সিরিয়াতে বিরোধের দুই বছরের মধ্যে এই প্রথমবার ব্যবহৃত হয়েছে রাসায়নিক অস্ত্র. আলেপ্পো প্রদেশে রাসায়নিক বোমা সহ একটি রকেট ফেটেছে. এই ঘটনার জন্য দায়িত্ব প্রথম দিকে একটি শান্তিতে অনিচ্ছুক জঙ্গী গোষ্ঠী নিজেদের উপরে নিলেও কিন্তু প্রায় তত্ক্ষণাত নিজেদের বক্তব্য অস্বীকার করেছে আর সরকারি ফৌজকে দোষ দিতে শুরু করেছে.

পরে ঠিক করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন ৩১ জন মানুষ, তাঁদের মধ্যে ১৬ জন ফৌজী সেনা. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক বার্তায় সিরিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, একটি রাসায়নিক অস্ত্র সহ রকেট খান-এল-আসাল শহরের উপকণ্ঠে পড়েছে. রকেট বিস্ফোরিত হয়েছে সামরিক চৌকীর থেকে সামান্য দূরে. এর কাছের বসতি এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল খুবই বিকট ধোঁয়া. প্রত্যক্ষদর্শীরা উল্লেখ করেছেন যে, এই রকেট আঘাতের এলাকায় হাওয়াতে পাওয়া গিয়েছে ক্লোরিনের গন্ধ ও লোকে শ্বাসকষ্ট অনুভব করেছেন. সমস্ত ক্ষতিগ্রস্তদের এই এলাকার সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চলের হাসপাতালে আনা হয়েছে. তাদের মধ্যে অনেকেই – সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন.

সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রী ওমরান আজ-জৌবি এই অপরাধের জন্য অভিযোগ করেছেন জঙ্গীদের বিদেশী স্পনসরদের. সিরিয়ার বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, এই রাসায়নিক অস্ত্র সিরিয়াতে লিবিয়া থেকে আনা হয়ে থাকতে পারে. তারই মধ্যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্রী ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের দিক থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা বিশ্বাস করেন না.

বিরোধী পক্ষের কিন্তু এটা করার জন্য বাস্তব কারণ ছিল. উল্টো বরং দামাস্কাসের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কোনও কারণই ছিল না. এই বিষয়ে ঘোষণা করে আন্তর্জাতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ লিওনিদ গুসেভ “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন:

“তাদের পক্ষে একেবারেই লাভজনক নয় রাসায়নিক বা অন্য কোনও রকমের গণহত্যার অস্ত্র ব্যবহার করা. তাদের উপরে সমস্ত আন্তর্জাতিক সংস্থার তরফ থেকে গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখা হচ্ছে, পশ্চিম থেকেও. বাশার আসাদ বুঝতে পারেন যে, যদি তিনি এটা করেন, তবে তাঁর এটা থেকে খুবই খারাপ হতে পারে. তাই আমি মনে করি না যে, তাঁর মন্ত্রীসভা এই পথে যেতে পারে”.

পশ্চিমের পক্ষ থেকে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারকে সিরিয়াতে অনুপ্রবেশের বিষয়ে ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করে যেতে পারে. এই ধরনের মত “রেডিও রাশিয়াকে” জানিয়েছেন বিশ্ব সমরাস্ত্র বাণিজ্য বিশ্লেষণ কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইগর করোতচেঙ্কো, তিনি বলেছেন:

“এই ধরনের ঘটনা পরম্পরা খুবই বাস্তব. এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ সরকারি লোকরা একাধিকবার ঘোষণা করেছেন যে, তারা সিরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগ করতেই পারেন, যদি সরকারি ফৌজের ভাণ্ডার থেকে রাসায়নিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ বিহীণ ভাবে প্রসারিত হতে থাকে. আর তারই সঙ্গে যদি দামাস্কাস জঙ্গীদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক অস্ত্র প্রয়োগ করে. তাই এই ধরনের অস্ত্র প্রয়োগ বিষয়ে বাস্তব ঘটনা, তা কারা ব্যবহার করেছে, না দেখেই সরাসরি দামাস্কাসের দোষ বলেই ধরা হবে. তাই সামরিক অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা বাতিল করা যায় না. রাসায়নিক অস্ত্র সংক্রান্ত ঘটনা – সিরিয়াতে পশ্চিমের তরফ থেকে সামরিক অনুপ্রবেশের জন্য খুবই বাস্তব কারণ”.

মস্কো জঙ্গীদের হাতে গণহত্যার অস্ত্র পৌঁছনোর জন্য খুবই “সিরিয়াস ভাবে উদ্বিগ্ন”. এই বিষয়ে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের মন্তব্যে বলা হয়েছে. বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে রাসায়নিক অস্ত্রের ব্যবহার সিরিয়ার সঙ্কটকে এক নতুন স্তরে পৌঁছে দিয়েছে, এই কথা বলা হয়েছে দলিলে.