0২০শে মার্চ বুধবার সিঙ্গাপুরের এক হাসপাতালে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের ইন্তেকাল করেছেন. ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন. তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর.

১৯২৯ সালের ৯ই মার্চ জিল্লুর রহমান বিখ্যাত এক আইনজীবীর ঘরে জন্মেছিলেন. ১৯৫২ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তানে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা হিসাবে মর্যাদা দানের জন্য ছাত্র আন্দোলনের এক অন্যতম নেতায় পরিণত হয়েছিলেন (১৯৭১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের এই নামই ছিল), যেখানে একমাত্র রাষ্ট্র ভাষা ছিল উর্দু. ১৯৫৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠনের একজন সহ সভাপতি হিসাবে নির্বাচন করা হয়েছিল. জিল্লুর রহমান ১৯৭০ সালে তত্কালীন অখণ্ডিত পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে বাংলার জনগণের স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামে রত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রার্থী হয়ে সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়ে যুবক রাজনীতিবিদ ও দেশ প্রেমী খুবই সক্রিয়ভাবে অস্বীকৃত ও নির্বাসিত মন্ত্রীসভার কাজে অংশ নিয়েছিলেন. যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে ও স্বাধীন বাংলাদেশ প্রজাতন্ত্র ঘোষিত হওয়ার পরে তিনি আওয়ামী লীগের জেনারেল সেক্রেটারি পদে নির্বাচিত হন ও ১৯৭৩ সালের সারা দেশ জোড়া নির্বাচনের সময়ে পার্লামেন্টের সাংসদ সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হয়েছিলেন. তিনি দেশের সংবিধান তৈরী করার কাজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন. বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার পরে জিল্লুর রহমানকে সামরিক অভ্যুত্থানের নেতারা গ্রেপ্তার করে ও তাঁকে চার বছর কারাবাস করতে হয়েছিল.

১৯৯৬ থেকে ২০০১ সালের আওয়ামী লীগের ক্ষমতার থাকার সময়ে জিল্লুর রহমান নানা রকমের মন্ত্রী পর্যায়ের পদে ছিলেন. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করার পরে ২০০৭ সালে তিনি আওয়ামী লীগ দলে নেত্রীর কর্মভার সম্পন্ন করতেন, দলের সমস্ত রকমের কাজকর্মের ক্ষেত্রে যোগাযোগ বজায় রেখে.

২০০৮ সালের ২৯শে ডিসেম্বর দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরে শেখ হাসিনা আবার প্রধানমন্ত্রী হন. আর ২০০৯ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসাবে জিল্লুর রহমান নিজে শপথ গ্রহণ করেন. তিনি ছিলেন এই পদের জন্য অন্যতম প্রার্থী.

জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান নিজেও ছিলেন এক অত্যন্ত উজ্জ্বল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তিনি আওয়ামী লীগের মহিলা সংগঠনের নেতৃত্ব দিয়েছেন. ২০০৪ সালে ঢাকা শহরে আওয়ামী লীগের সমাবেশের সময়ে হরকত উল জেহাদ আল ইসলামী দলের এক সন্ত্রাসবাদীর ছোঁড়া গ্রেনেডের আঘাতে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল.

0দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ইন্তেকাল করায় বাংলাদেশে তিন দিনের জন্য রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে. দেশের সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব আপাততঃ পালন করবেন পার্লামেন্টের স্পীকার আবদুল হামিদ.