ব্রিকস দেশ গুলির সম্মিলিত অর্থনৈতিক স্বার্থ ও বিদেশী মুদ্রা যুদ্ধের সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা ঢাল হিসাবে ব্যবহার যোগ্যতাই সম্মিলিত ভাবে বিকাশ ব্যাঙ্ক তৈরীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত মূলক যুক্তি হতে পারে. এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা “রেডিও রাশিয়াকে” বলেছেন. পাকাপাকি সিদ্ধান্ত বিকাশ ব্যাঙ্ক স্থাপনের বিষয়ে নেওয়া হতে চলেছে ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার শীর্ষবৈঠকে, আগামী ২৬- ২৭ মার্চ ডারবান শহরে. এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন রাশিয়ার উপ অর্থমন্ত্রী সের্গেই স্তরচাক.

বিকাশ ব্যাঙ্ক তৈরী করা হচ্ছে ব্রিকস গোষ্ঠীর কাঠামোর মধ্যে বাণিজ্য ও পরিকাঠামো সংক্রান্ত প্রকল্প গুলিকে রূপায়নের জন্য. রাশিয়া আশা করছে যে, ডারবান শহরের শীর্ষ সম্মেলন এই প্রতিষ্ঠান তৈরীর রাজনৈতিক লক্ষ্যের বিষয়ে যে প্রশ্ন রয়েছে, তার সম্পূর্ণ উত্তর দিতে সক্ষম হবে. এই বিষয়েই ঘোষণা করেছেন সের্গেই স্তরচাক. এর পরে ব্যাঙ্ক তৈরী ও তার সনদ নিয়ে কাজ শুরু হবে. পাঁচটি দেশের জোট এই বিষয়ে একমত যে, অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তব ক্ষেত্র গুলিতে উন্নয়ন করা দরকার, পরিকাঠামো আরও নিখুঁত করা দরকার. এটা এই ব্যাঙ্কে দেশ গুলির মধ্যে নেতৃত্বের জন্য প্রতিযোগিতার সম্ভাবনাকেই বাদ দেয়, এই কথা মনে করে মস্কোর হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের প্রফেসর ইওসিফ দিসকিন বলেছেন:

“আমি মনে করি না যে, এই ব্যাঙ্কের পরিসরে যেমন রাশিয়া ও চিনের মধ্যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রশ্নের উদয় হতে পারে. এখানে প্রতিযোগিতা থাকবে সেই প্রকল্প গুলির বিষয়ে, যেই গুলির খুবই স্পষ্ট অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য থাকবে – ঝুঁকি, মেয়াদ, ঋণ প্রত্যর্পণের সময়সীমা, প্রাথমিক গুরুত্ব এই সমস্ত বিষয়ের মধ্যে. তার ওপরে এখানে শুধু সেই ধরনের কথা হবে না যে, এই ব্যাঙ্ক শুধু সেই সমস্ত দেশের প্রকল্প গুলিতে ঋণ দেবে, যেগুলি এই গোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে, বরং সেই সব দেশও, যেগুলির অর্থনৈতিক সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে”.

এখনই আলোচিত হচ্ছে ব্যাঙ্কের চার্টার ক্যাপিটালের পরিমান নিয়ে, জানিয়েছেন সের্গেই স্তরচাক. এখানে পরিমানের স্তর যথেষ্ট উঁচু, ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার কোটি ডলারের সমান. কিন্তু এই পরিমান অর্থ যোগাড় করা খুব সহজ হবে না. “ফেবিকে” সংস্থার স্ট্র্যাটেজিক বিশ্লেষণ বিভাগের ডিরেক্টর ইগর নিকোলায়েভ মনে করেন যে, ব্রিক দেশ গুলির নতুন বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের ঢেউ এর কারণেই এত পরিমান অর্থ যোগাড়ের সামর্থ্য হবে না, তিনি বলেছেন:

