বাংলাদেশ জুড়ে হিংসার প্লাবন বয়ে চলেছে. দলেদলে চরমপন্থী মানসিকতার ঐস্লামিক লোক হিন্দু মন্দির ও বাড়ীঘর ধ্বংস করে দিচ্ছে. হিন্দু মন্দির দেখাশোনা করার সংস্থা বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ থেকে দেশে ৪৭টি মন্দির ও কম করে হলেও ৭০০টি বাড়ী হয় জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে, নতুবা তা নষ্ট করে দিয়েছে গুণ্ডা লোকরা.

একই সময়ে দেশের প্রশাসন, বিরোধী পক্ষের সক্রিয় কর্মীদের ধরপাকড় চালিয়ে যাচ্ছে. শুধু গত মঙ্গলবারেই প্রায় ২০০ জন বিরোধী, আর তাদের মধ্যে প্রধান বিরোধী দল বিএনপির (বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি) অনেক নেতারা ধরা পড়েছেন. তাদের মধ্যে ১৫৪ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা দায়ের করা হয়েছে.

মনে হতে পারে যে, ধর্মীয় ভিত্তিতে ভেঙে দেওয়া, ধ্বংস করার সঙ্গে বিরোধীদের গ্রেপ্তারের কি সম্বন্ধ থাকতে পারে – তার মধ্যে যদি দেখা হয় যে প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষ দুই জায়গাতেই বেশীর ভাগ হল মুসলমান? এটা বোঝার জন্য, সমস্ত ঘটনা পরম্পরাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে বলে মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি. তিনি বলেছেন:

“এই বছরের শুরুতে বাংলাদেশের প্রশাসন আদালতে খুবই সক্রিয়ভাবে ঐস্লামিক দল জামাত-এ- ইসলামির নেতাদের সেই সব অপরাধের জন্য উপস্থিত করতে শুরু করেছিল, যা তারা চল্লিশের বেশী বছর আগে করেছে – বাংলাদেশের (সাবেক পূর্ব পাকিস্তান) স্বাধীনতা যুদ্ধের বছর গুলিতে. – সেই বছর গুলিতে ঐস্লামিকেরা পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মূল নির্ভর যোগ্য শক্তি ছিল আর তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা শান্তিপ্রিয় জনগনের উপরে করেছিল – লুঠ, ধর্ষণ ও গণহত্যা.

এই বছরের প্রথম দুই মাসে কয়েকজন বহু পরিচিত জামাত-এ- ইসলামি নেতাকে কঠিন শাস্তি দেওয়া হয়েছে – তার মধ্যে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মৃত্যুদণ্ড অবধি. এই প্রসঙ্গে অনেক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা অঙ্গুলী নির্দেশ করেছে যে, এই বিচার করা হয়েছে তাড়াহুড়ো করে, প্রক্রিয়া উচিত্ মতো পালন না করে, আর রায় অনেক ক্ষেত্রেই আগে থেকে ঠিক করা ছিল.

আজকের দিনে শেষ যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে ফেব্রুয়ারী মাসের শেষে জামাত- এ- ইসলামি দলের উপ সভাপতি দেলোয়ার হুসেন সাঈদীর নামে, তা তার পক্ষের লোকদের মধ্যে খুবই প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে. আর এর পরেই দেশে হয়েছে হিংসার প্লাবন”.

বহু পর্যবেক্ষকই ১৯৭১ সালের ঘটনা নিয়ে এই প্রতিধ্বনি তোলা বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে যেমন উল্লেখ করেছেন যে, দেশের সরকারের শুধু অপরাধীদের ন্যায্য শাস্তি দেওয়ার ইচ্ছাই সক্রিয় করে নি, বরং তাদের এবারে ইচ্ছা হয়েছে বিরোধী পক্ষকে সব থেকে বেশী করে চিহ্নিত করা ও সমর্থন শূণ্য করে দেওয়ার. কারণ জামাত-এ-ইসলামি দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি বিএনপির সহযোগী দল. বিএনপি নেতাদের বিগত কয়েক দিনে হওয়া গ্রেপ্তার থেকে বিচার করলে, এই মূল্যায়ণ ন্যায্য.

এখন প্রশ্ন জাগে কেন ঐস্লামিক চরমপন্থীরা নিজেদের রাগ হিন্দুদের উপরে ঝাড়তে শুরু করেছে, যারা তাদের নেতাদের উপরে বিচারের কাজে কোন ভাবেই জড়িত নয় এখানে ব্যাখ্যা বেশ কয়েকটা হতে পারে, এই রকম উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

প্রথমতঃ, হিন্দুরা আগে থেকেই ভারতের সঙ্গে জড়িত বলে মনে করা হয়ে থাকে, আর তার অর্থ হল যে, ঐস্লামিকদের চোখে, যারা বাংলাদেশকে পাকিস্তানের অংশ করে রাখার জন্যে লড়াই করেছিল, তারা সেই মতবাদেরই বাহক, যা আজ থেকে চল্লিশ বছর আগে দেশ ভেঙে যাওয়ার জন্য দায়ী ছিল. আর সরকারের বিরুদ্ধে খোলাখুলি লড়াই করার মতো শক্তি বা সম্ভাবনা না থাকার কারণে, ঐস্লামিক চরমপন্থীরা নিজেদের ক্ষোভ তাদেরই দেশের সংখ্যালঘু অসহায় ও অন্য ধর্মের লোকদের উপরে অত্যাচার করে প্রশমণের চেষ্টা করেছে. কিন্তু মনে হয় যে, এই ধরনের ব্যাখ্যা খুবই আপাতঃ দৃষ্টিতে দেখা হয়ে যাবে. আসলে এই পুরো ইতিহাসই – আদালতে বিচার থেকে রায় দেওয়া নিয়ে ও তারপরে বিরোধী নেতাদের গ্রেপ্তার হওয়া এবং ধর্মীয় তাণ্ডব ও ধ্বংসলীলা – এক খুব ভাল করে পরিচালিত করে প্রচারের অংশ বলে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, যা করা হয়েছে বর্তমানের প্রশাসনের ক্ষমতা রক্ষার উদ্দেশ্য নিয়েই.”

এখানে শুধু সেটাই ব্যাপার নয় যে, বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বের একাংশ জেলে বন্দী থাকবে অথবা তাদের মৃত্যুদণ্ড হবে, আর বিরোধী দলের ইমেজ নষ্ট হবে. এই সব লুঠতরাজ ও ধ্বংসলীলা পিছন থেকে চালানো শক্তির খুব ভাল করে যোগ-সাজশে করা ও দিক নির্দেশ করে দেওয়া কাজ বলেই মনে হচ্ছে. এবারে এই ধ্বংসের ব্যবহার করা যেতে পারে বিরোধী পক্ষের উপরে পরবর্তী কালে আক্রমণের জন্য ও এমনকি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাতিল করে দেওয়ার জন্য আর বর্তমানের প্রশাসনের ক্ষমতায় থাকার মেয়াদকে ইচ্ছাসুখে বাড়িয়ে নেওয়ার জন্যই. এই রকমই মনে করেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ

0.