ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের এমনিতেই জটিল সম্পর্ক আবার নতুন পরীক্ষার সামনে পড়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ স্বত্ত্বেও তাদের স্ট্র্যাটেজিক জোটের দেশ এবারে ইরান থেকে পাকিস্তান পর্যন্ত গ্যাস পাইপ লাইনের পাকিস্তানের অংশ তৈরীর কাজ শুরু করেছে. এই পাইপ লাইন কাজ করতে শুরু করার কথা ২০১৪ সালের শেষে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড ঘোষণা করেছেন যে, ইসলামাবাদের কাজ আমেরিকার ইরানের সঙ্গে সহযোগিতায় নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনের আওতায় পড়েছে ও আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী পাকিস্তানের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দিয়ে অর্থ লেনদেন বন্ধ হতে পারে ও আমেরিকার পক্ষ থেকে সামরিক সহায়তা দেওয়াও বন্ধ হয়ে যেতে পারে. নাগরিক সমাজ উন্নয়ন তহবিলের বিশেষজ্ঞ ম্যাক্সিম মিনায়েভ বিশ্বাস করেন যে, হোয়াইট হাউস এই কাজ করতে যাবে না, তিনি বলেছেন:

“আফগানিস্তানে সামরিক কাজকর্ম চলাকালীণ আমি তো মনে করি না যে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানকে সারিক সহায়তা দেওয়া বন্ধ করবে. সম্পর্ক নিয়ে সব মিলিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল – এটা অবশ্যই ওয়াশিংটনের জন্য খুব একটা পছন্দসই বাস্তব নয়. কিন্তু বর্তমানে পাকিস্তানের জন্য যারা হোয়াইট হাউসে তদ্বির করছেন, তাঁদের ক্ষমতার কথাও মনে রাখতে হবে. তাঁর মধ্যে রয়েছেন জন কেরি – পররাষ্ট্র সচিব, যিনি ওবামার প্রথম মেয়াদ কালে পাকিস্তানের সঙ্গে সহায়তা বাড়ানো নিয়ে কাজ করেছেন, আর উপ রাষ্ট্রপতি জোসেফ বাইডেন. আমি মনে করি, এই ধরনের ক্রীড়নকরাই পাকিস্তান ইরান প্রকল্পের ফলে হোয়াইট হাউসের জন্য বাড়তি ক্ষতি সম্ভাব্য রকমের কম করানোর জন্য আলাদা করে সুযোগ তৈরী করে দেবেন”.

নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত খুব কঠোর ঘটনা পরম্পরার বাস্তবায়ন উল্টো ফল দেবে.যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদের সঙ্গে সামরিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতা গুটিয়ে ফেলতে শুরু করে, তবে তারা আরও সক্রিয়ভাবে চিনের সঙ্গে গিয়ে জুটবে. ফলে বেজিংয়ের এই এলাকায় প্রভাব বাড়বে, যা আবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের সঙ্গে মেলে না.

গ্যাস পাইপ লাইন তৈরী বন্ধ করার খুবই সুবর্ণ সুযোগ আসতে চলেছে এই মে মাসেই, পাকিস্তানে লোকসভা নির্বাচন হবে. যদি তাতে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুসলিম লীগ জয়লাভ করে, তবে তিনি ইসলামাবাদের বৈদেশিক নীতি পাল্টে দিতে পারেন, এই কথা উল্লেখ করে বিশেষজ্ঞ বলেছেন:

“এটা সমস্ত বিরোধী শক্তির জন্যেই ধ্রুপদী নীতি, যারা ক্ষমতায় আসে. আর তখন পাকিস্তানের আমেরিকার পক্ষের নীতি অনেক বেশী বাস্তব হয়ে দাঁড়াবে, এই পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তান – ইরান গ্যাস পাইপ লাইনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়াকেও বাদ দেওয়া যায় না”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসলামাবাদকে এই প্রকল্প থেকে বিরত হলে অন্য সুযোগ দিতে চেয়েছে. যেমন, তাজিকিস্থান থেকে বিদ্যুত শক্তি পাঠানো, যা বিদ্যুত পরিবাহক তার দিয়ে আফগানিস্তান হয়ে পাঠানো যেতে পারে ও তরল গ্যাস পাওয়ার জন্য সমুদ্রে বন্দর তৈরী করে দেওয়া. কোন একটা প্যাকেজ নিয়ে সৌদি আরব প্রস্তাব করেছিল. তা স্বত্ত্বেও গত বছরের মে মাসে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান হিনা রব্বানি খার ঘোষণা করেছিলেন যে, ইসলামাবাদ বাইরের থেকে দেওয়া চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না ও পাইপ লাইন শেষ অবধি তৈরী হবেই.

পাকিস্তানের লোকদের এই জেদ শুধু অর্থনীতি দিয়েই ব্যাখ্যা করা যেতে পারে না. ২০১১- ২০১২ সালের পরিপ্রেক্ষিতে এই পাইপ লাইন তৈরীকে দেখা যেতে পারে যেন এক ধরনের পেছনে হাঁটা, যা তাদের সকলের খুবই ব্যাথার কারণ হয়েছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে. এখানে পাকিস্তানের এলাকায় ড্রোন বিমান দিয়ে আঘাত হানা, শান্তিপ্রিয় জনগনের মৃত্যু, দেশে মার্কিন গোয়েন্দা বাহিনীর খুবই সক্রিয়তা বৃদ্ধি ইত্যাদি. কিন্তু এই সবই বলা যেতে পারে বন্ধনীর বাইরের ব্যাপার. আপাততঃ পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি যেন সাফাই গাইছেন: “পাকিস্তানের জন্য এই গ্যাস পাইপ লাইন খুবই গুরুত্বপূর্ণ. আমরা মনে করি যে, আমাদের বন্ধুরা এটা বুঝতে পারবেন”.

যদি “বন্ধুরা” - বোঝাই যাচ্ছে যে সমুদ্র পারের – সব ঠিক বোঝে, তবে তারা সামরিক সহায়তা কমাবে না, উল্টো বাড়িয়ে দেবে. কারণ এই গ্যাস পাইপ লাইন নিয়ে শোরগোল তোলা ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহায়তা বাড়ানোর জন্য খেলার অংশও হতে পারে – তা যেমন রাজনৈতিক ভাবে, তেমনই সামরিক ক্ষেত্রেও.