করাচীতে অবস্থিত “পাকিস্তান স্টীল মিলসে”র আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারনের সম্মতিপত্র চলতি বছরেই স্বাক্ষর করা যাবে বলে পাকিস্তান ও রাশিয়া আশা করছে – বলেছেন রাশিয়ায় পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আলমগীর বাবর আমাদের সংবাদদাতা নাতালিয়া বেন্যুখকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে পাকিস্তানের জাতীয় দিবস পালনের ঠিক প্রাক্কালে.

ইস্পাত শিল্প পাকিস্তানের জন্য রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার অন্যতম মুখ্য ক্ষেত্র – বলছেন রাষ্ট্রদূত. তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, যে পাকিস্তানের তথা গোটা দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ইস্পাত কারখানাটি করাচীতে নির্মাণ করা হয়েছিল সত্তরের দশকে রাশিয়ার কারিগরী সহযোগিতায়.-

রাষ্ট্রদূত আলমগীর বাবর বলছেন – এই মুহুর্তে পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে করাচীর “পাকিস্তান স্টীল মিলসে”র আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারনের বিষয়ে স্মারকপত্র স্বাক্ষরিত আছে. এই বড়মাপের কাজ সম্পন্ন করা হবে দুই পর্য়ায়ে. প্রথম পর্যায়ে কারখানাটির উত্পাদনক্ষমতা দশ লক্ষ টন থেকে বাড়িয়ে পনেরো লক্ষ টন করা হবে. দ্বিতীয় পর্যায়ে উত্পাদন ক্ষমতা দ্বিগুণ করে ত্রিশ লক্ষ টনে পৌঁছে দেওয়া হবে. প্রকল্পের মেয়াদ হবে কয়েক বছর এবং ৪০-৫০ কোটি ডলার এর পেছনে ব্যয় করা হবে. প্রকল্পটি নিয়ে চূড়ান্ত সম্মতিপত্র এই বছরেই স্বাক্ষরিত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে.

পাক রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করছেন, যে পাকিস্তানের ভাবী উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ আর একটি ক্ষেত্র হচ্ছে জ্বালানী শক্তি এবং আমরা জ্বালানী শক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিমুখে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা গভীরতর করতে আগ্রহী.-

বর্তমানে পাকিস্তানের বিদ্যুতকেন্দ্রগুলি মুলতঃ পেট্রোলে চলে – বলছেন আলমগীর বাবর. ওগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল বিগত দশকগুলিতে সোভিয়েত বিশেষজ্ঞদের সহায়তায়. আমরা ঐগুলির আধুনিকীকরণ করে উত্পাদন ক্ষমতা অনেক বাড়াতে চাই. পাকিস্থানের ভূগর্ভে যেহেতু প্রচুর পরিমাণে পাথুরে কয়লা মজুত আছে, তাই আমরা তাপ বিদ্যুতকেন্দ্রগুলিকে কয়লা দিয়ে চালাতে চাই, যা আমাদের পক্ষে লাভজনক.

পাক রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেছেন, যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রকল্পগুলি নিয়ে কাজ করছে দ্বি-পক্ষীয় আন্তঃসরকারী কমিশন. তার দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছিল গত বছরের শেষে ইসলামাবাদে. সেখানে জ্বালানী শক্তির বিষয়ে বিশেষ দল গড়া হয়েছে. এই মুহুর্তে আমাদের দুই দেশের বিশেষজ্ঞরা পাকিস্তানের বিদ্যুতকেন্দ্রগুলির আধুনিকীকরণের খুঁটিনাটি নিয়ে আলোচনা করছেন.

জ্বালানী শক্তির ক্ষেত্রে ও করাচীর ইস্পাত কারখানার আধুনিকীকরণ কেবলমাত্র সরকারী স্তরে হবে. কিন্তু পারস্পরিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রকৃত বিকাশ সম্ভবপর শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পুঁজির বিনিয়োগ হলে, তবেই. মস্কোয় নতুন পাক রাষ্ট্রদূতের অন্যতম প্রথম সাক্ষাত্কার ছিল রাশিয়া-পাকিস্তান বাণিজ্যসভার সদস্যদের সঙ্গে. –

গত কয়েক বছর পাকিস্তান ও রাশিয়ার ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ সক্রিয়তর হয়ে উঠেছে – উল্লেখ করছেন আলমগীর বাবর. সম্প্রতি করাচীতে অনুষ্ঠিত এক্সপোয় গেছিল রাশিয়া থেকে ব্যবসায়ীদের বড় প্রতিনিধিদল. এটা মস্কোয় অনুষ্ঠিতব্য পাকিস্তানের পণ্যদ্রব্যের ও তারপরে করাচীতে অনুষ্ঠিতব্য রুশী প্রদর্শনীর সাফল্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে – বলছেন তিনি.

পাক রাষ্ট্রদূতের মতে, পাকিস্তান ও রাশিয়ার মধ্যে পণ্য আবর্তন বাড়ানো ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের সম্প্রসারণের দিকে বড় পদক্ষেপ হবে সরাসরি আন্তঃব্যাঙ্ক চ্যানেল খোলা. আলমগীর বাবর বলছেন, যে রাশিয়ার ব্যাঙ্কগুলি পাকিস্তানে শাখা খুলুক, তা তিনি চান এবং মস্কোয় কোনো একটি পাকিস্তানী ব্যাঙ্কের শাখা খোলার ধারনাকে মদত দিতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তৈরী.