যে সব মস্কোবাসীর ভারতবর্ষের প্রতি আন্তরিক আগ্রহ আছে, আজ কয়েকদিন তারা নগরী না ছেড়েও ভারতীয় মন্দিরে যেতে পারেন, প্রাচীণ ভারতীয় স্থাপত্যের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতে পারেন, অন্যান্য ভারতীয় শিল্পবস্তু অবলোকন করতে পারেন. সেগুলি প্রদর্শন করা হচ্ছে ম্যাক্সিমিলিয়ান ভলোশিনের নামাঙ্কিত সংস্কৃতিকেন্দ্রে-গ্রন্থাগারে. ভলোশিন ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও সাহিত্যবিদ, যিনি প্রাচ্য দুনিয়া নিয়ে চর্চা করতেন. ঐ প্রদর্শনীতে ঢুকে দর্শকরা যেন হিন্দু মন্দিরে প্রবেশ করে.

প্রদর্শনীর তত্ত্বাবধায়ক ভিক্তর সোলকিন ব্যাখ্যা করে বলছেন, - আমরা এরকম আবহ সৃষ্টি করতে সমর্থ হয়েছি এই প্রকল্পের একজন অংশগ্রহণকারীর ভারত ভ্রমণের সময় তোলা বিশাল বিশাল তিনমাত্রার সব ফোটোর সুবাদে. আর তাছাড়া মন্দিরের আভ্যন্তরীন সব সাজসজ্জা ও স্বকীয় সব ভাস্কর্যের দৌলতে.-

ভিক্তর সোলকিন বলছেন – আমাদের প্রদর্শনীতে ১১টি সত্যিকারের ভারতীয় শিল্পবস্তু দেখানো হচ্ছে. এগুলি নবম-দ্বাদশ শতাব্দীতে তৈরী. প্রদর্শিত সব সামগ্রী রুশী ব্যক্তিগত সংগ্রহকারীদের সংগ্রহশালা থেকে আনা হয়েছে. তবে সেগুলি ভারত থেকে নয়, ইউরোপ থেকে এসেছে, যেখানে সেগুলি কেনা হয়েছে প্রকাশ্য নীলামে. সবচেয়ে মূল্যবান সামগ্রীর অন্যতম – সিদ্ধিদাতা ও ধনদাতা ভগবান গণেশের ব্রোঞ্জের মূর্তি. আর পাথরনির্মিত কয়েকটি স্বর্গের নর্তকী অপ্সরীদের মূর্তি.

রাশিয়ার বহু মিউজিয়ামে ভারতীয় শিল্পসামগ্রী আছে. মস্কোর প্রাচ্য মিউজিয়াম গর্বের সঙ্গে প্রদর্শন করে পেতল ও হাড় দিয়ে খোদিত ষোড়শ শতাব্দীর ভারতীয় মিনিয়েচার চিত্র. সেখানে ভারতপ্রেমী রেরিখ পরিবারের বড় চিত্র সংগ্রহ রয়েছে, আছে তাদের ভারতে গবেষণামুলক সব অভিযানে সংগ্রহ করা জিনিসপত্র. সেন্ট-পিটার্সবার্গে দেশের বৃহত্তম মিউজিয়াম হার্মিটেজে আছে ভারতীয় অস্ত্রশস্ত্র, মুদ্রা, কাপড়ের সংগ্রহ. আগেকার শতাব্দীগুলিতে ভারতীয় শিল্পীদের কাঠ খোদাই করে বানানো অনন্য ভাস্কর্য দর্শকদের মুগ্ধ করে সেন্ট-পিটার্সবার্গের আর একটি মিউজিয়ামে – কুন্সতকামেরায়. পুরাতনকালে ভারতীয় শিল্পসামগ্রী কেনা হত যেমন ভারতে, তেমনই সে দেশের বাইরেও.

রাশিয়ার শিল্পবস্তু সংগ্রহকারীরা ভারতের শিল্প ও সংস্কৃতির প্রতি একনিষ্ঠ আগ্রহ প্রকাশ করে. তাদের অনেকেই নিয়মিত আসেন ম্যাক্সিমালায়ান ভলোশিনের নামাঙ্কিত গ্রন্থাগারে, যেখানে ভারতীয় লেখকদের লেখা হাজার হাজার বই সংরক্ষিত আছে, আছে রাশিয়ায় প্রকাশিত ভারত সম্পর্কে প্রচুর বই. দুস্প্রাপ্য ভারতীয় শিল্পসামগ্রীর চলতি প্রদর্শনীটির সঙ্গে তুলনীয় কিছু নেই রাশিয়ার মিউজিয়ামগুলিতে, তাই এটা নজিরবিহীন এবং বহু মস্কোবাসীর জন্য বড়সড় ঘটনা. আর আমরা পরম সুন্দরী অপ্সরাদের পণবন্দী হয়ে রয়েছি – একগাল হেসে বললেন ভিক্তর সোলকিন. আরও একটা নতুন প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে. সেখানে দেখানো হবে ভারত ও চীন থেকে আনা বুদ্ধ শিল্পসামগ্রী.