ভারতে মাঝারি পাল্লার সাবসোনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নির্ভয় পরীক্ষা করা হয়েছে. এই রকেট তার গতিপথ থেকে সরে যাওয়ার কারণে ভারতের সামরিক বাহিনীর লোকরা বাধ্য হয়ে নিরাপত্তার কারণে এটিকে মাঝ পথেই ধ্বংস করে দিতে বাধ্য হয়েছেন. এটা খুবই দুঃখজনক ভুল, আর সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, দিল্লীকে এটা নিজেদের রকেট পরিকল্পনার সিদ্ধান্ত থেকে কোন ভাবেই নড়িয়ে দিতে পারবে না, এই রকমই মনে করেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন.

ভারতের জন্য প্রত্যেক রকেট পরীক্ষাই দেশে বহু লক্ষ মানুষের জন্য খুবই মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্যের বিষয়বস্তু হয়ে যাচ্ছে: দেশ পূর্ব দিকের রাজ্য উড়িষ্যার থেকে খবরের অপেক্ষায় রয়েছে. কারণ এখানেই রকেটের উড়ান সম্পন্ন হয়ে থাকে, যা বর্তমানে দেশের সামরিক প্রযুক্তি সম্ভাবনার বিষয়ে এক ভিজিটিং কার্ডের কাজ করছে. প্রায় এই ধরনের অনুভূতিই এক সময়ে সোভিয়েত দেশের মানুষরা বোধ করতেন: সোভিয়েত সময়ের এক জনপ্রিয় গানের লাইন ছিল - “কিন্তু আমরা রকেট তৈরী করে থাকি”, যা সব থেকে ভাল করে দেশের জনগনের মানসিকতার প্রমাণ দিতে, যাঁরা বিজ্ঞান - প্রযুক্তি বিষয়ের শীর্ষে ওঠার ক্ষমতার জন্য নিজেরা গর্ব বোধ করতেন.

এই সপ্তাহে উড়িষ্যায় মাঝারি পাল্লার সাবসোনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নির্ভয় পরীক্ষা করা নিয়ে যা হয়ে গেল, তা দেখা গেল দুঃখের হলেও খুব একটা সফল হয় নি ও অনেক ভারতীয়ের মনেই এই নিয়ে হতাশা বোধ হয়েছে. ভারতীয় সামরিক বাহিনীর মধ্যে সামরিক গবেষণা ও আবিষ্কার সংস্থার প্রতিনিধি রবি গুপ্তা যেমন জানিয়েছেন যে, “প্রায় অর্ধেক পথ অতিক্রম করার পরে নির্ভয় তার গতি পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছিল”, যে কারণে নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই রকেট ধ্বংস করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল. প্রসঙ্গতঃ, এই সংস্থায় কেই এই উড়ানকে অসফল বলে মনে করতে রাজী নন. এই রকেটের উড়ান নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে উড়ানের শুরু হওয়াকে মনে করা হয়েছে আংশিক ভাবে সফল বলে: উড়ান শুরু হয়েছে সফল ভাবে, যে কারণে আমাদের সামনে থাকা কাজ, সম্পূর্ণ না হলেও আংশিক ভাবেই সফল হয়েছে.

সে যাই হোক না কেন, ভারত নিজেদের রকেট সংক্রান্ত পরিকল্পনার কাজে আরও এক ধাপ এগিয়েছে. নির্ভয় উড়ানের পরে দেশ নতুন করে রকেট পরীক্ষার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, কিছু তথ্য অনুযায়ী এই ধরনের রকেট ব্যবহার করে পারমানবিক বোমাও ছোঁড়া সম্ভব. মার্চ মাসে ভারতে ঠিক রয়েছে “ব্রামোস” রকেটের গভীর সমুদ্রের নীচ থেকে উড়ান পরীক্ষার, যা প্রমাণ করে দেবে এই শব্দাতীত রকেট, যা রুশ ভারত যৌথ প্রকল্প “ব্রামোস” তৈরী করেছে, তা জলে ভাসমান যুদ্ধ জাহাজ ও ভূমির মতই ডুবোজাহাজ থেকেও ছোঁড়া সম্ভব. ভারতের নৌ ও পদাতিক বাহিনীর কাছে ইতিমধ্যেই এই ধরনের রকেট রয়েছে.

এটা গোপনীয় নয় যে, ভারতের স্ট্র্যাটেজি নির্মাতারা দেশের রকেট পারমানবিক ক্ষমতাকেই পাকিস্তানকে আটকে রাখার মাধ্যম বলে মনে করে থাকেন. বহু বছর ধরে চলে আসা নয়া দিল্লী ও ইসলামাবাদের মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষার যুদ্ধে, যা রকেট দিয়েই তুলনা করে দেখা হয়ে থাকে, তা নিয়ে কম লেখা ও বলা হয় নি.

পাকিস্তানের সঙ্গেই দ্বিতীয় যে হুমকি ভারতের রয়েছে, তা দিল্লীতে মনে করা হয়ে থাকে চিনকে. “দিল্লী ও বেজিংয়ের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জন্য যথেষ্ট কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগ স্বত্ত্বেও এই সম্পর্কের মধ্যে থাকা বহুদিনের সব সমস্যা কোথাও হারিয়ে যায় নি. আমাদের দেশের এলাকা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে মীমাংসা করা সম্বন্ধে নিজেদের দৃষ্টিকোণ খুবই বেশী করে দূরে রয়েছে”, - মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন দিল্লী শহরে সদর দপ্তর থাকা ভারতীয় বিশ্লেষণ সংস্থা “অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন” এর উপ সভাপতি নন্দন উন্নি কৃষ্ণন. ভারতীয় বিশেষজ্ঞের কথামতো, “ভারতে রকেট প্রযুক্তি নিয়ে আবিষ্কার ও পরীক্ষা এক বহু দিন ধরেই বাস্তব হয়ে থাকা পদক্ষেপের অংশ, কারণ সদ্য বিগত সময়ের আগে দেশের আর্থিক অনটন ও অন্যান্য আটকে রাখার মতো কারণের জন্যই এই ক্ষেত্রের উন্নয়ন হয়েছে প্রতিবেশীদের চেয়ে ধীরে”.

পাকিস্তানে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়ে থাকে: “ভারতে একের পর এক রকেট পরীক্ষা প্রমাণ করে দেয় যে, এশিয়াতে অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঞ্জিনের কাজ ভারতই করছে, যারা প্রত্যেক বারের সঙ্গেই পাকিস্তান ও চিনকে আটকে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলেছে. দিল্লী নতুন করে এশিয়াতে অস্ত্র প্রতিযোগিতার শুরু করেছিল ১৯৭৪ সালে পোখরানে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা করে”, - দূর থেকে তাঁর নিজের ভারতীয় সহকর্মীর কথার সমালোচনা করে বলেছেন ইসলামাবাদে সদর দপ্তর থাকা পাকিস্তানের বিশ্লেষণ কেন্দ্র “প্রজেক্ট ফর পাকিস্তান ইন টোয়েনটি ফার্স্ট সেঞ্চুরির” বিশেষজ্ঞ আখমেত কুরেশী.

সে যাই হোক না কেন, দক্ষিণ এশিয়াতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা এবারে গতি পেয়েছে. এই দৌড়ের শেষ শুধু তখনই হবে, যখন দুই পক্ষই একে অপরকে দানব বানানো বন্ধ করবে. কিন্তু ততদিন অবধি, যতদিন না এটা হয়, দক্ষিণ এশিয়া আরও বহু রকেট উড়ানেরই সাক্ষী হয়ে থাকবে.