ইউক্রেনের সাংবাদিকা আনহার কোচনেভা, যিনি সোমবার সিরিয়ার জঙ্গীদের কাছে বন্দী দশা থেকে পালাতে সক্ষম হন, জানিয়েছেন যে, গুণ্ডারা তাঁকে হত্যা করতে চেয়েছিল. মস্কোর কমসোমোলস্কায়া প্রাভদা পত্রিকাকে প্রদত্ত ইন্টারভিউতে কোচনেভা বলেন যে, তিনি বুঝেছিলেন যে, বাঁচার সুযোগ, বন্দী দশা থেকে পালানোর সুযোগ আসতে পারে শুধু একবারই. তিনি মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর অপহরণকারীরা হোমসের কাছে তাঁর গাড়ি দখল করে তাঁকে নিয়ে যায় সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে কুসেইরা-তে. সেখানে তাঁকে পাঁচ মাস বন্দী অবস্থায় থাকতে হয়েছে, তাঁর শরীরের ওজন কমে যায় ৩০ কিলোগ্রাম, তাঁকে প্রকৃতপক্ষে খোলা আকাশের নিচে থাকতে হয়েছে, সব সময় থাকতে হয়েছে ধর্ষণের ভয়ে. তাঁর কথায়, তাঁর মুক্তির বদলে দাবি করা হয়েছিল ১০ জন বন্দীকে মুক্ত করার, তবে পরে জঙ্গীরা এ দাবি ত্যাগ করে এবং তাদের অবস্থানের জায়গায় মানবতাবাদী সাহায্য পাঠানোর অনুরোধ করে. এ দাবিও তারা ত্যাগ করে এবং তাঁর মুক্তির বদলে ৫ কোটি ডলার দাবি করে. পরে এ সংখ্যাটি তারা ৫০ লক্ষ পর্যন্ত কমিয়ে আনে. ফেব্রুয়ারীর শেষ দিকে কোচনেভা-কে জানানো হয় যে, তাঁকে ছেড়ে দেওয়া যেতে পারে, যদিও তিনি তা বিশ্বাস করেন নি. তিনি জানান যে, জঙ্গীরা “আল-জাজিরা” টেলি-চ্যানেলের জন্য তাঁর আবেদন রেকর্ড করতে চেয়েছিল. তাঁকে বলা হয়েছিল যে, এ আবেদনে তিনি যেন বলেন যে, সিরিয়ার কর্তৃপক্ষের জন্য গুপ্তচর হিসেবে কাজ করছিলেন, আর তারপর জঙ্গীরা তাঁকে ছেড়ে দেবে. সাংবাদিকা বলেন যে, “এর পরে তারা আমাকে মেরে ফেলত আর বলত যে, সিরিয়ার নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে মেরে ফেলেছে গোপন তথ্য ফাঁস করার জন্য”. তিনি পালাতে সক্ষম হন জঙ্গীদের চৌকি এড়িয়ে গেট পার হয়ে. প্রায় দৌড়ে অতিক্রম করেন ১৫ কিলোমিটার পথ, তারপর দেখা হয় এক সিরিয়াবাসীর সাথে, যে বাস করে সেই গ্রামে যেখানে জঙ্গীদের প্রতি মনোভাব নেতিবাচক. গ্রামবাসীরা কোচনেভা-কে সেই সব লোকেদের সাথে যোগাযোগ করতে সাহায্য করে যারা তাঁর খোঁজ করছিল. আনহার কোচনেভা সিরিয়া ত্যাগ করতে চান তাঁর দলিলপত্র পুনর্স্থাপিত হলেই, আর তার পরে দেশের কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষ্য দেবেন তাঁকে অপহরণ এবং বন্দী অবস্থায় থাকা সম্পর্কে. এ সম্বন্ধে “ইন্টারফাক্স-উক্রাইনা” সংবাদ এজেন্সিকে মঙ্গলবার বলেছেন সাংবাদিকা-র এক আত্মীয়.