চীনের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিং দেশটির ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছেন।

0 আর এর মধ্য দিয়ে শেষ হলো গত নভেম্বরে শুরু হওয়া চীনের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন প্রক্রিয়া

। শি জিনপিংকে নভেম্বরে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতার পদে নিযুক্ত করা হয়

 

বেইজিংয়ে ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ১২তম অধিবেশনে গোপন ভোটের মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ভোট গননা শেষে জানা যায় যে, প্রায় তিন হাজার প্রতিনিধির মধ্যে একজন বিপক্ষে ও তিনজন ভোট দানে বিরত থাকেন।

গণচীনের রাজনৈতিক কাঠামো এমন করে তৈরী করা হয়েছে যার ফলে আগে থেকেই ভবিষ্যতে কে নেতা হতে যাচ্ছেন আর আনুষ্ঠানিকভাবে কোন পদ পেতে যাচ্ছেন তাঁর নাম জানা যায় সেই দিক থেকে শি জিনপিং যে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষনেতার পদ পেতে যাচ্ছেন তা আরো কয়েকবছর আগেই শোনা গিয়েছিল যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে গত নভেম্বরে তিনি ওই পদের দায়িত্ব গ্রহণ করেন

মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রুশ-চীন গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ইভগেনী জাইসেভ মনে করেন যে, এত দ্রুত ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস অথবা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতাকে শুধুমাত্র অধিবেশনের মাধ্যমে নির্বাচিত করা সম্ভব না তিনি বলেন, “কোন প্রকার ভিন্নধর্মী ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা ছিল না যা নিয়ে হয়তবা পার্থক্য করা যায় যেমন, দর্শকের আসন থেকে কেউ হয়ত চীনা বরিস ইয়েলসিনের মত বলে উঠবেন, দেশে পরিবর্তন অপেক্ষা করছে এসব অনুষ্ঠান ও সিদ্ধান্তসমূহ সবই পূর্বপরিকল্পিত ছিল যদি কোন আশ্চর্য্যজনক ঘটনা ঘটতো তা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির শীর্ষ নেতাদের নিয়ে হতো”

ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ১২তম অধিবেশনে শি জিনপিংকে একই সাথে চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক পরিষদের প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করা হয় আর নভেম্বরে তাকে কমিউনিস্ট পার্টির সামরিক পরিষদের সভাপতি করা হয় পরিষ্কার অর্থে বলা যায়, শি জিনপিং সেনাবাহিনীকে রাষ্ট্রীয় ও পার্টির দিক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করছেন উল্লেখ্য যে, দেশ পরিচালনার কাজের পুরোটাই নিজেরে হাতে নিতে পেরেছেন অন্যদিকে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট হু জিনতাও- এর ক্ষেত্রে তা ঘটেছিল দায়িত্ব নেওয়ার দুই বছর পর যখন তিনি পার্টির শীর্ষ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হন

শি জিনপিং পূর্বের অন্যসব নেতাদের থেকে একদমই আলাদা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর শি জিনপিং প্রথম যে বক্তব্য দিয়েছিলেন তা থেকেই তাঁর রাজনৈতিক দিক দর্শনের একটি ধারণা পাওয়া যায় এমনটি বলছেন, “রাষ্ট্র” ম্যাগাজিনের প্রধান সম্পাদক আলেক্সান্দর গাবুয়েভ তিনি বলেন, “পলিটব্যুরো স্ট্যান্ডিং কমিটির স্থায়ী কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে বর্নণা করেন চীনা নেতা মঞ্চে আসেন, নিরবে দাড়িয়ে থাকেন আবার সাংবাদিকদের দেখে হাসেন এবং চলে যান মূলত, শি জিনপিং এর ওই দিনের ভাষণে মার্কসবাদ বা সমাজতন্ত্র নিয়ে কোন মন্তব্য ছিলো না এর পরিবর্তে তিনি চীনা জনগনের সমস্যা নিয়ে কথা বলেছেন বেকারত্ব, দুর্নীতি ও অর্থনীতির মন্থর গতি নিয়ে আলোকপাত করেন তিনি আশাবাদ উচ্চারণ করে বলেন, তাঁর সরকার আগামী ১০ বছর এ সব সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করবে”

এদিকে চীনের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় শি জিনপিংকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন এক শুভেচ্ছা বার্তায় রুশ প্রেসিডেন্ট চীনের বিরতিহীন উন্নতি ও জনগনের মঙ্গল কামনা করেন বিশ্বকে সুরক্ষা ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখতে রুশ-চীন কূটনৈতিক সম্পর্ককে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র বলে উল্লেখ করেন পুতিন নিজের মন্তব্যে শি জিনপিং রাশিয়ার সহকর্মিকে কৃতজ্ঞতা জানান এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে আরো অধিক মনোনিবেশ দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন