সিরিয়ার “বৈপ্লবিক ও বিরোধী পক্ষের জাতীয় জোটের” এখন প্রধানমন্ত্রী উদ্ভব হয়েছে. এই পদে নির্বাচন করা হয়েছে হাসান হিট্টো নামের এক ৪৯ বছর বয়সের টেক্সাস রাজ্যের ম্যানেজারকে. হিট্টো দামাস্কাসে জন্মেছে ঠিকই, কিন্তু জীবনের প্রায় পুরোটাই কাটিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে. আবারে তাকে “অন্তর্বর্তীকালীণ মন্ত্রীসভা” গঠন করতে হবে, যারা সিরিয়ার শান্তি বিমুখ বিরোধী পক্ষের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে. বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, এটা খুবই কম সম্ভাব্য যে, ভবিষ্যতের ছায়া মন্ত্রীসভা দামাস্কাসের সঙ্গে কোন রকমের রাজনৈতিক আলোচনায় লিপ্ত হবে.

শিক্ষা অনুযায়ী হাসান হিট্টো – একজন কম্পিউটার প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ. বিগত দশ বছরের পুরো সময়টাই টেক্সাস রাজ্যের নানা টেলি যোগাযোগ কোম্পানীতে উচ্চ পদে কাজ করেছে. সেই রাজ্যেই একটি মুসলিম স্কুলও খুলেছে. পর্যবেক্ষকরা যেরকম উল্লেখ করেছেন যে, নিজের বক্তৃতায় হিট্টো মুসলিম ধর্মীয় কথাবার্তা ব্যবহার করে ঠিকই, কিন্তু এই সময়ে উপস্থিত শ্রোতাদের সঙ্গে কথা বলে আমেরিকার টেলিভিশনে দেখানো ধর্ম প্রচারকদের শৈলীতেই.

মনে করা হয়ে থাকে যে, হিট্টো যে মন্ত্রীসভা তৈরী করতে চলেছেন, তা জঙ্গীদের দখলে থাকা এলাকা গুলি সিরিয়াতে নিয়ন্ত্রণ করবে. কিন্তু তাদের ক্ষমতা সেখানের লড়াকু জঙ্গী কম্যাণ্ডাররা মেনে নেবে কিনা – সেটা বোঝা যাচ্ছে না. এমনকি সেই জাতীয় জোটেই হিট্টো প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়া অনেকেই আইন সঙ্গত বলে মেনে নিতে পারেন নি. তা সে যাই হোক না কেন, এই নির্বাচন গুলি জোটের সঙ্গে দামাস্কাসের আলোচনার ধারণাকেই প্রশ্নের সামনে উপস্থিত করে. গত সপ্তাহের শেষে বাশার আসাদের মন্ত্রীসভা বিগত দুই বছর ধরে চলা বিরোধ ও সঙ্কটের সময়ে প্রথমবার বিরোধীদের সঙ্গে রাজনৈতিক আলোচনার জন্য একদল প্রতিনিধিকে নির্দিষ্ট করেছিল. কিন্তু বিরোধীদের তরফ থেকে “সরকার” গঠন এখন এই আলোচনার সম্ভাবনাকেই প্রশ্নের সামনে দাঁড় করিয়েছে. খুবই সম্ভব যে, বিরোধীদের এই পদক্ষেপ নিতে উত্সাহিত করেছে ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনের পক্ষ থেকে সিরিয়ার সরকার হঠানোর জন্য অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করার ঘোষণা. আর সেই দিন, যখন ইস্তাম্বুল শহরে বিরোধীদের “প্রধানমন্ত্রী” নির্বাচন করা হয়েছে, আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন ইউরোপের দেশ গুলির তরফ থেকে বিরোধীদের অস্ত্র সহায়তা করায় বাধা দেবে না.

সিরিয়ার সঙ্কট থেকে বের হওয়ার জন্য জেনেভায় গৃহীত সমঝোতার এই নতুন চুক্তি ভঙ্গকে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বরিস দোলগভ মনে করেন এক ইঙ্গিত বলে, তাই তিনি বলেছেন:

“এটা সিরিয়াতে সঙ্কট বৃদ্ধির একটা ইঙ্গিত, তা আরও বেশী করে বাস্তবায়িত করার জন্যই. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে এই ধরনের অবস্থান নতুন কিছু নয়. যদিও ন্যাটো জোটের দেশ গুলির তরফ থেকে সিরিয়া সঙ্কট নিয়ে এই ধরনের অবস্থান খালি অবাক করেই দেয়, কারণ জেনেভা সমঝোতার নীচে স্বাক্ষর করেছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও রাশিয়া. তাতে স্পষ্ট করেই নির্দিষ্ট করা ছিল সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করার অনুচ্ছেদ গুলি. এটা প্রাথমিক ভাবে দামাস্কাস ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়া, সশস্ত্র যুদ্ধের অবসান হওয়া. কিন্তু এই সমঝোতা এখন ত্যাগ করা হচ্ছে সশস্ত্র বিরোধী পক্ষ ও পশ্চিমের দেশ গুলির তরফ থেকেই”.

তারই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দপ্তর গুলির সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি মার্টিন ডেম্পসি ঘোষণা করেছেন যে, আজ সিরিয়ার সমস্যার সামরিক সমাধানের কোন ঘটনা পরম্পরা আগে থেকে তৈরী করা সম্ভব নয়. তিনি এই বিষয়েও খুব একটা বিশ্বাস করেন না যে, সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ নিয়ে পরিণাম আগে থেকে সমস্ত দিকে হিসাব করা সম্ভব হবে. তাঁর কথামতো, ওয়াশিংটন এখন আরও কম করেই সিরিয়ার বিরোধীদের কাছ থেকে তাদের জঙ্গীদের সম্বন্ধে ধারণা সম্বন্ধে জানতে পারছে – তা হয়েছে গত ছয় মাস আগের চেয়ে বেশী কুয়াশাবৃতই. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগে থেকেই নিজেদের উপর থেকে সমস্ত রকমের দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চাইছে, যা হতে পারে পশ্চিমের দেশ গুলির হস্তক্ষেপের ফলে সিরিয়ার সঙ্কটের বিষয়ে. এই সন্দেহজনক মর্যাদা ওয়াশিংটন (যা আগেও লিবিয়াতে হয়েছে) প্রাক্তন “ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রদ্বয়” অর্থাত্ সেই গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্সের হাতেই তুলে দিতে চাইছে.