রাশিয়া বহুদিন ধরেই যা বলে আসছে, তাই প্রমাণ হয়েছে সশস্ত্র জঙ্গীরা ইজরায়েল সিরিয়া সীমান্তের গোলান হাইটস এলাকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের কুড়ি জন শান্তি রক্ষী সেনাকে বন্দী করার ফলে. সিরিয়াতে প্রশাসনের বিরুদ্ধে বহু সংখ্যক চরমপন্থী গোষ্ঠী লড়াই করছে, যারা আন্তর্জাতিক আইন সংক্রান্ত নিয়ম পালন করতেই তৈরী নয়. আর, তার ওপরে তারা সিরিয়াতেও আইনের অধিকার মানতে যাবে না.

বুধবারে এক পর্যবেক্ষণ এলাকার কাছে একদল সশস্ত্র লোক, যারা নিজেদের সিরিয়ার জঙ্গী বাহিনী বলে উল্লেখ করেছে, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের কর্মীদের নিয়ে যাওয়া গাড়ীর কনভয় থামিয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষী বাহিনী ১৯৭৪ সাল থেকেই গোলান হাইটস এলাকায় বহাল রয়েছে সিরিয়া ও ইজরায়েলের সেনা বাহিনীদের তফাতে রাখার জন্য. সেই বাহিনীতে রয়েছে হাজারেরও বেশী অস্ট্রিয়া, ক্রোয়েশিয়া, ভারত ও ফিলিপাইনস থেকে আসা সৈনিক. জঙ্গীদের কাছে বন্দী হয়েছে ফিলিপাইনসের সেনারা.

মার্চ মাসে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সভাপতিত্বের দায়ভার গ্রহণ করেছে রাশিয়া ও রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন ঘোষণা করেছেন যে, নিরাপত্তা পরিষদ জঙ্গীদের কাজের কড়া সমালোচনা করেছে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“নিরাপত্তা পরিষদের সমস্ত সদস্যরাই দাবী করেছে অবিলম্বে কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা রক্ষী সৈনিকদের মুক্ত করার ও সমস্ত পক্ষকেই আহ্বান করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গে নিজে থেকেই সহযোগিতা করার, যাতে এখানে কর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া না হয় ও তাদের নিরাপত্তা বজায় থাকে”.

ইতিমধ্যে এটা দ্বিতীয় একই রকমের ঘটনা, যা গত দুই সপ্তাহে হয়েছে. ২৬শে ফেব্রুয়ারী রাষ্ট্রসঙ্ঘ ঘোষণা করেছে একজন শান্তি রক্ষকের হারিয়ে যাওয়ার কথা. এর ঘটনা পরম্পরা খুব ভাল করেই আগে থেকে ধারণা করা যেতে পারে. বিরোধী পক্ষ, যারা দুই বছর আগে প্রতিবাদ শুরু করেছিল আর সশস্ত্র জঙ্গীরা, এরা আসলে আলাদা লোক, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“এখানে মনোযোগ দেওয়া দরকার সেই বিষয়ে যে, এই বিরোধ যত প্রসারিত ও গভীর হচ্ছে, তত বেশী করেই বিরোধী পক্ষ নিজেদের রাজনৈতিক অবয়ব ও পরিচয় বদল করছে. সেখানে আগে প্রশাসনের সত্যই বিরোধীরা ছিল. কিন্তু সময়ের সঙ্গেই বিরোধী পক্ষ হয়ে দাঁড়াচ্ছে একটা গুণ্ডাদের গোষ্ঠী মাত্র”.

সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের খুবই শক্তিশালী চরমপন্থী অংশ রয়েছে, রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশ্লেষক লিওনিদ ইসায়েভ এই কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

“প্রত্যেকের জন্যই এখন স্পষ্ট হয়েছে যে, বাস্তবে সিরিয়ার জঙ্গীরা “আল- কায়দার” সঙ্গে হাত মিলিয়েছে. অস্ত্র, যা তারা পাচ্ছে ও সৈন্য, যারা তাদের দলে যোগ দিচ্ছে, - তারা সকলেই “আল- কায়দার” ডেরা থেকে আসছে অথবা ওই ধরনের কোন কাঠামোর থেকেই আসছে. এটা কোন ভাবেই অস্বীকার করা যায় না এমনই বাস্তব, আর এই ধরনের লোকদের সুযোগ দেওয়া ও তাদের সঙ্গে যারা রয়েছে তাদেরও আরব লীগে সিরিয়ার জায়গায় বসার জায়গা করে দেওয়া একটা একেবারেই অদ্ভুত ব্যাপার হবে”.

বুধবারে আরব লীগের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে কায়রো শহরে সিরিয়ার জায়গায় সেই দেশের বাইরে থাকা সিরিয়ার বিরোধী ও বিপ্লবী জোটের প্রতিনিধিদের জায়গা নেওয়ার বিষয়ে আহ্বান গৃহীত হয়েছে. এই বিষয়ে জোর দিয়েছে সৌদি আরব ও কাতার, যাদের উদ্যোগেই এই জোট তৈরী হয়েছে দোহা শহরে. এই আহ্বানের সঙ্গে নিজেদের অমত উল্লেখ করেছে লেবানন, ইরাক ও আলজিরিয়া. লেবানন আরব লীগের কাছে দাবী করেছে সিরিয়ার জন্য তাদের আইন সঙ্গত জায়গা ফিরিয়ে দেওয়ার. কিন্তু আরব লীগের “ভোটের মেশিন”, যাতে বর্তমানে আরব রাজতন্ত্র গুলিই প্রাধান্য বিস্তার করেছে, তারা এই স্ক্যান্ডাল হওয়া সিদ্ধান্তই নেওয়াতে পেরেছে.