রাশিয়া বিশ্ব সমুদ্রে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে. ভূমধ্য সাগরে যুদ্ধ প্রহরার জন্য পাঁচ- ছয়টি জাহাজের এক দল বানানো হবে. এই বিষয়ে রাশিয়ার নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল ভিক্টর চিরকভ এই প্রসঙ্গে ঘোষণা করেছেন. তিনি সেই সম্ভাবনাকেও বাদ দেন নি যে, প্রয়োজনে একই ধরনের দল ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরেও পাঠানো হতে পারে.

ভূমধ্যসাগরে যে দল পাঠানো হবে, তার মূল হয়েছে প্রথম সারির জাহাজ গুলি: ফ্রিগেট ও ক্র্যুসার জাহাজ. সেই গুলি এই এলাকায় থেকে যাবে স্থায়ী ভাবেই. রাশিয়ার নৌবহরের অপারেশনের জন্য জাহাজ গুলি নেওয়া হবে প্রধানতঃ উত্তর ও কৃষ্ণ সাগরের নৌবহর থেকেই.

জানুয়ারী মাসে রাশিয়া ভূমধ্যসাগরে বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় মহড়া করেছে. তাতে অংশ নিয়েছে বাল্টিক, উত্তর ও কৃষ্ণ সাগরের নৌবহরের জাহাজ গুলি. এই সব ম্যানুভারের পরিনাম দেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, রাশিয়ার সামরিক জাহাজ গুলি সেখানে সামরিক প্রহরার কাজ করবে. এই এলাকাতে পাঠানো হয়েছিল চারটি বড় নৌসেনা বাহিনীর জাহাজ, তাই এই বিষয়ে মন্তব্য করে সামরিক বিশেষজ্ঞ ভিক্টর বারানেত্স বলেছেন:

“স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, ভূমধ্যসাগর বর্তমানে একটা শক্তি প্রয়োগ করে প্রভাব বিস্তারের এলাকা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোটের দেশ গুলির পক্ষ থেকে এই এলাকায়. স্বাভাবিক ভাবেই এটা রাশিয়ার মনোযোগের বাইরে থাকতে পারে না, রাজনৈতিক বা সামরিক কোন ভাবেই নয়. আমরা খুব ভাল করেই দেখতে পাচ্ছি যে, সিরিয়ার চারপাশ জুড়ে কিভাবে পরিস্থিতি তৈরী করা হচ্ছে. তাই আমরা প্রকৃত পক্ষে বিশ্ব পর্যায়ের একটি প্রশ্নকে সমাধানের বিষয়ে মনোযোগ না দিয়ে পারি না”.

ভূমধ্যসাগরে যুদ্ধ জাহাজ দল তৈরীর অভিজ্ঞতা অন্যান্য এলাকাতেও ব্যবহার করা যেতে পারে. এটাই রুশ নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল চিরকভ বাতিল করেন নি. যদি প্রয়োজন পড়ে, তবে তিনি জানিয়েছেন যে, নৌবহরের নেতৃত্ব মন্ত্রীসভা ও রাষ্ট্রপতির কাছে স্থায়ী ভাবে ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় যুদ্ধ প্রহরায় নৌবহর মজুদ রাখার জন্য প্রস্তাব পেশ করবে. এই ঘোষণা সম্বন্ধে মন্তব্য করতে গিয়ে, রুশ সামরিক বাহিনীর সদর দপ্তরের প্রধানের পরামর্শদাতা ও কৃষ্ণ সাগরের নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান ইগর কাসাতোনভ ঘোষণা করেছেন:

“আমরা ঐতিহ্য অনুযায়ী এই সব মহা সমুদ্রে আগেও ছিলাম, আর সঠিক করে বলতে হলে – রাশিয়ার স্বার্থের জন্য সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ এলাকা গুলিতেই. ভিয়েতনামে ছিল কামরান বন্দর, খুবই ভাল করে তা তৈরী ছিল প্রযুক্তির দিক থেকে. রাশিয়ার নৌবহরের জন্য আরও কয়েকটি নোঙর করার মতো বন্দর ছিল. রাশিয়ার স্বার্থও এই এলাকায় বজায় ছিল. রাশিয়া এক মহান সামুদ্রিক রাষ্ট্র. এই এলাকা রাশিয়ার স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই দেশের প্রধান ও সামরিক বাহিনীর নেতা ঘোষণা করবেন. আমাদের শক্তি সেখানে যতদিন দরকার, তত দিনের জন্যই রাখা হবে”.

প্রশান্ত মহাসাগর ও ভারত মহাসাগর এলাকায় বিশ্ব রাজনীতির এলাকায় পরিণত হচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন সেখানে এমনিই নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে না. আর রাশিয়া নিজেদের দিক থেকে ঠিক করেছে এই প্রবণতার সম্যক প্রতিক্রিয়া করার.