আলেপ্পো প্রদেশের কাছে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা নিয়ে তদন্ত করার জন্য সিরিয়ার তরফ থেকে আহ্বানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনের দ্রুত প্রতিক্রিয়া আশা করা হয়েছে মস্কো থেকে. এই বিষয়ে নিজের টুইটারের মাইক্রো ব্লগে লিখেছেন রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী গেন্নাদি গাতিলভ. তিনি আহ্বান করেছেন পেশাদার ও নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে তদন্ত পরিষদ গঠন করার, যারা বাস্তব সিদ্ধান্ত দিতে সক্ষম.

দামাস্কাস রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সম্পাদকের কাছে ১৯শে মার্চের ঘটনার জন্য স্বাধীন কুশলী পরিষদ গঠনের আহ্বান করেছে. এই আহ্বানে বলা হয়েছে যে, নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর তরফ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে.

একই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বুধবার গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কূটনীতিবিদেরা শুধু দামাস্কাসের আহ্বান নিয়েই আলোচনা না করে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের বিরোধীদের আহ্বানের আলোচনাও করতে বলেছেন. তারা জোর দিয়ে বলছে যে, ১৯শে মার্চ তারা দুটি রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা লক্ষ্য করতে পেরেছে. একটি আলেপ্পোর কাছে, অন্যটি দামাস্কাস এলাকায়. তাদের বক্তব্য অনুযায়ী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে সরকারি ফৌজ.

রাশিয়া আসা করেছে কোন রকমের পক্ষপাতিত্ব ছাড়া, বাস্তব ও গভীর মনোযোগ দিয়ে এই সব ঘটনার তদন্ত করা হবে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন. তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সম্পাদক বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এক উচ্চ শিক্ষিত পেশাদার দল তৈরী করবেন ও তাদের মধ্যে রাশিয়ার লোকরাও থাকবে.

কূটনীতিবিদ উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ে পরিস্থিতি ইরাকের সঙ্গে ইতিহাসকে মনে পড়িয়ে দেয়. এই দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অনুপ্রবেশ সমর্থন করা হয়েছিল সাদ্দাম হুসেনের কাছে এই ধরনের অস্ত্র রয়েছে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে. এই পরিস্থিতি আবারও হতে পারে বলে সম্ভাবনা উড়িয়ে না দিয়ে রাজনীতিবিদ লিওনিদ সাভিন বলেছেন:

“ইউরোপে ন্যাটো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর প্রধান কম্যান্ডার জেমস স্তাভরিডিস কয়েকদিন আগে ঘোষণা করেছিলেন যে, সিরিয়াতে অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা তৈরী করা হচ্ছে. এটা একটা পরিকল্পনা নয়, এখানে বেশ কয়েকটা পরিকল্পনা রয়েছে. কিন্তু এটা হবে শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত থাকলে ও ন্যাটো জোটের সমস্ত অংশীদারদের সমর্থন পাওয়া গেলে”.

তা সে যাই হোক না কেন, সামনেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে সিরিয়াকে জুড়ে খুবই বড় রকমের উত্তেজনা বৃদ্ধি. এই বিষয়ে স্থির বিশ্বাস নিয়ে কূটনৈতিক অ্যাকাডেমীর আন্তর্জাতিক সমস্যা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ওলেগ পেরেসীপকিন বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, এটা খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি পাল্টানো. আমার মনে হচ্ছে যে, এখন সব কিছুই করা দরকার, যাতে সামরিক অনুপ্রবেশ রোধ করা যায়. কারণ এটা সেই সব সমস্যার কোনও সমাধান করবে না, যা সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ভিত্তিতে ছিল, বরং আরও বেশী করেই পরিস্থিতিকে উত্তেজিত করবে ও সিরিয়ার জনগনের জন্যই ক্ষতিকর হবে”.

বিভিন্ন দেশের লোকদেরও ১৯শে মার্চে সিরিয়াতে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে সমস্ত খুঁটিনাটি সত্য জানা দরকার. কারণ এই ঘটনার দ্রুত আন্তর্জাতিক তদন্ত করার জন্য সমস্ত রকমের পরিস্থিতি তৈরী করে দেওয়া দরকার.