‘রেডিও রাশিয়া’র শ্রোতাদের ক্লাবের অধিবেষন শুনছেন আপনারা.

ভাষ্যকার ল্যুদমিলা পাতাকি ও কৌশিক দাস আমাদের ক্লাবের সদস্যদের স্বাগত জানাচ্ছে. আমরা নতুন সাক্ষাতে আনন্দিত.

আজ আমরা আপনাদের পরিচয় করাবো ক্লাবের চিঠিপত্রের সঙ্গে.

ক্যুইজ প্রতিযোগিতা এবং রেডিও রাশিয়ার প্রতিযোগিতার জন্য পাঠানো উত্তরগুলি সম্পর্কে জানাবো.

নয়াদিল্লীতে সদ্য প্রকাশিত নিকোলাই রেরিখের প্রতি উত্সর্গীত সচিত্র পুস্তক সম্পর্কে অবহিত করবো.

এবং একসাথে শুনবো আধুনিক রুশী ও ভারতীয় গান.

নয়াদিল্লী থেকে দীপক কুমার লিখেছেন – আমার খুব পছন্দ রেডিও রাশিয়ার ঠিকানায় বিভিন্ন ঘটনাবলী ও উত্সবাদির ওপর ফোটো পাঠানোর প্রস্তাব. আপনাদের সাইট পরিদর্শনকারীদের আগ্রহোদ্দীপক ফোটোর সাথে পরিচয় করতে খুব ভালো লাগে.

শ্রদ্ধেয় দীপক কুমার, আমাদের কাছে পাঠানো ফোটোগুলি সেরা ফোটোর ত্রৈমাসিক প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়. এবং খুব শীঘ্রই আমরা আমাদের সাইটে ২০১৩ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক ফোটো প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ফোটোগুলি প্রকাশ করবো. ক্লাবের কর্মকান্ড ও বহুসংখ্যক অনুষ্ঠানের ওপর তোলা প্রচুর ফোটো এসেছে বিচারকমন্ডলীর কাছে. আপনারাও যদি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন, তাহলে খুব ভালো হয়. এখনো কিছুটা সময় আছে প্রতিযোগিতার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত.

এবং বন্ধুরা, ভুলে যাবেন না, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক প্রতিযোগিতার কথা. তিনমাস অন্তর অন্তর আমরা আমাদের সাইটের সবচেয়ে সক্রিয় পরিদর্শনকারীদের বেছে নিই এবং বিজয়ীদের পুরস্কার পাঠাই.

প্রসঙ্গত জানাই, যে আমাদের পত্রপ্রেরকদের অনেকেই নিয়মিত আমাদের সাইটে আসেন আর ফেসবুকে আমাদের পৃষ্ঠায় লেখালেখি করেন. যেমন, বাংলাদেশের হায়দর আলি ও মেসবাহুল সফি, বাংলাদেশেরই কুমিল্লা জেলার ঝাঁকুনিপাড়া থেকে মাহফুজ, নওগাঁ জেলার হাট নওগাঁর ফ্রেন্ডস লিসনার্স ক্লাবের সভাপতি দেওয়ান রফিকুল ইসলাম ওরফে রানা, হাট নওগাঁর বন্ধুদের ক্লাবের সচিব তাসলিম উদ্দীন ওরফে রকেট এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের মুর্শিদাবাদ জেলার সাহানগরের নতুন রেডিও লিসনার্স ক্লাবের পক্ষ থেকে কাঞ্চন চট্টোপাধ্যায়.

সানন্দে উল্লেখ করতে চাই, যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলির সাথে রাশিয়ার সহযোগিতা সম্পর্কে ২০১৩ সালের ক্যুইজ প্রতিযোগিতাতেও প্রচুর উত্তর পেয়েছি আমরা ও প্রতিশ্রুতি মতোই সবার আগে উত্তর পাঠানো প্রথম তিনজনকে ইতিমধ্যেই পুরস্কার পাঠিয়ে দিয়েছি.

ত্রৈমাসিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের সাফল্য কামনা করছি আমরা. প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, যে বিচারকদের নির্বাচন হবে ন্যায্য ও নিরপেক্ষ.

রেডিও রাশিয়ার ত্রৈমাসিক প্রতিযোগিতাগুলিতে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে আমরা একটি আধুনিক সুরেলা রুশী গান শোনাচ্ছি.

আপনারা অংশ নিচ্ছেন রেডিও রাশিয়ার শ্রোতাদের ক্লাবের অধিবেষনে.

আশা করছি, যে নয়াদিল্লীর হৃদ্বিজয় চক্রবর্তী এতদিনে আমাদের তরফ থেকে পাঠানো রুশী ভাষার পাঠ পেয়ে গেছেন. তার চিঠি থেকে আমরা জেনেছি, যে ওগুলি তার দরকার, কারণ তিনি রুশী ভাষা শিখছেন. আমরা তার সাফল্য কামনা করছি.

প্রিয় বন্ধুরা, যখন আপনারা শ্রোতাদের ক্লাবের অধিবেষনের আয়োজন করবেন, তখন সেখানে তোলা সব ফোটো আমাদের পাঠাতে ভুলবেন না প্রতিযোগিতার জন্য.

