১৩ই মার্চ লন্ডনে ২+২ কাঠামোয় রাশিয়া ব্রিটেন আলোচনা সভা বসবে. এই কাঠামোর মধ্যে দেখা করবেন দুই দেশের পররাষ্ট্র প্রধান ও প্রতিরক্ষা প্রধানরা. এই সাক্ষাত্কারের প্রাক্কালে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, স্ট্র্যাটেজিক ভাবে বেশীর ভাগ সমস্যার ক্ষেত্রে দুই দেশের অবস্থান একই ও আলাদা সমস্যা গুলি সহযোগিতার পথে অন্তরায় হতে পারে না.

একই সময়ে যেমন ফ্রান্সের সঙ্গে, তেমনই ইতালির সঙ্গে একই ধরনের সহযোগিতা আজ বছর দশেক ধরেই সফল ভাবে উন্নতি করছে, গ্রেট ব্রিটেনের সঙ্গে এতদিন পর্যন্ত সবই থেমে ছিল ঘোষণার পর্যায়ে. দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কে উষ্ণতা বৃদ্ধি শুরু হয়েছে ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে মন্ত্রীসভায় সংরক্ষণশীল দল ক্ষমতায় আসার পর থেকে. গত দুই বছর ধরে মস্কো ও লন্ডনের মধ্যে যোগাযোগ সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে শুরু হয়েছে. বিবিসি সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ উল্লেখ করেছেন যে, এই রকমেরই একটি সদ্য হওয়া শীর্ষ পর্যায়ের সাক্ষাত্কারের সময়ে ঘোষণা করা হয়েছিল বাস্তবে সহযোগিতা করার পর্যায়ে স্থানান্তর হওয়া নিয়ে, তিনি বলেছেন:

“গত বছরে গ্রীষ্মকালে ভ্লাদিমির পুতিনের লন্ডন সফরের সময়ে আমাদের দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি নিয়ে কথা হয়েছিল. শীর্ষ পর্যায়ে যে ২+২ কাঠামোয় আলোচনা শুরু করার কথা হয়েছিল, তা দুই পক্ষেরই দিক থেকে পরবর্তী সময়ে সম্পর্ক ভাল করার জন্য পরিস্থিতি তৈরীর ইচ্ছার কথাই প্রমাণ করে”.

লাভরভের কথামতো, এই সাক্ষাত্কারের সময়ে যে ভরসা যোগ্যতার পরিবেশ তৈরীর কথা হচ্ছে, তা আমাদের সুযোগ করে দেবে যে কোন প্রস্তাবকেই যথাসম্ভব খোলাখুলি ভাবে আলোচনা করার ও একে অপরের কথা শোনার সুযোগ করে দেবে. দুই দেশের মধ্যে যে বিষয় গুলিতে পার্থক্য রয়েছে, তা আগের মতই কম নয়. যেমন – সিরিয়ার সঙ্কট. বিবিসি সংস্থাকে দেওয়া সেই সাক্ষাত্কারেই সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন যে, তিনি দেশ গুলির মধ্যে সিরিয়া নিয়ে পরিণামে যা পাওয়া যাওয়ার লক্ষ্য সম্বন্ধে কোন গুরুতর মত পার্থক্য দেখতে পাচ্ছেন না. কিন্তু তিনি স্বীকার করেছেন যে, কৌশলগত প্রভেদ রয়েছে. মস্কো ও লন্ডন ঘোষণা করছে রাজনৈতিক ভাবে শান্তির পথে এই বিরোধের অবসানের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে. কিন্তু লাভরভের সহকর্মী উইলিয়াম হেগ, কয়েকদিন আগে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের প্রতি করা এক ঘোষণাতে বলেছেন: কূটনীতি ও আলোচনায় খুবই বেশী সময় যাচ্ছে. তাই ব্রিটেন বিরোধী পক্ষকে সাহায্য বাড়িয়ে দেবে, তার মধ্যে অস্ত্র সরবরাহও থাকবে.

একই সঙ্গে উল্লেখ করার মতো মনে হতে পারে হেগ যে ঘোষণা করেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের আলাদা কিছু সদস্য বাশার আসাদকে সমর্থন করা চালিয়ে যাচ্ছেন, যা তাঁকে সামরিক কাজকর্ম চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে উত্সাহ দিচ্ছে. বুধবারে মন্ত্রীদের সুযোগ হবে এই বিবাদ নিয়ে আলোচনা করার. অন্যান্য দিক থেকে – আফগানিস্তান নিয়ে সহযোগিতা, উত্তর কোরিয়া ও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা ইত্যাদি নিয়ে মস্কো ও লন্ডন সক্রিয়ভাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের আওতায় কাজ করছে. নতুন কাঠামো সুযোগ করে দেবে এই সকল প্রশ্ন নিয়ে দ্বিপাক্ষিক স্তরে কাজ করার, এই কথা উল্লেখ করে রাজনীতিবিদ আন্দ্রেই কুলিকভ বলেছেন:

“আফগানিস্তান নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল এখানে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া নিয়ে কথা হচ্ছে. গ্রেট ব্রিটেন অনেকটাই নিজেদের বাহিনী কমিয়ে ফেলছে. গত বছরের মতই, এই বছরেও আশা করা হচ্ছে অনেক কম করা. তাই এখানে কথা হতে পারে উলিয়ানভস্ক শহরের অন্তর্বর্তী ঘাঁটি ও অন্যান্য সম্ভাবনা নিয়ে”.

আফগানিস্তানের বিষয়, মালির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে রকমের করা হচ্ছে, সেই ভাবেই সম্ভবতঃ আলোচনার সময়ে প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধানদের মধ্যে আলোচিত হবে. তাছাড়া, বিশেষজ্ঞরা পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, সের্গেই শইগু ও ফিলিপ হ্যামন্ড ইউরোপে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রসারের সমস্যা নিয়েও আলোচনা করবেন.