বিশ্বে অস্ত্রব্যবসা বিশ্লেষণ কেন্দ্রের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন ৮ বছরে রাশিয়া বিশ্বে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরে দ্বিতীয় সর্বব-হত অস্ত্র রপ্তানীকারীর জায়গা বজায় রাখতে সক্ষম হবে.

রপ্তানীযোগ্য রুশী অস্ত্রের মধ্যে ১ নম্বর বোমারু বিমান – সু-৩০. ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা’ নামক পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ইগর কারাতচেঙ্কো বলছেন, এখনো সামরিক বিমান সরবরাহে ক্ষেত্রে আমেরিকা আমাদের থেকে এগিয়ে থাকলেও, রাশিয়াও কমতি যায় না.

সু-৩০ বিমান – সত্যিকারের প্রতিদ্বন্দিতা সক্ষম. ঐ বিমানের বিভিন্ন মডিফিকেশন রয়েছে. ভারতের জন্য সু-৩০এমকেই, অন্যান্য দেশের জন্য অন্যান্য রকম. মিগ-ও খুব ভালো বিক্রি হয়, যেমন জাহাজের জন্য ভারত কেনে মিগ-২৯কেওবি.

চাহিদার দিক থেকে তারপরে আসে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা. বিদেশে রাশিয়ার স্থলবাহিনীর জন্য অস্ত্রশস্ত্রের চাহিদাও প্রচুর, বিশেষতঃ, ট্যাঙ্কের.

আজকের দিনে ভারত রাশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমানে অস্ত্র কেনে. সাম্প্রতিককালে রাশিয়া থেকে ভিয়েতনামে প্রচুর অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে. এই বছর ভিয়েতনাম রাশিয়ার কাছ থেকে তার সামরিক নৌবাহিনীর জন্য ২টি ডুবোজাহাজ কিনছে আর সবমিলিয়ে কিনবে ৬টা সাবমেরিন. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ইগর কারাতচেঙ্কো বলছেন, যে ভিয়েতনামের সঙ্গে রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা এখানেই থেমে যাবে না.-

ভিয়েতনাম আমাদের কাছ থেকে ‘গেপার্ড’ সিরিজের বহুমুখী জাহাজ কিনছে সক্রিয় হারে. তাছাড়া রাশিয়া থেকে নেওয়া লাইসেন্সের ভিত্তিতে ভিয়েতনাম বানাচ্ছে রকেটবাহী জাহাজ, যাদের তীব্র আঘাত হানার ক্ষমতা রয়েছে. তাছাড়াও ভিয়েতনাম রাশিয়ার কাছ থেকে লাইসেন্স নিয়ে ‘উরাল’ কমপ্লেক্সের জন্য জাহাজ প্রতিরোধী রকেট নির্মাণ করবে.

রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই শোইগুর সাম্প্রতিক ভিয়েতনাম সফরের সময়ে কথা হয়েছে, যে রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজগুলি ভিয়েতনামের বিভিন্ন বন্দরে যাতায়াত করবে.

রাশিয়ার অস্ত্র বেচার সামনে কিছু সমস্যারও উদ্রেক হয়েছে. যেমন রাশিয়া কতকালের জন্য লিবিয়ার বাজার খুইয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না. আপাততঃ সেখানে বৃটেন, ইতালি ও ফ্রান্সের অস্ত্র কোম্পানীগুলি পরিমরি করে ঢুকেছে. হুগো চাভেসের মৃত্যুর পরে ভেনেজুয়েলার সাথে স্বাক্ষরিত অস্ত্র বেচার চুক্তিগুলির ভবিষ্যতও ধোঁয়াশায় ঢাকা. ভেনেজুয়েলাকে রাশিয়া সরবরাহ করে হেলিকপ্টার ও ট্যাঙ্ক.

মোটের উপর অস্ত্রের বাজার চঞ্চল. বিভিন্ন দেশে শাসকদের বদল হচ্ছে, সরকার বদলাচ্ছে, পররাষ্ট্রনীতিও বদলাচ্ছে. কেই কল্পনা করতে পারেনি, যে এতদিন ধরে মার্কিনী সৈন্যবাহিনী ইরাকে মোতায়েন থাকার পরে ঐ দেশ হঠাত রাশিয়ার কাছ থেকে এত বড় অঙ্কের অস্ত্র কিনবে. কয়েকদিন আগে ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোশিয়ার জাবেরি জানিয়েছেন, যে এই বছরের গ্রীস্মকালেই স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুসারে রাশিয়া বাগদাদকে বোমারু হেলিকপ্টার ও জেনিথ কমপ্লেক্স সরবরাহ করা শুরু করবে.