পারস্পরিক ভাবে সাইবার আক্রমণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের এত বড় মাপের ক্ষতি হচ্ছে যে, এবারে তারা একে অপরকে সাইবার শান্তির প্রস্তাব দেওয়ার কথা ভাবছে. বিশ্লেষক ওলেগ দেমিদভের মতে, এই প্রসঙ্গে প্রমাণ স্বরূপ হতে পারে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার ঘোষণা ও হ্যাকার আক্রমণের জন্য আমেরিকার অভিযোগ নিয়ে চিনের প্রতিক্রিয়া.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি এবিসি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে দেশের সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিপদ বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে ঘোষণা করেছেন. তিনি বলেছেন, এই বিপদের কিছু রাষ্ট্রের তরফ থেকেও স্পনসর করা হচ্ছে এবং চিনকে সাইবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলার জন্য আহ্বান করেছেন. ওলেগ দেমিদভের মতে, এটা প্রথম ঘটনা, যখন ওয়াশিংটন সরকারি ভাবে বেজিংকে হ্যাকার আক্রমণ নিয়ে অভিযোগ করেছে. চিনও উল্টো অভিযোগ এনেছে, কিন্তু প্রস্তাব করেছে যৌথভাবে সাইবার যুদ্ধ হতে না দেওয়ার জন্য নিয়ম তৈরী করার. দুই পক্ষই এই প্রথমবার রাষ্ট্র গুলির তরফ থেকে দায়িত্বজ্ঞান পূর্ণ আচরণের নিয়মের কথা বলেছে, এটা উল্লেখ করে ওলেগ দেমিদভ বলেছেন:

“এই দুটি ঘোষণা প্রমাণ করে দেয় যে, এই পারস্পরিক বিরোধ একটা নতুন স্তরে উন্নীত হয়েছে. কোন পক্ষই নিজেকে আরামদায়ক অবস্থায় দেখতে পাচ্ছে না, নিজেদের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের বিষয়ে যথেষ্ট সুরক্ষিত বলে ভাবতে পারছে না. চিনের লোকরা মনে হয় যে, আমেরিকার প্রত্যুত্তর দেওয়ার মতো ক্ষমতা টের পেয়েছে, কারণ তারা এখন আরও সক্রিয়ভাবে চিনের হ্যাকারদের আক্রমণের উত্তর দিতে শুরু করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এত বড় ধরনের ক্ষতির সামনে উপস্থিত হয়েছে যে, তারা এখন হ্যাকারদের আক্রমণ আটকানোর জন্য এই স্তরে উঠে আসতে বাধ্য হয়েছে, আর তারা মনে করে যে, এটা চিনের কাজ, তাই তৈরী হয়েছে এই নিয়ে সরকারি ভাবেই কথা বলতে. যদিও এই সব হ্যাকার আক্রমণের সঙ্গে বেজিংয়ের যোগাযোগ প্রমাণ করা যেতে পারে না”.

বারাক ওবামার কথামতো, সাইবার আক্রমণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনেক শত কোটি ডলারের ক্ষতির কারণ হয়েছে, শিল্পের নানা গোপনীয় তথ্য হারিয়েছে ও আমেরিকার কোম্পানীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষমতা নষ্ট হয়েছে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ গোয়েন্দা দপ্তর মনে করে যে, তাদের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে হ্যাকারদের আক্রমণ দেশের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশী গুরুতর রকমের বিপদ নিয়ে আসতে পারে, এমনকি তা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের চেয়েও.

বেজিং শহরে একই সঙ্গে না বুঝে পারা যায় নি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার অপরাধ, চিনের পরিকাঠামো ও অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিতে পারে. এখান থেকেই আসছে সাইবার যুদ্ধ রোধ করতে নিয়ম তৈরী করা নিয়ে সমঝোতার জন্য বেজিংয়ের প্রস্তাবের কথা, তাই ওলেগ দেমিদভ বলেছেন:

“এটা ঠিকই যে, প্রথমে, এটা কঠোর আন্তর্জাতিক চুক্তি হবে না. খুব সম্ভবতঃ, এটা “নরম” সব আইনের বিষয়ে সমঝোতা, সাইবার ক্ষেত্রে পারস্পরিক ভাবে কিছু প্রকাশ্য বা গোপনীয় নিয়ম মেনে চলা. সম্ভবতঃ, কিছু বিষয়ের সম্বন্ধে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে, যেগুলির উপরে পক্ষরা আক্রমণ করবে না বলে প্রতিজ্ঞা করবে. সম্ভবতঃ, সাইবার ক্ষেত্রে ঘটনা নিয়ে একে অপরকে জানানো সম্বন্ধে কিছু নিয়মের বিষয়ে সহমত হওয়া হবে, সরাসরি টেলিফোন লাইন তৈরী করে দেওয়া হবে. এটা ইতিবাচক ইঙ্গিত – ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের পক্ষ থেকে বলা কথা ও ব্যবহার নিয়ে নিয়মের প্রসঙ্গ উত্থাপন করাটা অনেকদিন আগেই শুরু করার দরকার ছিল”.

তারই মধ্যে, যখন পক্ষ-দ্বয় সাইবার যুদ্ধ হতে না দেওয়া নিয়ে চুক্তি করে নি. তখন যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, তেমনই চিন বিশেষ ধরনের কাঠামো তৈরী করছে, যারা সেই সাইবার যুদ্ধের জন্য নির্দিষ্ট. তারা শুধু সাইবার ক্ষেত্রই প্রতিরক্ষা করতে সমর্থ নয়, বরং “প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে আক্রমণও” করতে পারে. দুই পক্ষই চায় সাইবার ক্ষেত্রে শান্তি. কিন্তু দুই পক্ষই সাইবার যুদ্ধের জন্য তৈরী হচ্ছে.