রাশিয়ার পার্লামেন্টের সদস্যরা ও বড় সরকারি কর্মচারীরা বর্তমানে এক বাছাইয়ের সামনে এসে পড়েছেন: জন্মভূমির কল্যাণে নিয়োজিত হবেন, নাকি নিজেদের ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের কথা ভাববেন. নতুন আইনের খসড়া, যা অনুযায়ী রাজনীতিবিদ ও সরকারি কর্মচারীরা, যারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিযুক্ত হচ্ছেন, তাঁরা বিদেশে কোন রকমের অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন না, এটাই দেখিয়ে দেবে যে, কাদের জন্যে আর্থিক যুক্তি বেশী গুরুত্বপূর্ণ হবে. রাশিয়ার আইন প্রণেতাদের তালিকা এবারে পরিবর্তিত হচ্ছে.

রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাবিত আইন প্রকল্প, দেশের লোকসভার সদস্যরা আপাততঃ শুধু প্রথমবারই পড়েছেন. কিন্তু বাস্তবে তা ইতিমধ্যেই কাজ করতে শুরু করেছে. দেশের লোকসভার কিছু সদস্য ইতিমধ্যেই নিজেদের পদ ছেড়ে দিয়েছেন: কেউ এটা করেছেন স্ক্যান্ডাল করে, কেই নিজে থেকেই ও চুপচাপ ভাবে. উচ্চ কক্ষের প্রতিনিধিরা পছন্দ করেছেন দ্বিতীয় উপায়. গত সপ্তাহে রাজ্যসভার কাছ থেকে বিদায় নিয়েছেন কোটিপতি নিকোলাই অলশানস্কি. রাজ্যসভার স্পীকার ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো সাবধান করে দিয়েছেন যে, আসন্ন সময়ে আরও কিছু সদস্য তাঁদের ম্যান্ডেট জমা দিয়ে দেবেন. রাশিয়াতে ব্যবসা ও ক্ষমতার রাস্তা আলাদা হয়ে যাচ্ছে, এই বিষয়ে মন্তব্য করে রাজনীতি প্রযুক্তি কেন্দ্রের জেনারেল ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

“বোঝাই যাচ্ছে যে, এই আইনের খসড়া সমস্ত সমস্যার সমাধান করে না. কিন্তু তা এক রকমের ক্যাডার ফিল্টার করার পথ হবে, যাতে লোকেরা তাঁদের নিজেদের প্রাথমিক কাজ নিয়ে নিজেরাই স্থির করতে পারেন: হয় তুমি কাজ করবে রাশিয়ার জন্য, অথবা তুমি তোমার জীবনের পরিকল্পনা, নিজের ভাগ্য বিদেশের সঙ্গে জড়াবে - নিজেই ঠিক করে নাও. রাজনীতিবিদদের মত অনুযায়ী, এই আইন যত না বর্তমানে কর্মরত সরকারি কর্মচারী ও পার্লামেন্ট সদস্যদের জন্য তৈরী হচ্ছে, তার চেয়েও বেশী হচ্ছে যারা রাজনীতিতে আসতে চাইবে, তাদের জন্য. যদি কোন ব্যক্তি দেশের সরকারি পরিষেবায় থাকতে চায় অথবা আইন প্রণেতা হতে চায়, তবে তাকে কোন কিছুই বিদেশের সঙ্গে জড়িয়ে রাখতে পারবে না, যাতে তার ওপরে কেউই কোন ভাবে প্রভাব ফেলতে না পারে. পছন্দ হচ্ছে না – তাহলে ব্যবসা কর গিয়ে. আর এই তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে, লোকে কি করে নিজেদের নির্বাচন করতে শুরু করেছে”.

৭৩ বছর বয়সী নিকোলাই অলশানস্কি পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশকে ব্যাখ্যা করেছেন যে, তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কারণে. কিন্তু সেই বাস্তব যে, তাঁর সম্পত্তির পরিমান মূল্যায়ণ করা হয়েছে ৭৫ কোটি ডলার, তা একেবারেই অনিচ্ছা স্বত্ত্বেও সেই চিন্তাই করায় যে, প্রাক্তন সংসদ সদস্য ব্যবসাকেই আইন সৃষ্টির চেয়ে বেশী পছন্দ করেছেন.

তাঁর উদাহরণ অনুসরণ করতে চান রাজ্যসভা সদস্য বরিস শ্পিগেল. সরকারি ভাবে তিনি নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিচ্ছেন যে, ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে, তাঁকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার রক্ষা সংস্থা ফ্যাসিবাদ বিহীণ বিশ্বের সভাপতি পদে নির্বাচন করা হয়েছিল, আর বর্তমানে চালু আইনের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ সদস্য আন্তর্জাতিক সংস্থা কোন পদের সঙ্গে নিজের সদস্যপদ একই সঙ্গে রাখতে পারেন না. কিন্তু একই সঙ্গে, ভুলে গেলে চলবে না যে, ১৯৯০ সালে শ্পিগেল বায়োটেক নামে কোম্পানী তৈরী করেন ও এই কোম্পানী বর্তমানে রাশিয়ার একটি অন্যতম বড় ওষধি উত্পাদন ও বিক্রয় কোম্পানী. পরে তিনি এর পরিচালন ভার নিজের স্ত্রীর হাতে তুলে দেন, কিন্তু নতুন আইনে সংসদ সদস্যের পরিবারের লোকরাও আওতায় পড়েন. আর শ্পিগেল পত্নী বিদেশে স্থাবর সম্পত্তি ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মালিক এবং তাঁদের পরিবারের বার্ষিক আয় মূল্যায়ণ করা হয়েছে ৪৩ লক্ষ ডলার.

রাজ্যসভা ছেড়ে যে সমস্ত সদস্যরা শীঘ্রই যেতে পারেন, তাদের মধ্যে বিশ্লেষকরা আরও কিছু রুশ কোটিপতি লোকের নাম উল্লেখ করেছেন. এঁরা সকলেই তাঁদের ব্যবসায়িক কাজকর্মের কথা গোপন করেন নি, তাই তাঁদের বেছে বার করাও কঠিন নয়. অন্য কথা হল রাজনৈতিক নেতারা, তাঁদের ব্যবসার সঙ্গে যোগাযোগ ততটা প্রসারিত ভাবে জানা নেই. প্রসঙ্গতঃ, তাঁদের পক্ষেও এই আইন এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব হবে না, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে রাজনীতিবিদ সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

“এই আইন এক ধরনের হিসাবের কায়দার কথা বলেছে. আপাতঃ ভাবে বললে, যদি কোন লোকের সম্পত্তি থাকে, ব্যবসা বা বিদেশে অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে তা লুকোনোর চেষ্টা করলে সে ফৌজদারী আইনের আওতায় পড়বে. অর্থাত্ এই আইন আরও বেশী করেই তার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করবে. সেই সব প্রবল শোরগোল ঘটানো দুর্নীতি সম্পর্কিত মামলা গুলির কথা তুললে, যা এখন দেশে হচ্ছে, তাতে আমি মনে করি না যে, কোন সংসদ সদস্য ঝুঁকি নিতে যাবে কোন রকমের লোক ঠকানোর পথ নিয়ে”.

রাশিয়ার রাজনৈতিক উচ্চ কোটির লোকদের মধ্যে গুরুতর পরিবর্তনই আসতে চলেছে.