“যখন প্রশ্ন ওঠে যে – কত অর্থ প্রত্যেক দেশকে এই ব্যাঙ্কের তহবিলে দিতে হবে ও সম্মিলিত ব্যাঙ্কের চার্টার ক্যাপিটালে তা জমা করতে হবে, তখন দেখা যায় যে, সকলেরই এই অর্থ দিতে গিয়ে দুঃখ হচ্ছে. সমঝোতায় পৌঁছনো খুবই কষ্টকর. আর যদি কোন একটা সংখ্যাতে পৌঁছনো সম্ভব হয়ও, তবে দেখা যায়, যে এটা খুব একটা বড় সংখ্যা নয়. আর বিকাশ বা উন্নয়ন ব্যাঙ্কের দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিমান সেই রকম করতে পারে না যাতে, এই ব্যাঙ্ক ঠিক সেই রকমেই হয় – যা হওয়া দরকার এক উন্নয়ন ব্যাঙ্কের”.

চার্টার ক্যাপিটালে অংশ নেওয়ার অর্থ হল কোন একটি বা আরেকটি দেশের ব্যাঙ্কের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে ভোটের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা. এই প্রশ্নের আপাততঃ সিদ্ধান্ত করা হয় নি বলে ঘোষণা করেছেন সের্গেই স্তরচাক, কিন্তু তিনিই আবার বলেছেন যে, রাশিয়া এই মূলধনে ওজনের অনুপাত নিয়েই প্রস্তাব করবে, আর এটা দেখাই যাচ্ছে. কিন্তু এটা সেরকম কোন প্রশ্ন নয় যে, এই ব্যাঙ্ক সৃষ্টির সময়েই এর স্রষ্টা দেশ গুলির মধ্যে বিবাদের সৃষ্টি করবে, এই রকম মনে করে ইওসিফ দিসকিন বলেছেন:

“ব্রিকস দেশ গুলির নেতারা খুবই সাবধান ভাবে কাজ করছেন, যাতে একে অপরের স্বার্থে আঘাত না করে বসেন. আমি মনে করি না যে, এখানে কোন একটা গুরুতর কলহের সম্ভাবনা রয়েছে, এমনকি কোন পূর্বাভাসও দেখতে পাচ্ছি না যে, এটা দেশ গুলির মধ্যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সূচনা করবে”.

ব্রিকস দেশ গুলি একে অপরকে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে নিজেদের মুদ্রা নিয়েই কাজ করার বিষয়ে ইতিমধ্যেই সমঝোতা করেছে, যাতে ডলার ব্যবহারের ক্ষেত্র কমে যায়. তারই মধ্যে বিনিময় মুদ্রার বাজারই বিগত কয়েক মাস ধরে উপচে পড়েছে সস্তা ডলারে, যেমন হয়েছে দুর্বল ইউরো ও ইয়েন আসায়. বিশেষজ্ঞরা খুবই গুরুত্ব দিয়ে নতুন বিনিময় মুদ্রা যুদ্ধ নিয়ে কথা বলছেন. ঋণ- বিনিয়োগ হিসাব নিকাশের ক্ষেত্রে ব্রিক দেশ গুলির মুদ্রা ব্যবহারের ফলে উন্নয়ন ব্যাঙ্কের ভিতরে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে কৃত্রিম ভাবে ডলারের দাম নিয়ে দর ওঠা নামার হাত থেকে. আর এই যুক্তিই, বিশেষজ্ঞদের মতে, ডারবান শহরে ব্রিকস দেশগুলির শীর্ষ সম্মেলনে উন্নয়ন বা বিকাশ ব্যাঙ্ক সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক যুক্তি হতে পারে.

পঞ্চ রাষ্ট্রের নেতারা বুঝতে পারেন যে, এখন ঠিক সেই সময় এসেছে, যখন বিনিময় মুদ্রার কারবারের বিশ্ব বাজারের ছক নতুন করে সাজানো যেতে পারে. তা করা না হলে, ব্রিকস এলাকা বিনিময় মুদ্রা নিয়ে যুদ্ধের সামনে নিরস্ত্র হয়ে যেতে পারে. যদিও এই পঞ্চ রাষ্ট্রের সম্মিলিত এলাকায় বিশ্বের সর্বমোট জনসংখ্যার শতকরা চল্লিশ ভাগ থাকেন ও পৃথিবীর সমগ্র বার্ষিক আভ্যন্তরীণ উত্পাদনের শতকরা কুড়ি ভাগ করা হয়ে থাকে.