গত ১২ই ফেব্রুয়ারি উত্তর কোরিয়া পরমাণু বোমা পরীক্ষা চালানোর কারণে বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ দেশটির ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে, আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করেছে পিয়ংইয়ং।নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সিউলের সাথে শান্তিচুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর যদি পারমানবিক হামলা হয় তাহলে কিম চেন ইনের শাসন ধ্বংস করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে সিউল। উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়া যখন চলছে তখন যুদ্ধের হুমকি শোনা যাচ্ছে।

১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সবাই এককন্ঠে উত্তর কোরিয়া সংক্রান্ত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাবের পিছনে কারণ হিসেবে গত ১২ই ফেব্রুয়ারি উত্তর কোরিয়ার পরমাণু পরীক্ষা চালানোর প্রসঙ্গ বর্ণনা করা হয়। চীনের সাথে ঘনিষ্ট সম্পর্ক বজায় রেখে মার্কিন প্রতিনিধিরা নথিপত্র তৈরী করেন।

কোরিয়া গবেষণা সংক্রান্ত ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ গিওর্গি তালারি জানান, "নিষেধাজ্ঞা হচ্ছে ওয়াশিংটনের ঐক্যমতে পোঁছানোর ফলাফল। তিনি আরো বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার ওপর বাড়তি চাপ প্রয়োগ করে এবং কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে অবস্থান নেয়। অন্যদিকে এ নিষেধাজ্ঞা যেন কোরিয়া উপদ্বীপকে নিয়ে উত্তেজনা পরিস্থিতি সৃষ্টি যেন না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি ছিল চীনের।"

এ নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রগুলোর সাথে উত্তর কোরিয়ার বাংকিং লেনদেন বন্ধ করা, বড় অংকের নগত অর্থ উত্তর কোরিয়ায় পাঠানো, বিদেশে উত্তর কোরিয়ার বাংকের শাখাগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান। সেই সাথে উত্তর কোরিয়া থেকে পণ্য পরিবহন ও সেখানে পণ্য পাঠানোর বিষয়টি নিষেধাজ্ঞায় উল্লেখ রয়েছে।

একদিকে উত্তর কোরিয়ার ওপর আরোপ করা নতুন নিষেধাজ্ঞা জোরালো অর্থে একটি পরিষ্কার সংকেত দিয়েছে পিয়ংইয়ংকে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞাকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। পিয়ংইয়ংয়ের ওপর এ নিয়ে সংস্থাটি ৪ বার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আন্তোর্জাতিক নিরাপত্তা সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পেটার তোপিচানকোভ মনে করেন যে, এ ধরণের নিষেধাজ্ঞার কোন বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, "নিষেধাজ্ঞা নিজের ভূমিকা পালন করবে। উত্তর কোরিয়ার পরমাণু প্রকল্পের নিন্দা জানানোর সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে জাতিসংঘ ও নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞাকে। অন্যদিকে অনেক সময় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা থেকে অনেক সুস্পষ্ট ফলাফল বেরিয়ে আসে। সেই দিক থেকে নিষেধাজ্ঞা হয়তবা অকার্যকর হতে পারে। তবে যেকোন অর্থেই অত্যন্ত ধীরস্থির অবস্থান নিতে হবে।"

উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার পরই যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে পিয়ংইয়ংয়ের বিরোধপূর্ণ মনোভাবের তীব্রতা প্রকাশ পেয়েছে। চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতামত জানিয়েছেন প্রাচ্যতত্ত ইনস্টিটিউটের কোরিয়া গবোষণা সেন্টারের পরিচালক আলেক্সান্দার বারোনছোভ। তিনি বলেন, "সত্য হলেও বিগত কয়েক দিন ধরে কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতি যত দ্রুত কাটিয়ে ওঠা যায় ততই ভাল। এর সাথে অবশ্যই বাড়তি উস্কানিমূলক বিবৃতি দেয়ার মানে নেই। বর্তমানে একে অন্যকে হুঁমকি দিয়ে বিবৃতি দিচ্ছে, যা যুদ্ধ শুরু ঘোষণা। যদিও এখন পর্যন্ত তা মৌখিক বার্তায় সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারপরও এ শাস্তির পিছনে কোন একটি যুক্তি রয়েছে। এ সবকিছুই কোরিয়া উপদ্বীপকে নিয়ে ভবিষ্যতের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বাড়িয়ে তুলছে।"

এসবের মধ্যেই আবার উত্তর কোরিয়ার সীমান্তের কাছে সামরিক মহড়া চলছে যুক্তরাষ্ট্রের ও দক্ষিণ কোরিয়ার যা কিনা ঘটনাকে ভিন্নখাতে রুপ নেওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। উভয় দেশের ৩ লাখ সেনা এ মহড়ায় অংশ নিচ্ছে বলে জানা যায়। মার্কিন বিমানবাহী জাহাজ

অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দ্বীপ এলাকাগুলোতে নিজেদের সেনাদের শতর্ক অবস্থায় থাকার জন্য বৃহস্পতিবার এক নির্দেশ দিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ইন।