আগামী ২৬-২৭ মার্চ ব্রিকস গোষ্ঠীর পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলন সম্পূর্ণ অর্থেই নতুন সর্ব বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জোট গঠনের শুরু হতে পারে. তার ওপরে বিশ্বের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দাবী করেছে জরুরী ভিত্তিক নবীকরণের.

ব্রিকস সম্মেলন, যাতে অংশ নিতে চলেছেন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধানরা, তা হবে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান শহরে. এখানে প্রতিনিধিরা বিশ্ব অর্থনীতির নানা রকমের ধরন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার রূপ নিয়ে আলোচনা করবেন. কিন্তু যেমন আশা করা হয়েছে যে, এই শীর্ষ সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয় হবে এই গোষ্ঠীর, অর্থাত্ পাঁচটি বৃহত্ উন্নতিশীল দেশের এক সম্পূর্ণ রকমের আন্তর্জাতিক চরিত্র বিশিষ্ট কাঠামো হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা.

বিশ্বের বর্তমানের পরিস্থিতি, তার মধ্যে সাইপ্রাস ঘিরে সদ্য হওয়া ঘটনা, প্রমাণ করে দেয় যে, আগের বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা সংশোধনের খুবই প্রয়োজন বোধ করছে আর তাই রাশিয়া চায় ব্রিকস গোষ্ঠীকে আলোচনার মঞ্চ থেকে পরিবর্তন করে এক সংস্থায় পরিণত করতে, এই কথাই রেডিও রাশিয়াকে ব্রিকস সংক্রান্ত গবেষণার জন্য জাতীয় কমিটির সদস্য ইভগেনি আস্তাখভ উল্লেখ করে বলেছেন:

“কবে সাত, আট বা কুড়িটি বৃহত্ অর্থনীতির দেশ কি সিদ্ধান্ত নেবে তার ওপরে অপেক্ষা না করে এখনই উদ্যোগ নেওয়া ও তৈরী করা উচিত্ ব্রিকস সংস্থা গঠনের. এখন শুধু কথা চলছে যে, হেমন্তে উত্তর ইউরোপ ও দক্ষিণ ইউরোপের ইউরো মুদ্রা আলাদা হয়ে যাবে. এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত না হলেও কথাবার্তা ইতিমধ্যেই চলছে. তাহলে কি আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছাপার যন্ত্রের উপরে ভরসা করে বসে থাকবো, যারা তা স্রেফ নিজেদের স্বার্থে তা চালু করে? আমাদের উচিত হবে এখনই সেই বিষয় নিয়ে ভাবার, যে, অন্তত পক্ষে এই পর্যায়ে ব্রিকস দেশ গুলির মধ্যে বিনিময় ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করা. আর এবারে কথা থেকে কাজ আসতে হবে. এতেই এই শীর্ষ সম্মেলনের অর্থ”.

একই সময়ে প্রত্যেক দেশই আলাদা করে ব্রিকসের আওতায় নিজেদের লক্ষ্যের দিকে এগোতে চাইছে. রাশিয়া, যেমন চায় ইভগেনি আস্তাখভের মতে, পররাষ্ট্র অর্থনীতির ক্ষেত্রে ব্রিকসের সহযোগী দেশ গুলির সহায়তায় নতুন দিকের বিকাশ ঘটাতে ও নিজেদের অবস্থানকে দৃঢ় করতে. বেশ কিছু বিশেষজ্ঞরে মতে, নিজেদের দিক থেকে যেমন চিন চায় ব্রিকসের নেতৃত্ব পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে. আর ভারত ও ব্রাজিল কম করে হলেও চায় রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা পেয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হতে.

কিন্তু তাও ব্রিকস গোষ্ঠীর সহযোগীদের সম্মিলিত স্বার্থের ক্ষেত্র যথেষ্ট প্রসারিত. পরিকল্পনা করা হয়েছে ব্রিকসের নতুন ব্যবসায়ী সভা তৈরী করার, পাঁচটি দেশের জাতীয় উন্নয়ন ব্যাঙ্কের মধ্যে ইতিমধ্যেই বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতায় কাজ করা নিয়ে সমঝোতা স্বাক্ষর হয়েছে. এখন সামনে রয়েছে ব্রিকসের উন্নয়ন ব্যাঙ্ক গঠন করা, আর সম্মিলিত ভাবে সঞ্চয়ের মুদ্রা তহবিল তৈরী করা. তাছাড়া, ব্রিকসের মধ্যে ঠিক করা হয়েছে এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন ও বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র গুলির সভা তৈরী করার. এই সভার কাজ হবে রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করা ও ব্রিকসের জন্য দীর্ঘস্থায়ী স্ট্র্যাটেজি তৈরী করা.

কিন্তু ব্রিকসের কাঠামো বিকাশের জন্য প্রাথমিক ভাবে প্রয়োজন পড়বে স্থায়ী যোগাযোগের সংস্থার. এই অর্থে খুবই সম্ভাবনাময় মনে হয়েছে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তথাকথিত ভার্চুয়াল সেক্রেটারিয়েট তৈরী করা. ডারবান শহরের সম্মেলনে বিশ্ব জোড়া কম্পিউটার ব্যবস্থার প্রকল্প নেওয়া হবে, যার ভিত্তি হবে মহাদেশ পার হওয়া ফাইবার অপটিক্স কেবল, যা ব্রিকসের অর্থনৈতিক কেন্দ্র গুলিকে জুড়ে দেবে.

প্রসঙ্গতঃ, যেমন মনে করা হয়েছে যে, এই সম্মেলনের অংশগ্রহণকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ – মূল বিষয় গুলি ছেড়ে দ্বিপাক্ষিক অসমাধিত সমস্যা গুলি নিয়ে আলোচনায় মত্ত হয়ে না পড়া. আর মুখ্য হল যে পাঁচটির মধ্যে সমস্ত রাষ্ট্রই ব্রিকসের উপরে ভরসা করছে ও এবারে তার জন্য বাজীও রয়েছে খুবই উংছু ধরনের.