রাশিয়ার মোবাইল অপারেটর আবার ভারতের বাজারে ফিরে আসছে. সিস্টেমা শ্যাম টেলিসার্ভিসেস লিমিটেড – রাশিয়ার “আএফকে সিস্টেমা” কোম্পানীর একটি যৌথ উদ্যোগ ভারতের আটটি টেলিযোগাযোগ এলাকায় বেতার তরঙ্গ ব্যবহারের বিষয়ে টেন্ডার জিতে নিয়েছে. এটা অবশ্যই ভারতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় অসামরিক বিনিয়োগ প্রকল্পের সাফল্যের নিদর্শন.

এসএসটিএল দিল্লী, কলকাতা, গুজরাট, কর্নাটক, তামিলনাডু, কেরালা, উত্তর প্রদেশ (পশ্চিম) ও পশ্চিমবঙ্গে লাইসেন্স পেয়েছে. কোম্পানী একই সঙ্গে রাজস্থান রাজ্যে নিজেদের কাজ চালিয়ে যাবে. এর ফলে দেশের নয়টি এলাকায় এক কোটির বেশী মানুষ এসএসটিএল কোম্পানীর পরিষেবা ব্যবহার করতে পারবেন.

ভারতের সুপ্রীম কোর্ট গত বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ১১টি অপারেটরের লাইসেন্স ফেরত চেয়েছিল, যারা ২০০৮ সালের পরে এই লাইসেন্স পেয়েছিল. এসএসটিএল হারিয়েছিল ২১টি লাইসেন্স. এর কারণ হয়েছিল তখনকার যোগাযোগ মন্ত্রী এ. রাজার দুর্নীতি মূলক কাজকর্ম. এই বেতার তরঙ্গ গুলিতে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল কোন রকমের প্রতিযোগিতা ছাড়া ও দাম কমিয়ে. মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ও তার বিরুদ্ধে মামলা আদালতে পাঠানো হয়েছিল. মনে হতে পারে যে, এটা একেবারেই ভারতের আভ্যন্তরীণ বিষয়. কিন্তু এই দুর্নীতি মোকাবিলার লড়াইতে বিদেশী মোবাইল অপারেটর কোম্পানী গুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, - এই কথা উল্লেখ করে “আএফকে সিস্টেমা” কোম্পানীর প্রতিনিধি ইউলিয়া বেলোউস বলেছেন:

““আএফকে সিস্টেমা”, যারা সেই সময়ে প্রায় তিনশো কোটি ভারতীয় টেলিযোগাযোগ বাজারে বিনিয়োগ করে বসেছিল ও একেবারে শূণ্য থেকে মোবাইল পরিষেবার নেটওয়ার্ক তৈরী করেছিল, যা আজ সারা ভারতের সমস্ত এলাকাতেই রয়েছে, তা ভারতের সুপ্রীম কোর্টের সিদ্ধান্তে খুবই নিরাশ হয়েছিল. বাস্তবে “আএফকে সিস্টেমা” ও তাদের অনুজ কোম্পানী এসএসটিএল বাধ্য হয়েছিল সেই কারণে দায়ভার নিতে, যে তারা মোবাইল পরিষেবার লাইসেন্স ক্রয়ের বিষয়ে সুবিবেচক ক্রেতার ভূমিকা নিয়েছিল. কারণ “আএফকে সিস্টেমা” নিশ্চিত ছিল যে, ভারতীয় টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় যে প্রক্রিয়া স্থির করেছে, তা দেশের আইন সঙ্গত”.

ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসাবে “আএফকে সিস্টেমা” সংস্থা ভারতের আদালতে পাল্টা ক্ষতির কারণে অভিযোগ করেছিল. কিন্তু ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট তা মেনে নেয় নি. এটাও ঠিক যে, সমস্ত বাতিল হওয়া লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল ১১ই মার্চ পর্যন্ত. ভারতীয় সরকার ২০১২ সালের নভেম্বর মাসে নতুন করে এই তরঙ্গের টেন্ডার আয়োজন করেছিল, কিন্তু এসএসটিএল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে, শুরুর জন্য যে দাম দেওয়া হয়েছে, তা খুবই বাড়ানো ও তাতে অংশ নিতে চায় নি.

এবারে মনে হচ্ছে যে, “আএফকে সিস্টেমা” ও এসএসটিএল, ভারতীয় প্রশাসনের সঙ্গে একটা সমঝোতায় পৌঁছতে পেরেছে. নতুন লাইসেন্সের জন্য এসএসটিএল ১০ বছর ধরে ৩৬ কোটি ৮০ লক্ষ ডলার দেবে, যদিও শুরুতে এর জন্য দাম চাওয়া হয়েছিল ৬৬ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার. বর্তমানের লাইসেন্স গুলির দাম কমানো সম্ভব হয়েছে আগের লাইসেন্স গুলির জন্য দেওয়া ২৯ কোটি ৭০ লক্ষ ডলার হিসেবের মধ্যে এনে. এই অকশনের নিয়ম অনুযায়ী আগামী দশ দিনের মধ্যে এসএসটিএল মোট অর্থের শতকরা ২৫ ভাগ দিতে বাধ্য. বাকী অর্থ কোম্পানী ২০১৬ সালের মার্চ মাস থেকে দশটি সমান ভাগে প্রতি বছরে দিতে থাকবে.

লাইসেন্সের দাম কমাতে পেরে এসএসটিএল নিজেদের কার্য পরিচালনার ক্ষেত্রে ক্ষতির ভাগ কমাতে পারবে. এর ফলে কোম্পানী মোবাইল পরিষেবার ক্ষেত্রে গুণগত মান বাড়ানোর দিকে নজর দিতে পারবে, আর তারই সঙ্গে এলটিই প্রযুক্তি স্তরে উন্নীত হতে পারবে. সেই সমস্ত এলাকা, যেখানে এসএসটিএল লাইসেন্স পেয়েছে, সেখানে শতকরা ৬০ ভাগেরও বেশী তথ্য সরবরাহ পরিষেবা নেওয়ার মতো গ্রাহক রয়েছেন. আজকেই ভারতের ১ কোটি ৬০ লক্ষ মানুষ রাশিয়ার “আএফকে সিস্টেমা” সংস্থার পরিষেবা ব্যবহার করছেন.