সদ্য নয়াদিল্লীতে ‘নিয়োগী বুকস’ প্রকাশনালয় প্রকাশ করেছে সচিত্র বই – “নিকোলাই রেরিখঃ সন্ধান ও উত্তরাধিকার”. সেখানে সংগ্রহ করা হয়েছে এই মহান রুশী চিত্রশিল্পী ও দার্শনিকের কীর্তির উপর রাশিয়া, ভারত ও অন্যান্য দেশের গবেষণাকারীদের লেখা প্রবন্ধ. তাছাড়া সেখানে ছাপানো হয়েছে রেরিখের আঁকা ১৩০টি ছবি, যাদের মধ্যে এমন সব ছবি আছে, যা অধিকাংশ লোকই এর আগে দেখেনি. এই প্রসঙ্গে দিল্লীর জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ও বইটির সংকলক ডঃ মঞ্জু বলছেন –

বিশ্বায়ন ও শিল্পের আধুনিকীকরনের যুগে নিকোলাই রেরিখের রচনাবলী আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় জাতীয় কৃষ্টির ঐতিহ্য রক্ষা করার গুরুত্বের কথা. তাদের পিষে দেওয়া উচিত নয়. এই মনযোগ ও জাতীয় শেকড়ের প্রতি যত্ন প্রতিফলিত হয়েছে রেরিখের আঁকা ছবিতে, তাঁর লিখিত রচনায়. তিনি প্রাচীন রুশদেশ সম্পর্কে তাঁর রচনার সিরিজে, প্রাচীণকালের লোকগাথা, যার ওপরে ইউরোপের বহু মঞ্চে নাটক হয়েছে, সেখানেও এই মনযোগ ও যত্ন দেখিয়েছেন. ভারত, সিকিম, তিব্বত, চীন, মঙ্গোলিয়া, জাপানে বিজ্ঞানমুলক তার পরিব্রজ্যার সময় সৃষ্টি করা তাঁর রচনাবলীতেও তা ফুটে উঠেছে.

গত শতাব্দীর বিশের ও ত্রিশের দশকে ঐসব পরিব্রজ্যায় নিকোলাই রেরিখের সঙ্গী ছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরাঃ পত্নী ইলেনা, জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রাচ্যের বহুভাষার পন্ডিত ইউরি, কনিষ্ঠ পুত্র চিত্রশিল্পী ও গবেষক স্ভেতোস্লাভ. ইতিপূর্বে মানুষের অজানা থাকা এশিয়ার বিভিন্ন জায়গায় প্রত্নতত্ত্বমুলক ও এথনিক গবেষণা করেছিলেন তাঁরা, খুঁজে পেয়েছিলেন দুষ্প্রাপ্য বহু পান্ডুলিপি, লোকসাহিত্য, আবিস্কার করেছিলেন বিরল সব স্মৃতিচিহ্ন. লিখেছিলেন ‘এশিয়ার হৃদপিন্ড’ ও ‘আলতাই-হিমালয়’ নামক গ্রন্থ. অভিযান চলাকালীন তাঁর জীবনের মুখ্য কীর্তি – ‘রেরিখের প্যাক্ট’ নিয়েও আলোচনা হত. ১৯৩৫ সালে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত ঐ প্যাক্ট ছিল প্রথম আন্তর্জাতিক দলিল, যুদ্ধ এবং শান্তির সময়ে মূল্যবান সাংস্কৃতিক সম্পদ সুরক্ষার বিষয়ে. অধ্যাপিকা মঞ্জু স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে উক্ত পরিব্রজ্যাকালে রেরিখ ‘হিমালয়’, ‘প্রাচ্যের শিক্ষাদাতারা’ ও ‘মৈত্রেয়’ সিরিজের প্রায় ৫০০ চিত্র এঁকেছিলেন, আর সবমিলিয়ে তিনি জীবদ্দশায় এঁকেছিলেন ৭০০০ চিত্র. সেগুলি সংরক্ষিত আছে বিশ্বের বহু মিউজিয়ামে. যেমন মস্কোর ত্রেতিকোভস্কি মিউজিয়ামে, সেন্ট-পিটার্সবার্গের রুশী মিউজিয়ামে, নিউ-ইয়র্কের রেরিখ মিউজিয়ামে, নয়াদিল্লীর আধুনিক শিল্পের জাতীয় গ্যালারীতে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাজধানীগুলোতে. অধ্যাপিকা মঞ্জু বলছেন, যে রেরিখের আঁকা ভারত সিরিজের ছবিগুলো আমাদের স্বদেশবাসীদের কাছে সর্বাধিক আদরনীয়. অন্য কোনো শিল্পী এতখানি কাব্যিক অভিব্যক্তি দিয়ে হিমালয়ের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলতে পারেননি. ভারতকে এত গভীরভাবে রেরিখের জানা আমাদের বিস্মিত করে – বলছেন অধ্যাপিকা মঞ্জু.-

ভারতীয়রা চিত্রশিল্পী রেরিখকে পরম আত্মীয়ের মতো গণ্য করে. রেরিখের চিত্রাবলী ও রচনাবলীতে তারা আমাদের দেশের প্রতি তাঁর ভালোবাসা অনুভব করে. ভারতীয়রা বিশেষ করে উচ্চমূল্যায়ণ করে আমাদের দুই দেশের ও দেশবাসীদের মধ্যে যোগাযোগ মজবুত করার ক্ষেত্রে রেরিখ ও তাঁর পরিবারের অনন্য অবদানের.

সচিত্র পুস্তক – “নিকোলাই রেরিখঃ সন্ধান ও উত্তরাধিকার”, যা মুক্তি পেয়েছে সম্প্রতি নয়াদিল্লীতে, তার মুখ্য সম্পাদিকা, অধ্যাপিকা মঞ্জুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ভারতের বড় বড় পুস্তকালয়গুলিতে বিক্রয় হচ্ছে. এই পুস্তকের হিন্দী ও রুশী ভাষায় অনুবাদ প্রকাশ করারও পরিকল্পনা আছে.