মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় কোন পূর্বাভাষ ছাড়াই ইউরোপে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিকল্পনার পরিবর্তন করেছে। এ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে ব্যাপক সমালোচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেগেল এক সংবাদ সম্মেলনে দেশকে রকেট হামলা থেকে নিরাপদ রাখতে নতুন পরিকল্পনার কথা বর্ননা করেন। মূলত উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক অবস্থানের পেক্ষিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র গ্লোবাল রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংক্রান্ত নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা পূনরায় বিবেচনা করছে।

সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ের সফল পারমাণবিক বোমার পরীক্ষার ও মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর পরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রথমেই নিজেদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা শুরু করেছে

সাংবাদিকদের হেগ বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে তা আন্তঃমহাদেশীয় রকেট হামলা থেকে দেশকে সুরক্ষা করতে পারে, কিন্তু উত্তর কোরিয়া বিগত সময়ে নিজেদের সামরিক খাতকে আরো মজবুত করেছে এবং কিছু প্ররোচনা ছড়িয়েছে। গত মাসে উত্তর কোরিয়া ৩য় পরামাণু বোমা উত্তেক্ষপণ করেছে এবং ২০১২ সালের এপ্রিলে তারা মোবাইল রকেট কমপ্লেক্স আবিষ্কার করেছে। আর মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানো যা দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সামর্থ প্রমাণ করছে। এ কারণেই আমরা আলাস্কাতে আরো অতিরিক্ত ১৪টি রকেটবিরোধী ক্ষেপনাস্ত্র মজুদ করতে যাচ্ছি আর ওই এলাকায় আমাদের রকেটবিরোধী ক্ষেপনাস্ত্রের সংখ্যা ৩০ থেকে ৪৪ এ দাঁড়াবে যার মধ্যে ৪টি রয়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার ঘাঁটিতে ।”

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র হয়তবা জাপানে তাদের ২য় রাডার স্থাপন করতে পারে এবং নিজেদের ভূখন্ডে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ৩য় ঘাঁটি তৈরী করার সম্ভাবনা রয়েছে

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর ওই বিবৃতি ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভবিষ্যত যা রাশিয়া ও ইউরোপের জন্য খুবই বিবেচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকল্পের চতুর্থ ধাপ থেকে সড়ে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যার বিরোধীতা করছে মস্কো। অর্থের যোগান কমিয়ে আনার কারণে এসএম৩-আইআইভি যা পোল্যান্ডে মোতায়ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল তা ২০২২ সালের আগে শেষ হবে না। সত্য ঘটনা হলো যে, এটি আর ইউরোপে মোতায়ন করা হচ্ছে না।

তবে ইউরোপে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অন্যান্য প্রকল্প অপরিবর্তিত থাকছে। ইরান ২০১৮ সালের মধ্যে ন্যাটোর মিত্র দেশগুলোর ওপর হামলা করার যুঁকি রয়েছে বলে মার্কিনিরা জানিয়েছেন।