রাশিয়ায় বেশ ভালোমাত্রায় জন্মের হার বাড়তে শুরু করেছে. সোভিয়েতোত্তর আমলে প্রথম ২০১২ সালে দেশের ৪০টি অঞ্চলে জনসংখ্যা বেড়েছে. জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করেছে রাষ্ট্রীয় প্রকল্পগুলি, যার সুবাদে চিকিত্সাক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটেছে ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠানকে সরকারী মদতদান কাজে লেগেছে.

গোটা সোভিয়েতোত্তর আমলে রাশিয়ায় জনসংখ্যার সংকট চলছিল. বাসিন্দাদের গড় বয়স ক্রমশ্ঃ বাড়ছিল, শিশুদের জন্ম হচ্ছিল ক্রমশঃই কম হারে. অতএব, জন্মদানে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সক্রিয় নীতি প্রয়োগ করার কোনো বিকল্প নেই. ২০০৬ সাল থেকে রাশিয়ায় শুরু হয়েছিল রাষ্ট্রের তরফ থেকে এই সক্রিয় নীতি প্রয়োগ করা. দ্বিতীয় ও তার পরবর্তী সন্তানের জন্মদানের জন্য পারিতোষিক হিসাবে রাষ্ট্র তথাকথিত মাতৃত্ব পুঁজি দেয়, তবে নগদে নয়, সন্তানদের শিক্ষার খাতে ব্যয় করার জন্য, বা তাদের চিকিত্সার খাতে বা ঘরবাড়ি ভালো করতে. এর মধ্যে আছে বহুসন্তান সম্বলিত পরিবারদের বিনামূল্যে জমি দান, তাদের বিশেষ সুযোগসুবিধা দান. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় দ্যুমার পরিবার, মহিলা ও শিশু সম্পর্কিত কমিটির সভানেত্রী ওলগা বাতালিনা বলছেন, যে দেশে ১০ বছরের চেয়েও কম সময়ের মধ্যে কর্মসূচী বলবত করার সুফল লাভ করা সম্ভব হয়েছে.-

২০০৬ সাল থেকে, যখন রাশিয়ায় জন্মহার বৃদ্ধির সক্রিয় নীতি প্রয়োগ করা শুরু হয়, পরিবারদের আর্থিক মদত দেওয়ার বিভিন্ন কর্মসূচী রুপায়ন করা শুরু হয়, তখন থেকে জন্ম নেওয়া শিশুদের সংখ্যা শতকরা ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, – উল্লেখ করছেন ওলগা বাতালিনা, - ২০০৬ সাল থেকে ২০১২ সালে রাশিয়ায় পরিবারে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সন্তানের জন্মের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে. বিশেষতঃ ২০১২ সাল লক্ষ্যণীয়ঃ ৭৯টি অঞ্চলে জন্মহার বৃদ্ধি পেয়েছে, স্বাভাবিকবাবেই ৪০টি অঞ্চলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে. বাতালিনা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে উদাহরণস্বরুপ ২০১১ সালে সেরকম অঞ্চলের সংখ্যা ছিল মাত্র ২৯টি.

রাশিয়ার বিশাল আয়তন, বৈচিত্র্যময় জলবায়ু ও উন্নত পরিকাঠামোর ঘাটতির দরুন অঞ্চলগুলিতে একটা সমস্যা থেকেই যায় – জনবসতির ঘনত্বের অসাম্য – এই সমস্যার প্রতি মনযোগ আকর্ষণ করাচ্ছেন রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির অন্তর্গত সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ লেওন্তি বীজোভ.-

আমরা লক্ষ্য করছি মেট্রো নগরীগুলিতে অধিবাসীরা বেশি করে এসে থিতু হচ্ছে. আমরা লক্ষ্য করছি দেশের দক্ষিণ প্রান্তে, উত্তর ককেশাসের প্রজাতন্ত্রগুলিতে দ্রুত জন্মদানের হার বাড়ছে. সেখানে খালি জমির ঘাটতি, কর্মনিয়োগের অভাব, বেকারত্বের হার উঁচু. সেখানে সমস্যা হচ্ছে - বাড়াবাড়ি রকমের ঘনবসতি – বলছেন লেওন্তি বিজোভ. একইসময়ে অন্যদিকে রাশিয়ার মধ্যাঞ্চল ফাঁকা পড়ে আছে, সেখানকার ছোটোখাটো শহর ও গঞ্জগুলি. তাই আজকের দিনে আমার মতে, শুধুমাত্র জন্মদানের হার বৃদ্ধি অর্জন করলেই চলবে না, দরকার জনসংখ্যার পরিবর্তনের মাত্রায় যেন একটা সমতা আসে – সেই উদ্দেশ্য কাজ করা – বলছেন সমাজতত্ত্ববিদ.

বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সব অঞ্চলে জীবনযাত্রার মান উঁচু, সেখানে লোকেরা বেশিকাল বাঁচে ও বেশি সন্তানের জন্ম দেয়.