রসকসমস ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা প্যারিসে মঙ্গলগ্রহ অভিযানের জন্য “একজোমার্স” নামের যৌথ প্রকল্প নিয়ে চুক্তির শেষ খসড়া সমর্থন করেছে. “একজোমার্স” প্রকল্প নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আগে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার অংশীদার রাষ্ট্র গুলির মন্ত্রী পর্যায়ে সমর্থন করা হয়েছিল.

প্রথম থেকেই “একজোমার্স” প্রকল্প ছিল ইউরোপ ও আমেরিকার. নাসা সংস্থা থেকে ভারী রকেট দেওয়ার কথা ছিল. কিন্তু অর্থনৈতিক কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা এই প্রকল্প থেকে বের হয়ে গিয়েছে, আর ২০১১ সালের শেষে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা রাশিয়াকে এই প্রকল্পে যোগ দিতে অনুরোধ করেছিল. কথা হয়েছিল “প্রোটন” নামের রকেট বাহী মহাকাশ যান নিয়ে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর লেভ জিলিওনি বলেছেন:

“আমরা রকেট দেওয়ার কথা সেই শর্তে বলেছি, যে সম্মিলিত বৈজ্ঞানিক প্রকল্প করতে হবে. এই শর্ত পূরণ হয়েছে. একজোমার্স প্রকল্প দুই অধ্যায়ে হবে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে উড়ান শুরু দিয়ে. ২০১৬ সালে রাশিয়ার অংশ গ্রহণ – এটা প্রোটন রকেটবাহী মহাকাশ যানের সরবরাহ. তার জন্য ইউরোপের কক্ষপথে চলার উপযুক্ত “ট্রেস গেজ অরবিটার” মহাকাশ যানের গ্রহান্তরে যাওয়ার মতো মডিউলকে উপযুক্ত করে বানিয়ে নেওয়া হবে. সেটি মঙ্গলগ্রহের আবহাওয়াতে গ্যাসের চিহ্ন খুঁজবে. সকলের জন্যই খুব আগ্রহের বিষয় হল মিথেন গ্যাসের প্রসারের ধরণ. “অরবিটার” উপগ্রহে দুটি রাশিয়া থেকে পাঠানো যন্ত্র ব্যবস্থা থাকবে: নিউট্রন ডিটেকটর “ফ্রেন্ড”, যাতে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠের উপরে জলের কি রকমের অবস্থা তা বোঝার জন্য আর আবহাওয়া কি দিয়ে তৈরী তা বোঝার জন্য”.

ইউরোপের লোকদের “একজোমার্স” প্রকল্পের প্রথম অধ্যায়ে, কক্ষপথে চলার উপযুক্ত মডিউল ছাড়া আরও একটি তথাকথিত নামার মডিউল থাকবে, যার নাম “ডেমনস্ট্রেটর”. তার কাজ – এমন প্রযুক্তি বানানো বিষয়ে সাহায্য করা, যা মঙ্গলগ্রহের আবহাওয়াতে প্রবেশ, নীচে আসা ও আস্তে নামতে পারবে. এর আগে মঙ্গলগ্রহে নেমেছে শুধু আমেরিকা ও সোভিয়েত দেশের স্টেশন. ২০১৮ সালে এই প্রকল্পের দ্বিতীয় অধ্যায় হবে অনেক বেশী জটিল, তাই লেভ জিলিওনি বলেছেন:

“রাশিয়া থেকে আবার দেওয়া হবে “প্রোটন” রকেট. তাছাড়া রাশিয়া তৈরী করবে নীচে নামার প্ল্যাটফর্ম, যা দুটি কাজ করতে বাধ্য থাকবে. প্ল্যাটফর্ম মঙ্গল পৃষ্ঠে পৌঁছে দেবে “প্যাস্টর” নামের মঙ্গল যান. সেটি তৈরী করা হয়েছে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থায়. তা বর্তমানের “কিউরিওসিটি” নামের আমেরিকার যানের চেয়ে বেশী হাল্কা, কিন্তু তা খুবই ইন্টারেস্টিং. মঙ্গল যানের উপরে থাকবে খনন করার যন্ত্র, যা এই গ্রহ পৃষ্ঠের দুই মিটার নীচে খনন করে দেখতে পারবে, কিন্তু তার থেকেও ইন্টারেস্টিং হবে যা থাকবে এই প্ল্যাটফর্মের উপরে – আর তা সেই গ্রহেই থেকে যাবে. মঙ্গল যান নেমে যাওয়ার পরে কাজ করতে শুরু করবে প্ল্যাটফর্মের উপরে রাখা রুশী বৈজ্ঞানিক যন্ত্র গুলি. সেখানে থাকবে নমুনা সংগ্রহের জন্য ম্যানিপুলেটর. আমরা প্রথমে নিখুঁত ভাবে মঙ্গল যানকে নামিয়ে দেবো, তাকে সরে যেতে দেবো, আর তারপরে নিজেদের রুশ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করব”.

0প্যারিসে স্বাক্ষর হওয়া দলিল শুধু মঙ্গল গবেষণার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং সৌর মন্ডলের অন্যান্য গ্রহ ও উপগ্রহের জন্যও. ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা রাশিয়ার চন্দ্র মিশনেও অংশ নেবে, যা হওয়ার কথা ২০১৭ সালে. তাছাড়া, পরিকল্পনা করা হয়েছে পৃথিবীতে চাঁদের কোন একটি মেরু থেকে মাটির নমুনা নিয়ে আসা হবে. তা বাস্তবায়িত করার মেয়াদ – ২০২০- ২২ সাল. বৃহস্পতি গ্রহেও অভিযানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে.