রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেছেন, সিরিয়ার সংকট নিরসণে মস্কো সর্বাত্বক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে আলোচনা শুরুর উদ্যোগকে সমর্থন জানাচ্ছে। তবে এ সেক্ষেত্রে বিরোধী দলের সাথে আলোচনা শুরু করার জন্য কোন শর্ত বেঁধে দেওয়া হলে তা কোন গঠনমূলক পদক্ষেপ হবে না বলে রাশিয়া মনে করছে। সব ধর্ম ও জাতির অধিকার বিবেচনা করেই নিজেদের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত শুধু সিরীয়রাই গ্রহণ করবে। সিরিয়া সংকটের সেই শুরু থেকেই রাশিয়া নিজেদের এ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং এর কোন পরিবর্তন করে নি।

বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ল্যাভরোভ এসব কথা বলেন।

সেরগেই ল্যাভরোভের ভাষায়, তাঁর দেশ সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়াতে বলবে না। সিরীয়রাই কেবল এ সিদ্ধান্ত নিবেন, অন্য কেউ নয়।

ল্যাভরোভ বলেন, "আমাদের জন্য প্রধান গুরুত্বের বিষয় হচ্ছে মানুষের জীবণ রক্ষা করা। কেউ যদি বলে যে, প্রথমে আসাদের সড়ে যাওয়া উচিত তাহলে বুঝতে হবে তাদের এটি হচ্ছে প্রধান উদ্দেশ্য। এর অর্থ হচ্ছে, মানুষের জীবণ বাঁচানো তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। সিরিয়ার সরকার পরিবর্তন খেলায় রাশিয়া নেই। আমরা দেশের অভ্যন্তরীণ সংকটের বিষয়ে হস্তক্ষেপের বিপক্ষে। এটাই আমাদের অবস্থান। আমাদের কাছে নীতিগত দিক দিয়ে তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদলকে যেকোন প্রকার পূর্বশর্ত দেওয়া থেকে সড়ে আসতে হবে  যারা সিরিয়ায় যুদ্ধে অংশ নিয়েছে তাদের সবাইকে জানিয়ে দেওয়া উচিত যে আলোচনার টেবিলে বসা ছাড়া কোন বিকল্প নেই।"

সেরগেই ল্যাভরোভ আরো বলেন, রাশিয়া প্রয়োজনবোধে সিরিয়া প্রসঙ্গে অস্ত্রের নিষেধাজ্ঞার প্রশ্ন নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে পারে, যদি কেউ বলতে পারে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সরবরাহ কিভাবে বন্ধ করা হবে।

এক্ষেত্র রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবারো বলেন, "রাশিয়া সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ করছে না যা কিনা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরকার ব্যবহার করতে পারে।" ল্যাভরোভ বলেন, দামাস্কাসকে যে অস্ত্র মস্কো সরবরাহ করেছে তা শুধু বিদেশি রাষ্ট্রের আগ্রসান প্রতিরোধে ব্যবহার করা যেতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে সিরিয়ায় রাষ্ট্রপতি আসাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়। জাতিসংঘের এক হিসাবে বলা হয়েছে, প্রায় ১০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। সিরিয়ার সরকার বলছে, অন্য রাষ্ট্রে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত অস্ত্রধারীরা সিরিয়া যুদ্ধে অংশ নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র পাচ্ছে সিরিয়ার জঙ্গীরা।