সেন্ট-পিটার্সবার্গের জারস্কাতসেলস্কি মিউজিয়ামের প্রধান রক্ষকের ক্যাবিনেট আজ প্রাচীণ সুগন্ধীর সৌরভে ভরে গেছে. বিংশ শতকের সূচনায় ঐ সব সেন্ট, অডিকোলন ব্যবহার করতেন রাশিয়ার জারের পরিবারের সদস্যরাঃ সম্রাট দ্বিতীয় নিকোলাই, সম্রাজ্ঞী আলেক্সান্দ্রা ও তাদের চার কন্যা. সুক্ষ সৌরভ উদ্ভাবন করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন সেকালে ইউরোপের সেরা পারফিউমাররা. এমনকি সুগন্ধীর পাত্রগুলি পর্যন্ত ছিল দর্শনীয় শিল্পদ্রব্য.

৬ বোয়েম সেন্ট জারের পরিবার সংগ্রহ করেছিল ইউরোপ ও আমেরিকায় বিভিন্ন নীলামে. সবচেযে বড়টা – ওডিকোলনের পাত্র, যার ঢাকনাটি দামী সব ধাতু দিয়ে বানানো, সেখানে জার দ্বিতীয় নিকোলাইয়ের নাম খোদাই করা. গেরস্থালীর ক্ষেত্রে নিকোলাই ছিলেন খুবই বিনয়ী এবং হীরে ও সোনা দিয়ে বানানো সুগন্ধীর পাত্রটি জার উপহার পেয়েছিলেন একজন ইউরোপীয় রাজদূতের কাছ থেকে. দুর্ভাগ্যক্রমে, পাত্রটির ভেতরের সারবত্তা বহুদিন আগেই খরচা হয়ে গেছে.

জারকন্যা রাজকুমারী তাতিয়ানার প্রিয় সেন্টগুলি কিন্তু এখনো অবশিষ্ট আছে. সুগন্ধীরসিকদের কথায়, গন্ধ অবিস্মরণীয়. এবং তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ ওসব নিয়ে কাজ করেছিলেন ইউরোপের শ্রেষ্ঠ পারফিউমারেরা. সুগন্ধ ধরে রাখার জন্য মিউজিয়ামে চেষ্টা করা হয় কদাচিত বোয়েমগুলো খোলার.

ফুলের দোকানে ঢুকে জারের পরিবারের সংগৃহীত সেন্টগুলির সৌরভ সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যেতে পারে. প্রাচীণকালে শুধুমাত্র প্রাকৃতিক কমপোনেন্ট ব্যবহার করা হত, তাই গন্ধ সাথেসাথে টের পাওয়া যায়. যেমন, সম্রাজ্ঞী আলেক্সান্দ্রা বড় ভালোবাসতেন সাদা গোলাপ এবং রাজকুমারী ওলগা ভালোবাসতেন চায়ের রঙের গোলাপ. এক রাজকুমারীর সবচেয়ে প্রিয় ফুল ছিল জাসমিন, অন্যজনের – লিলি.

সেযুগে সমাজের উপরমহলে সেন্টের ব্যবহার ছিল অবধারিত. বল ড্যান্সের আগে এমনকি ড্যান্সহলের দেওয়ালগুলোতে পর্যন্ত সুগন্ধী ঢালা হত. জমিদার গৃহিনীরা ভালোবাসতেন অর্কিড ও ভ্যানিলা, বিশেষতঃ ‘সম্রাজ্ঞীর প্রিয়তম ব্যুকে’. পরে সোভিয়েত আমলে ঐ সব সুগন্ধীর নাম বদলে নতুন নাম দেওয়া হয়েছিল – ‘লাল মস্কো’. বহুকাল ঐসব সুগন্ধী সোভিয়েত নারীদের প্রিয়তম ছিল.

বর্তমানে প্রাচীণ যুগের সুগন্ধী সংরক্ষিত আছে শুধু মিউজিয়ামে. আমাদের আমলে ঐ সব সুগন্ধীর অনেক কম্পোনেন্ট ব্যবহার করা হয় না, এ্যালার্জির কারণে নিষিদ্ধ হওয়ায়. তাছাড়া ফ্যাশনও আজকাল অন্য. সেন্টে তরমুজ, ফুটি, স্ট্রবেরি ইত্যাদির গন্ধ পাওয়া যায়. জারের আমলে ঐ সব সৌরভ আজব বলে মনে হতে পারতো. আর আমাদের অবশ্যই বিস্মিত করে সেকালের সব সৌরভ. যাতে ইচ্ছুক সকলে সেন্টগুলির ঘ্রাণ গ্রহণ করতে পারে, সেজন্য শীঘ্রই সেগুলিকে সম্রাজ্ঞী ও রাজকুমারীদের কক্ষে স্থান দেওয়া হবে. যে সব সুগন্ধকে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি, সেগুলোকে আবার নতুন করে সৃষ্টি করার চেষ্টা করবেন আধুনিক পারফিউমারেরা. যদি তারা তা করতে সমর্থ হন, তাহলে রাজপ্রাসাদে যাওয়া দর্শকরা ঘরে ঘরে অনুভব করবেন চমত্কার সৌরভ.