আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে রাশিয়ায় ক্রমশঃই বেশি আকর্ষনীয় হয়ে উঠছে. ২০১২ সালে পর্যটনের বিষয়ে জাতীয় এজেন্সী সংগঠিত জনমত সমীক্ষার ফলাফল এ সম্পর্কে জানায়. দেখা গেছে, যে উত্তরদাতা বিদেশীদের ৯০ শতাংশ আবার রাশিয়া সফরে আসতে চায় এবং তাদের আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধবদের সেরকম সুপারিশ করবে.

সমীক্ষাটিতে অংশ নিয়েছিল ৩০টি দেশ থেকে আসা বিদেশী পর্যটকরা. রসট্যুরিজমের প্রধান আলেক্সান্দর রাদকোভ বলছেন, যে তাদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ বলেছে, যে তাদের রাশিয়া সম্পর্কে আগেকার ধারনা ভালোর দিকে বদলেছে. –

এ থেকে কি বোঝা যায়? বোঝা যায় এটাই, যে রাশিয়া সম্পর্কে বিদেশে যে সব খবর ছড়ায় আর বাস্তব রাশিয়ার মধ্যে আকাশপাতাল ফারাক. যারা রাশিয়ায় এসেছে, তারা এদেশে পরিষেবার উঁচুমান দেখে, পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা দেখে যারপরোনাই বিস্মিত হচ্ছে.

রাশিয়ার সাংখ্যতত্ত্ব দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ২ কোটি ৮০ লক্ষেরও বেশি বিদেশী রাশিয়া সফর করেছে. তার আগের বছরের তুলনায় এই সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেশি. রাশিয়ায় সবচেয়ে বেশিসংখ্যক পর্যটক এসেছিল জার্মানী, চীন, আমেরিকা, গ্রেট বৃটেন, ফিনল্যান্ড, ইতালি ও তুরস্ক থেকে. সবচেয়ে জনপ্রিয় অভিমুখ বরাবরের মতোই সেন্ট-পিটার্সবার্গ, মস্কো ওবং মস্কোকে ঘিরে থাকা স্বর্ণবৃত্ত - প্রাচীণ রুশী শহরগুলি. তাছাড়া বৈকাল হ্রদ, ভোলগা নদী ও সাইবেরিয়ার মতো রুশী পর্যটন ব্র্যান্ডগুলিরও জনপ্রিয়তা বাড়ছে বিদেশীদের চেতনায়. আরও একটা সম্ভাবনাপূর্ণ অভিমুখ হল – ককেশাসের স্বাস্থ্যোদ্ধার কেন্দ্রগুলি.

সারাবিশ্ব পর্যটন সংস্থার কার্যনির্বাহী ডিরেক্টর জোলটান শোমোগির দৃঢ়বিশ্বাস, যে ২০১৪ সালে কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী স্বাস্থ্যোদ্ধার নগরী সোচিতে শ্বেত অলিম্পিক রাশিয়াকে সারা বিশ্বের কাছে এই অঞ্চলকে তুলে ধরার অনন্য সুযোগ দেবে.-

এরকম বড়মাপের আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান অঞ্চলের এবং গোটা দেশেরই নতুন ভাবমূর্তি গড়ে তোলে. এই অনুষ্ঠান নতুন পর্যটনের ব্র্যান্ড গড়ে তোলার অমূল্য সুযোগ. স্মরণ করুন স্পেনের বার্সেলোনাকে. অলিম্পিকের আগে পর্যন্ত ঐ শহর আন্তর্জাতিক পর্যটনের মানচিত্রে ছিল না. বা দক্ষিণ আফ্রিকার কথাই ধরুন. বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা শুধু ঐ দেশের নয়, আফ্রিকা মহাদেশের গোটা দক্ষিণাঞ্চলেরই ভাবমূর্তি বদলে দিয়েছে. তাই এই সুযোগ ব্যবহার করা দরকার. সারাবিশ্ব পর্যটন সংস্থা বর্তমানে একটা রিপোর্ট তৈরী করছে, যেখানে পর্যটনের জন্য বড় অনুষ্ঠানের সুপরিণতির উঁচু মূল্যায়ণ করা হয়েছে.

সারাবিশ্ব পর্যটন সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দশকে পর্যটনের স্রোত ক্রমশঃই পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যের দিকে সরে যাবে. ইতিমধ্যেই চীন, ভারত, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলি আন্তর্জাতিক পর্যটনশিল্পে ক্রমশঃই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, ঐতিহ্যগত ইউরোপকে কোনঠাসা করে – বলছেন জোলটান শোমোগি. তার কথায়, রাশিয়ায় পর্যটকদের আসার স্রোত প্রতিবছর ৭-১০% করে বাড়বে.