২০শে মার্চ সুখী দিবস হতে চলেছে. বিশ্বের বাসিন্দারা এই নতুন আন্তর্জাতিক উত্সব এই বছরে প্রথমবার পালন করবেন. এই রকমের একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভা.

সুখ কি? কি করে সুখ মাপা যায়? এই প্রশ্নগুলির উত্তর মানব সমাজ আজ এক শতাব্দী ধরে খোঁজার চেষ্টা করছে না. কিন্তু সকলেই একমত হয়েছে: প্রত্যেকেই নিজের মত করে সুখ বোঝে.

ব্রিটেনের গবেষণা কেন্দ্র নিউ ইকনমিক্স ফাউন্ডেশন কয়েক বছর আগে তৈরী করেছিল বিশ্ব সুখ সূচকের. হিসাব করার জন্য তারা ঠিক করেছিল মানুষের জীবন নিয়ে খুশী হওয়া, দীর্ঘজীবী হওয়া ও জনগনের ব্যবহারের অনুপাতে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যয় করা. সাত বছর আগে, যখন এই কেন্দ্র প্রথমবার তাদের রেটিং প্রকাশ করেছিল, তখন সবচেয়ে ওপরের পংক্তি দখল করেছিল বিশ্বের একটি দরিদ্রতম দেশ ভানুয়াতু – এক ছোট্ট দ্বীপ সম্বল রাষ্ট্র, যা অস্ট্রেলিয়ার থেকে পূর্ব দিকে রয়েছে. রাশিয়া তখন ছিল ১৭২ তম অবস্থানে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যাদের সুখের দিকে যেতে চাওয়া একেবারে দেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রেই মানুষের একটি অখণ্ড অধিকার বলে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা এমনকি প্রথম এক-শোর মধ্যেও পড়ে নি. ব্রিটেনের লোকদের তৈরী করা “সুখের মানচিত্রে” ইতিমধ্যেই নেতৃস্থানীয় জায়গায় রয়েছে লাতিন আমেরিকা. ২০১২ সালে তারা প্রথম দশের মধ্যে নয়টি জায়গাই নিয়েছে, শুধু ভিয়েতনামকে দ্বিতীয় জায়গা ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়ে. তাই আমরা যেমন দেখতেই পাচ্ছি যেসব রাষ্ট্রে বাস্তবিক ভাবে জীবন যাত্রার মান উঁচু ও গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য স্থাপিত হয়ে গিয়েছে, তারা সুখের ক্ষেত্রে নেতৃত্ব অন্যকে ছেড়ে দিয়েছে.

এই কেন্দ্রের বিশ্লেষকরা একেবারেই একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন: জাতির বাস্তব আত্মচেতনায় অর্থনৈতিক বিকাশের সূচকগুলি বা উত্পাদনের ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রতিফলিত হতে বাধ্য নয়. দেখা যাচ্ছে যে, মানুষ যত না ধনী হতে চায়, তার চেয়েও বেশী চায় সুখী ও সুস্থ হতে. খুবই আগ্রহের বিষয় হল যে, গ্যালাপ কোম্পানীর তথ্য অনুযায়ী, গত বিগত কয়েক বছরে বিশ্বে সুখী লোকের সংখ্যা চারগুণ বেড়েছে. রাশিয়াতে যেমন, শতকরা ৬৪ ভাগ নাগরিক নিজেদের সুখের স্তর মাপেন স্বাস্থ্যের পরিপ্রেক্ষিতে. দ্বিতীয় স্থানে – সুখী দাম্পত্য জীবন ও ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিত হওয়া. আর শুধু এর পরেই আসছে সম্পত্তির প্রশ্ন.

গবেষকদের মতে সুখ দুটি প্রধান ধরনের হয়: তাত্ক্ষণিক ও দীর্ঘস্থায়ী. সব সময়েই সুখী অনুভব করা খুবই বাস্তব, এই রকম মনে করে “মানসিকতা বিশ্লেষণ” ইনস্টিটিউটের মনস্তত্ত্ববিদ মারিয়া পুগাচেভা বলেছেন:

“আজকের দিনের বাস্তবের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক নির্ধারণ করেই ব্যক্তির জন্য প্রাথমিক ভাবে তার সুখী অনুভব তৈরী হয়. কিন্তু নিজে থেকে এই অনুভবে পৌঁছনোর জন্য প্রয়োজন খুবই গুরুতর রকমের দার্শনিক, আত্মিক, মানসিক ও অন্তরতম জ্ঞানের স্তরে কাজ করার এবং শুধু এটা করার পরেই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে সুখ অনুভব করা সম্ভব”.

সমাজবিদেরা যেমন ঘোষণা করেছেন, সুখের সূচক সরাসরি ভাবে ভবিষ্যত নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে যুক্ত. সমাজ সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনাময় হয়, যখন রাষ্ট্র বহু মাত্রিক বিকাশের জন্য সীমান্ত খুলে ধরে, নানা রকমের জীবন যাপনের রাস্তা করে দেয়, মানুষের সামাজিক স্থিতির জন্য যত্নবান হয়. যত বেশী এই ধরনের সুযোগ থাকে, ততই বেশী হয় সুখের স্থায়ী গুণনীয়ক. যখন রাষ্ট্র এমন পরিস্থিতিতে নেই যে দেশের সক্রিয় মানুষদের নিজের বাস্তবায়ন করার ক্ষমতার দাবী মেটাতে পারে, তখন সুখী ভবিষ্যতের প্রতি বিশ্বাস উবে যায়. কিন্তু অন্যদিক থেকে যদি মানুষ চায় খুশী হতে, তবে সে তা হবেই, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে মনস্তত্ত্ববিদ আলেক্সেই গাজারিয়ান বলেছেন:

“ছোটখাট মুহূর্ত থেকেই খুশী হওয়া শিখতে হবে, কিছু ছোট আনন্দ থেকে, এর জন্য নিজে খোলা থাকতে ও এই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার জন্য. কারণ সুখ – এটা এমন, যা ভাগ করা যেতে পারে. এটা একেবারেই ঠিক কথা. অন্যদের সাহায্য করা, জীবনের একটা নির্ভর করার জায়গা খুঁজে পাওয়া. নিজের জন্য চেনা ও খুঁজে নেওয়া, সুখী হওয়ার মানে কি. খুবই সম্ভব যে, সুখী হতে পারা, মানুষের যত পূর্ব নির্ধারিত কাজ রয়েছে, তার একটা”.

একটা ধারণা রয়েছে যে, সুখের ধারণা বিভিন্ন দেশের নিজস্ব ব্যাপার. আফ্রিকায় থাকা লোকদের জন্য তৃষ্ণা মেটানোর সম্ভাবনা, অসুখ না হওয়া সুখের সূচক হতে পারে. ইউরোপের লোকদের ধারণা অন্য. যত বেশী সমাজ উন্নত, ততই তারা সুখের সূচক জটিল রকম করে উপস্থিত করে. ২০শে মার্চ – খুব ভাল একটা কারণ হয়েছে সুখী লোকের দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্বের দিকে তাকিয়ে দেখার.