আপনারা “রেডিও রাশিয়ার” সংবাদ প্রতিবেদন শুনছেন.

বিগত কয়েক দশক ধরে বহু দেশের বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের ধারণার কথা বলছেন, কোথায় অখণ্ড মঙ্গোলীয় রাষ্ট্রের স্থপতি মহান চেঙ্গিসখানের কবর খোঁজা দরকার. আরও একটি প্রস্তাব এবারে নিয়ে এসেছেন কাজাখস্থানের বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির অসকোলকভ. ইন্টারনেটে তার ধারণাকে একটা চাঞ্চল্যকর ধারণা বলা হয়েছে. ভ্লাদিমির অসকোলকভ সেই লোক কাহিনী থেকেই শুরু করেছেন, যা অনুযায়ী চেঙ্গিসখানের কবর লুকোনোর জন্য তা এক হাজার ঘোড়ার পায়ের নীচে পিষে ফেলা হয়েছিল, একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল, আর যারা ঘোড়সওয়ার হয়েছিল, তাদের ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল. এই জায়গাই খোঁজা হয়েছিল এক জনহীন প্রান্তরে, যেখানে মানুষের উপস্থিতির কোন চিহ্নই ছিল না. কাজাখস্থানের এই বিজ্ঞানীর মতে এই ধরনের জায়গা হওয়ার দাবী সম্পূর্ণ ভাবেই করতে পারে রিড্ডার নিম্নভূমি, যা পূর্ব কাজাখস্থানের পাহাড়ী আলতাই এলাকায় রয়েছে. ভ্লাদিমির অসকোলকভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, এই নিম্নভূমি পর্যবেক্ষণের সময়ে শুধু প্রস্তর যুগের মানবের উপস্থিতির চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে. পরে এখানে আর মানুষ বসবাস করে নি. কাজাখস্থানের গবেষক জোর দিয়ে বলেছেন যে, মঙ্গোলীয় সাম্রাজ্যের স্থপতি একবার নিজেই আলতাই পর্ব্বত এলাকাকে নিজের সম্ভাব্য কবর দেওয়ার জায়গা বলে উল্লেখ করেছিলেন.

এই ধারণা নিয়ে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশেষজ্ঞরা খুব বেশী রকমই চুপ করে রয়েছেন. রাশিয়ার এক নেতৃস্থানীয় মঙ্গোলিয়া বিশেষজ্ঞ ও ইতিহাসের ডক্টরেট ভ্লাদিমির গ্রাইভরোনস্কি মনে করেন যে, কাজাখস্থানের এই সহকর্মী আসলে স্রেফ বিখ্যাত হতে চাইছেন, তিনি বলেছেন:

“বর্তমানে চেঙ্গিসখানের নাম এত জনপ্রিয় যে, অনেক বিজ্ঞানীই কিছু একটা চাঞ্চল্যকর খবর আবিষ্কারের আশা করছেন, যা এই নামের সঙ্গে জড়িত. চেঙ্গিসখানের কবর স্থল নিয়ে ইতিমধ্যেই এত গবেষণা হয়েছে যে, পাহাড়ী আলতাই এলাকায় তার কবর আছে, তা খুবই কষ্ট করে বিশ্বাস করতে হয়. এটা আর একটা অনুমান মাত্র. মনে তো হয় না যে, এটা মঙ্গোলিয়া দেশে ও যে সব জায়গায় মঙ্গোলিয়া নিয়ে গবেষণা করা হয়, সেখানে আদৌ কোন রকমের পক্ষে তাকা মানুষ খুঁজে পাবে. এর স্রষ্টা অবশ্যই তাঁর অনুমানের প্রমাণ করতে পারবেন. তবে কোন সত্য আবিষ্কার তাঁর পক্ষে মনে হয় করা সম্ভব হবে না”.

এখনও কেউই কোন আবিষ্কার করতে পারেন নি. শুধু নানা রকমের অনুমান ও ধারণাই রয়েছে. মঙ্গোলিয়া দেশে মনে করা হয় যে, তাদের পূর্ব পুরুষের কবর উলান বাটোর শহরের উত্তরে পাহাড়ী এলাকায় কোথাও, হতে পারে বুরনাখ- হালদুন পাহাড়ে রয়েছে. চিনের বিজ্ঞানীরা দৃঢ় বিশ্বাস করেন যে, চেঙ্গিসখানের কবর চিনের ভিতরেই থাকতে বাধ্য, মঙ্গোলিয়া ও চিনের সীমান্তের কাছে আলতাই পাহাড়ের পাদদেশে, করণ তিনি তাঙ্গুত সি-সিয়া রাজ্য অভিযানের সময়ে মারা গিয়েছিলেন. রাশিয়া বিজ্ঞানীরা আবার মনে করেন যে, চেঙ্গিসখানের কবর খোঁজা উচিত্ তুভা এলাকায়, কারণ ঐতিহাসিক ভাবে এই বাহিনীর নেতার জন্মভূমি সেই এলাকাতেই ছিল, যেখানে প্রাচীন তুভার অধিবাসীরা থাকত. কিন্তু কোন রকমের খননের চিহ্ন এই সব জায়গায় দেখতে পাওয়া যায় না. তাই গ্রাইভরোনস্কি বলেছেন:

“বেশীর ভাগ মঙ্গোলিয়ার লোক তাঁদের ঐতিহ্য মেনে, বলে থাকেন যে, মহান চেঙ্গিসখানের দেহের অবশিষ্টাংশ বিরক্ত করার কোন দরকার নেই.কারণ মঙ্গোল দের কোন “পবিত্র কাহিনী” বা অন্য কোন উত্স থেকে চেঙ্গিসখানের কবরের সত্য জায়গা খুঁজে পাওয়ার কোন নির্দেশ নেই. আর এটা হঠাত্ করে নয়. চেঙ্গিসখানের নামকেই মনে করা হয় পবিত্র, আর তাঁর কবর খোঁজার উপরে রয়েছে মহান নিষেধাজ্ঞা – “ইখ খোরিগ””.

মঙ্গোলিয়া, রাশিয়া, চিন, কাজাখস্থানের বিজ্ঞানীরা অনেক ধারণাই পেশ করেছেন, যে কোথায় চেঙ্গিসখানের কবর খোঁজার দরকার রয়েছে. কিন্তু এই সব গুলিই সম্ভবতঃ বুদ্ধির খেলা হয়েই থাকবে.