সিরিয়ার সঙ্কট চলাকালীণ গত দুই বছরের মধ্যে প্রথমবার দামাস্কাস এক প্রতিনিধি দল তৈরী করেছে, যাতে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা শুরু করা যায়. তারা প্রত্যুত্তর দিতে তাড়াহুড়ো করছে না, প্যারিস ও লন্ডনের তরফ থেকে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের বিরোধী পক্ষকে আরও অস্ত্র সরবরাহ করার ইচ্ছা প্রকাশে উত্সাহিত হয়েই আছে. ওয়াশিংটন সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধীদের সাহায্য করার এই পরিকল্পনা সমর্থন করেছে.

সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী দামাস্কাসের পক্ষ থেকে আলোচনা করার দলে থাকতে পারেন, তাঁর প্রথম সহকারী ও আরও তিনজন মন্ত্রীও এই বিষয়ে যোগ দিতে পারেন. এই দল তৈরী হওয়া নিয়ে এর আগে লন্ডনে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন. দামাস্কাস বিরোধী পক্ষের দিকে একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যা রাশিয়া পক্ষ থেকেই এই বিরোধের দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য খুবই জোর দিয়ে আহ্বান করার জন্যই হতে পেরেছে.

কিন্তু আপসে অনিচ্ছুক বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে কোন এই দিকে পদক্ষেপ হয়তো দেখতেই পাওয়া যাবে না. এই সম্ভাবনাও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের আরব গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বাদ দিতে পারেন নি. তিনি “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

“মনে করিয়ে দিতে চাই যে, সিরিয়ার প্রশাসনিক পক্ষ একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, তারা বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত. এই প্রসঙ্গে সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রীর শেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে যে, এমনকি সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের সঙ্গেও তারা আলোচনা করতে তৈরী রয়েছে. পরবর্তী সময়ে যে ভাবে ঘটনা পরম্পরা হয়েছে, তা দেখিয়ে দিয়েছে যে, চরমপন্থী বিরোধী পক্ষ অথবা দোহা রাষ্ট্রে তৈরী হওয়া সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের জাতীয় জোটের আলোচনার প্রয়োজন নেই”.

আপাততঃ সিরিয়ার বাইরে ঘাঁটি গেড়ে থাকা রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ নিজেদের পক্ষ থেকে আলোচনায় প্রতিনিধি দল তৈরী করতে তাড়াহুড়ো করছে না. আগে এই জাতীয় জোটের নেতা আহমেদ মুয়াজ আল- হাতীব ঘোষণা করেছিল যে, তারা দামাস্কাসের সঙ্গে সংলাপ শুরুতে তৈরী. তার কাছ থেকেই এই আলোচনার অংশগ্রহণকারীদের নাম শোনার আশা করা হয়েছিল যেমন মস্কোয়, তেমনই ওয়াশিংটনে, যেখানে তার যাওয়ার কথা ছিল সফরে. কিন্তু এই সফর হয় নি. এখানে বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, তার জোটের চরমপন্থী লোকদের চাপেই এটা ঘটে থাকতে পারে. তারই মধ্যে লন্ডন ও প্যারিস ঘোষণা করেছে যে, তারা নিজেরাই সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সশস্ত্র করবে. এটা সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার নতুন পরিকল্পনা আর তা সমর্থন করতে ওয়াশিংটন তাড়াহুড়ো করে ফেলেছে.

ইউরোপীয় সভার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পরামর্শ বিভাগের নিকটপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা প্রকল্পের বিশেষজ্ঞ জুলিয়েন বার্নস-ডেইসি “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে স্বীকার করেছেন যে, বিরোধী পক্ষকে যে সামরিক ভাবে সাহায্য করা হচ্ছে – তা একটা নতুন “মুষ্টি”, যা ইউরোপ বাশার আসাদকে দেখাচ্ছে. কিন্তু ইউরোপে নিজেরাই জানে না, যে এই ভঙ্গিমা কি ভাবে কাজ করবে, তাই তিনি বলেছেন:

“পশ্চিমের দেশ গুলি জানে না, কি করে বিরোধী পক্ষকে সরবরাহ করা অস্ত্র সিরিয়ার পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলবে. সম্ভবতঃ এটা আসাদকে সরিয়ে দিতে সাহায্য করবে. এই প্রসঙ্গে কে তাঁর জায়গা নেবে, তা একেবারেই বুঝতে পারা যাচ্ছে না. তাই ইউরোপের প্রশাসন গুলির পক্ষ থেকে এই নিয়ে একটা দ্বিধা তৈরী হয়েছে যে, এই বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ঠিক হয়েছে কি না”.

দেখাই যাচ্ছে যে, পশ্চিমের তরফ থেকে পরবর্তী কালেও বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সাহায্য করা একেবারে শেষ অবধিই দামাস্কাসের সঙ্গে আলোচনা করার ধারণাকেই কবর দিতে পারে. আর সামরিক ভাবে সিরিয়া সঙ্কটের সমাধান করা হলে তার পরিণাম কি হতে পারে, তা বলতে কেউই পারছে না, এমনকি তারাও, যারা আজ সেই ধারণাকেই বাস্তবায়নের জন্য এত সক্রিয়ভাবে ঠেলে দিচ্ছে.