম্পদের কোনও সুনির্দিষ্ট সীমানা নেই. সীমান্ত পার হয়ে যাওয়া জল জমা করার জায়গা গুলি বিশ্বের পৃষ্ঠের শতকরা ৪৬ ভাগ জায়গা নিয়ে রয়েছে ও তা ১৮৪টি দেশের সঙ্গে সম্বন্ধ রাখে. এটা খুব একটা কম সমস্যার উদ্রেক করে না, যা সমাধান করা সম্ভব শুধু আন্তর্জাতিক স্তরে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে, এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের জল বিজ্ঞান দপ্তরের প্রধান নিকোলাই আলেক্সিয়েভস্কি বলেছেন:

“আন্তর্জাতিক আইন এখনও সম্পূর্ণ ভাবে সমস্ত প্রশ্নের সমাধান করে না ও আমাদের সেই উত্তরও দেয় না যে, কি ভাবে আমরা সকলে মিলে এই সব নদী গুলির অববাহিকা ও হ্রদ গুলির ক্ষেত্রে ব্যবহার করব. আমরা কিভাবে মাটির নীচের জল ব্যবহার করব, যা কোন রাষ্ট্রের সীমান্ত জানে না. ইচ্ছা হয় বিশ্বাস করতে যে, এই বছর জল সম্পদ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে সক্রিয় বছরের প্রতীক হবে. রাজনীতিবিদ, কূটনীতিবিদেরা সেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন, যা সমস্ত দেশের জন্যই লাভজনক হবে, যারা আজ একে অপরের পাশে রয়েছে”.

২০১৩ সালকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সভা জল সম্পদের ক্ষেত্রে সহযোগিতার বছর বলে ঘোষণা করেছে. উল্লেখ করা হয়েছে যে, তা বিশ্বের শান্তিপূর্ণ ও স্থিতিশীল বিকাশের ভিত্তি স্থাপন করবে, নিঃস্বতার পরিসরকে ছোট করে আনবে, বেশ কিছু অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরী করে দেবে, জল সম্পদকেই সংরক্ষণে সাহায্য করবে, আমাদের পরিবেশ সংরক্ষণ করবে ও বিশ্বে শান্তিকে মজবুত করবে.