রাশিয়ায় যথেষ্টসংখ্যায় উন্নতমানের উচ্চ শিক্ষালয় রয়েছে. তাদের প্রত্যেকের নিজস্ব ইতিহাস, নিজস্ব ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্য. কোনো শিক্ষায়তন নগরীর একেবারে কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত, যেমন মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়. অন্যরা রাজধানীর শহরতলীতে – যেমন, মস্কোর ফিজিক্স-টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট. ঐ সব শিক্ষায়তন সুপ্রসিদ্ধ জ্ঞানীগুণী অধ্যাপকদের জন্য, নজিরবিহীন ডিপার্টমেন্টগুলির জন্য, যেখানে পড়াশোনা করে রাশিয়া ও পৃথিবীর অন্যান্য দেশ থেকে আসা প্রতিভাবান ছাত্রছাত্রীরা.

রাশিয়ার সব বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বিশেষ স্থান অধিকার করে গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে পড়াশোনা করে মুলতঃ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নাগরিকেরা. রাশিয়ান গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে বহুজাতিকতাঃ ছাত্র ও রিসার্চ স্কলাররা ১৪৬টি রাষ্ট্রের ৪৫০টি জাতির প্রতিনিধি. বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ অন্য রকমের –শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও পারস্পরিক সাহায্যের আবহ. প্রতিষ্ঠার সময়েই এই বিশ্ববিদ্যালয়টিকে এভাবেই ভাবা হয়েছিল.

গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বকালে অধ্যাপকেরা ও কর্তৃপক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য প্রচুর কাজ করেছেন. বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্মদিবস পালন করা হয়ে থাকে প্রত্যেক বছর ফেব্রুয়ারী মাসের প্রথম শুক্রবারে. ২০১৩ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারী ঐ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ বছর পূর্ণ হল. এই ঘটনার প্রতি উত্সর্গীত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ভ্লাদিমির ফিলিপভ তাঁর বক্তৃতায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ইতিহাসের গল্প করেছেন. –

ভেবে দেখুন এখানে ধুধু ফাঁকা মাঠের মধ্যে শূণ্য থেকে বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হয়েছিল. প্রথম অধ্যক্ষের পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন সের্গেই রুমিয়ানতসেভ, যার সামনে কর্তব্য ছিল এক বছরের মধ্যে শুধু ভবন বানানো নয়, শিক্ষাদান প্রক্রিয়া সংগঠন করা. সোভিয়েত ইউনিয়নে আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার উদ্দেশ্য ছিল ৫০-৬০এর দশকে ঔপনিবেশিকদের হাত থেকে স্বাধীনতা পাওয়া জাতিগুলিকে সাংস্কৃতিক সাহায্য যোগানো. বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য দায়িত্ব ছিল এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলির জন্য উন্নতমানের স্পেশ্যালিস্ট তৈরী করা. ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করতো অভিন্ন লক্ষ্য – সেইসময়ে নিজেদের দেশে যে পেশার স্পেশ্যালিস্টের চাহিদা থাকতো, সেরকম পেশাগত শিক্ষালাভ করা.

রাশিয়ার গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ও ইয়ং জেনারেশন এ্যান্ড স্টুডেন্টস এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিপ্লব চন্দ্র সাহা আমাদের তার নিজস্ব ইতিহাসের গল্প করলেন.-

যদি আমি মস্কোর গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না হতে পারতাম, তাহলে আজ আমি যা হয়েছি, তা হতে পারতাম না. আমি সরকারী খরচে ইকোলজি ফ্যাকাল্টিতে ভর্তি হই. সেখানে পড়াশোনা করা ছিল খুবই আগ্রহোদ্দীপক. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ই প্রথম রাশিয়ায় দুই স্তরে শিক্ষাদান পদ্ধতি চালু করেছিল – ব্যাচেলরস এবং মাস্টার্স. আমি রিসার্চ সম্পন্ন করে পি.এইচ.ডি হই. এর সুবাদে ইন্টারভ্যিউ ছাড়াই আমি কাজে নিযুক্ত হই. গণমৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ঈর্ষা করা যায়. তাদের ভরপুর ছাত্রজীবন, বৈচিত্র্যময় অবসর সময়, সুযোগ আছে কয়েকটা বিদেশী ভাষা শেখার, ইচ্ছা থাকলে দুটো ডিগ্রীও পাওয়া যায়. আর সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে – তাদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে যায় বড় পরিপ্রেক্ষিত, জীবনের প্রশস্ত সরনী.

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরে বহু স্নাতকই ডিপার্টমেন্ট, ফ্যাকাল্টি ও নিজেদের অধ্যাপকদের সাথে সহযোগিতা করে. তারা তাদের সন্তানদের, নাতিপুতিদের এখানে শিক্ষালাভ করার জন্য পাঠায় ও চেষ্টা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন না করার.