বিগত কয়েকমাস ধরে ভারত তোলপাড় করা স্ক্যান্ডাল এবারে আন্তর্জাতিক স্তরে উঠেছে. সুইজারল্যান্ডের এক ট্যুরিস্ট মহিলাকে দল বেঁধে ধর্ষণ করার এক বুনো ইতিহাস, যা গত সপ্তাহের শেষে হয়েছে, তা আবার করেই প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, দেশের প্রশাসনের পক্ষ থেকে ধর্ষণের মহামারী থেকে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা আর কাজ করছে না. তার ওপরে যখন এই সব আক্রমণের শিকার হচ্ছেন বিদেশীরা, তখন এটা দেশেরই মর্যাদার উপরে খুবই শক্তিশালী আঘাত হয়ে দাঁড়াচ্ছে. ভারত সরকারের দেশের পর্যটন শিল্পকে এক প্রস্ফুটিত অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরী প্রয়াস নিরাপত্তাহীন ভারত নিয়ে প্রকাশনার প্লাবনে কবরের নীচে যেতেই পারে বলে মনে করেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন.

এই ইতিহাস এক প্রচারের তথ্যচিত্রে পরিণত হতেই পারে, যেখানে দেখানো হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার কোন এলাকায় আজ ট্যুরিস্টদের যাওয়ার একে বারেই দরকার নেই. কেই বা ভাবতে পারত যে, পশ্চিমের ট্যুরিস্টদের জন্য বাস্তবিক ভাবেই জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিতে পরিণত হতে পারে মহান ও বিস্ময়কর ভারত – যে দেশ বহু পশ্চিমের পর্যটকদের দিয়েই বহু শতাব্দী ধরে প্রশংসিত হয়েছে ও সারা বিশ্বের সমস্ত সংস্কৃতির ব্যক্তিত্বদের জন্যই এক চুম্বকের কাজ করেছে.

মধ্যপ্রদেশ রাজ্যে শুক্রবারে এক সুইজারল্যান্ডের দম্পতির উপরে ন্যক্কারজনক ভাবে আক্রমণ করা হয়েছে, যে রাজ্যকে ভারতের ট্যুর অপারেটর সংস্থা গুলি গর্বের সঙ্গেই অজানা সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট বিদেশী পর্যটকদের জন্য বলত ভারতের হৃদয়ের কেন্দ্র বলেই. তথ্য সংস্থা গুলির খবর অনুযায়ী ৩৯ বছরের মহিলা তাঁর স্বামীর সঙ্গে শান্তিতে আগ্রার দিকে সাইকেলে চেপে যাচ্ছিলেন, তাজমহল দেখবেন বলে, যা মধ্যপ্রদেশের পাশের রাজ্য উত্তর প্রদেশে রয়েছে. কিন্তু বিশ্বের একটি অন্যতম বিস্ময় অবধি পৌঁছনো এই সুইজারল্যান্ডের দুর্ভাগা দম্পতির পক্ষে সম্ভব হয় নি. ট্র্যাজেডি ঘটেছে রাতের অন্ধকারে, যখন এই ট্যুরিস্টরা রাত কাটানোর জন্য দাতিয়া নামের এক এলাকায় রাস্তার ধারে তাঁবু খাটিয়েছিল.

সুইজারল্যান্ডের নাগরিকরা পুলিশে খবর দেওয়াতে ইতিমধ্যেই সাতজন বদমাশ লোককে ধরা হয়েছে. কিন্তু এর ফলে সুইজারল্যান্ডে ভারতের পর্যটন নিয়ে যথেষ্ট বদনামই হয়েছে.

ধর্ষণ নিয়ে এক সারি স্ক্যান্ডাল, যা গত কয়েক মাস ধরে সারা ভারত তোলপাড় করছে, তা দেশে প্রতিবাদের মিছিলও চালু রেখেছে আর সরকার বাধ্য হয়েছে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধের দ্রুত বিচারের জন্য আদালত চালু করতে. ভারতের প্রণব মুখার্জ্জী এই ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তি কঠোর করার আইনে স্বাক্ষর করেছেন – এবারে ধর্ষক মৃত্যুদণ্ড পেতে পারে.

কিন্তু এই সব জরুরী ব্যবস্থাও কাজ করছে না. তারই মধ্যে যে সব বিদেশীদের উপরে হামলা করেছে, তাদের জন্য এর পরিণামও সুদূর প্রসারী হতে চলেছে. ভারতে রয়েছে বহু ঐতিহাসিক স্মৃতি জড়িত স্থান, আত্মার বিকাশের জন্য গুরু কুল, খুবই বিরল ধরনের চিকিত্সা বিদ্যার অভ্যাস ও স্বাস্থ্য উদ্ধারের পদ্ধতি, যা বিদেশীদের এই দেশে আকর্ষণ করে. এই দেশে বিরল ধরনের পর্যটনের বিকাশের জন্যও বহু ক্ষেত্র রয়েছে. কিন্তু এই ক্ষমতা ব্যবহৃত হয়, খুবই দুর্বল ভাবে. দেশের পর্যটন শিল্পে দ্বিতীয় বার জীবন সঞ্চার করা শুরু হয়েছিল ২০০১ – ২০০২ সাল থেকে, যখন “অবিশ্বাস্য ভারত” নামে প্রচার করা শুরু করা হয়েছিল. “ভারতকে তৃতীয় শতকে আবিষ্কার করুন” এই স্লোগান দিয়ে. এই কাজের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, চিন, লাতিন আমেরিকা, রাশিয়া ও স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের দেশ গুলিতে আলাদা করে পর্যটন বিভাগের দপ্তর খোলা হয়েছিল.

কিন্তু আজ, বিদেশীদের উপরে ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধের জন্য এই “অবিশ্বাস্য ভারত” দেখতে যাওয়ার জন্য ইচ্ছুক লোকদের সংখ্যা ক্রমাগতই কমে যাচ্ছে. ফলে ভারত সরকারের দেশের পর্যটন শিল্পকে এক প্রস্ফুটিত অর্থনৈতিক ক্ষেত্র তৈরী প্রয়াস নিরাপত্তাহীন ভারত নিয়ে প্রকাশনার প্লাবনে কবরের নীচে যেতেই পারে.