সারা বিশ্বে বরাবর চিকিত্সকের পেশা ছিল সম্মানজনক. আর তাই রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় ফ্যাকাল্টি হচ্ছে – মেডিক্যাল. ‘রেডিও রাশিয়া’র সংবাদদাতা ইলেনা গাইদুক কয়েকজন ভাবী চিকিত্সকের সাথে আলাপ করেছেন, যাদের মধ্যে কেউ কেউ হয়তো ভবিষ্যতে চিকিত্সাবিদ্যার পন্ডিতে পরিণত হবে.

শুধু রাশিয়ায় নয়, সারা বিশ্বেই রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকদের সমাদর করা হয়. আজকের দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রীধারী ৬৪০০ ডাক্তার পৃথিবীর ১১০টি দেশে কর্মরত. বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ান ও প্র্যাকটিক্যাল করান বিশ্ববন্দিত বিজ্ঞানীরা. এখানে ছাত্রছাত্রীরা মানবদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করে.

মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টির পঞ্চম বর্ষের ছাত্র নেপালের ইন্দ্র শেরেস্থা তার পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সম্পর্কে গল্প করছে.-

আমার ছেলেবেলা থেকে চিকিত্সক হওয়ার স্বপ্ন ছিল. উচ্চমাধ্যমিক স্কুল থেকে পাশ করার পরে আমি নেপালস্থিত রুশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে প্রবেশিকা পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হয়ে রাশিয়ার সরকারের পয়সায় ডাক্তারি পড়ার সুযোগ পাই. আমি পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ করারও সুযোগ পেয়েছি. প্রথম বর্ষ থেকেই আমি নেপালের ছাত্রপরিষদে কাজ করেছি ও আজ তার উপ-সভাপতি হয়েছি. দক্ষিণ এশিয়ার বহু ছাত্রছাত্রী আমাদের ফ্যাকাল্টিতে পড়ে. আমাদের ফ্যাকাল্টিতে ব্যাচেলর্স ডিগ্রী পাওয়ার পরে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হয়, তারপরে ২ বছর কাজ করার পরেই শুধুমাত্র নিজস্ব ভাবী পেশা বাছাই করা যায়. আমি শিশু বিশেষজ্ঞ হতে চাই. পড়াশোনার কথা বলতে গেলে, প্রথম বছরটা সবচেয়ে কঠিন, বহু বিষয় থাকে বলে. প্রথম বর্ষের শেষে আমি প্র্যাক্টিক্যাল করেছিলাম হাসপাতালে, আর চতুর্থ বর্ষের শেষে প্র্যাক্টিক্যাল করেছিলাম আলাদা করে গায়নোকোলজি, থেরাপী ও সার্জারির উপর. বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের বিদেশের উচ্চ শিক্ষায়তনেও প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ দেয়. এইভাবে তাদের দু-দুটি ডিগ্রী পাওয়ার সুযোগ থাকে.

নিজের সম্পর্কে বলতে গেলে বলবো, যে আমি খেলাধুলার ভক্ত. বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কোনো খেলার চর্চা করার সুযোগ আছে. আমি ফুটবল ভালোবাসি ও সবুজ ঘাসের মাঠে ফুটবল খেলি. টেনিসও খেলি ইনডোরে. প্রথম বর্ষে আমি মেতেছিলাম দাবা নিয়ে. আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব টীম আছে. আমি পড়াশোনা শেষ করে দেশে ফিরবো এবং সেখানে কাজ করবো.

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মৈত্রী, পারস্পরিক সাহায্যের আবহাওয়া ছাত্রাবাসগুলিতেও বিদ্যমান. মাঝেমাঝে ক্লাস শেষ হওয়ার পরে বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাসে সম্মিলিত নৈশভোজের আয়োজন করে. তারা কিভাবে তাদের জাতীয় খাদ্য বানায়, তা দেখতে মজা লাগে. প্রত্যেকে চেষ্টা করে যথাসাধ্য মুন্সীয়ানা প্রদর্শন করার. আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে যা দেখেছি, তা তার নাম সার্থক করে – রুশী গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়.