আজকের দিনে মহিলাদের প্রতিবাদ আন্দোলন প্রায়ই একেবারে চরম সব রূপ নিচ্ছে. “ফেমিন” নামের মহিলা আন্দোলনের সক্রিয় কর্মীরা বিভিন্ন রকমের কারণে নিয়মিত ভাবে উর্দ্ধাঙ্গ উন্মুক্ত করে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাচ্ছে. তাঁরা নিজেদের বক্ষাবরণী খুলে ফেলে ইউক্রেনে পতিতা বৃত্তির বিরুদ্ধে, ইজিপ্টে ঐস্লামিকদের বিরুদ্ধে, রাজনীতিতে মহিলাদের স্বল্প উপস্থিতির বিরুদ্ধে, পোপ ষোঢ়শ বেনেডিক্টের পদত্যাগকে স্বাগত জানিয়ে প্যারিসের নতরদম দ্য প্যারী গির্জার ঘন্টাঘর অবধি উঠে প্রতিবাদ জানিয়েছে. তাদের এবারে আবার অনুকরণ কারী মেয়ে দল জুটেছে. নারী অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক দিবসের প্রাক্কালে ইরানের কম্যুনিসট দলের যুবতী কর্মীরা ও ইরানে মহিলাদের বিরুদ্ধে অত্যাচারের বিরোধী সংগঠনের মেয়েরা সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমের কেন্দ্রে বক্ষ বন্ধনী খুলে ফেলে বোরখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে. নিজেদের শরীরে তারা লিখেছিল “আমার নগ্নতা – আমার প্রতিবাদ” ও “বোরখা নিপাত যাক”!

অষ্টাদশ শতকে জন্ম নেওয়া মহিলা অধিকারের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক- রাজনৈতিক আন্দোলন কি সত্যই এই রকম ভাবে পুনর্জন্ম লাভ করেছে আর তার রূপ এতই গ্রোটেস্ক বা গুহা থেকে উঠে আসা ব্যঙ্গের মত হয়েছে?

মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের লেকচারার ইরিনা কালাবিখিনা ব্যাখ্যা করে বলেছেন– বর্তমানের পৃথিবীতে মহিলা আন্দোলনের নানা রকমের রূপ রয়েছে, তার মধ্যে আছে চরমপন্থী, মৌলবাদী সব রকমের. তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মহিলাদের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করছেন. কেউ আজ ব্যবহার করছে এই ধরনের সমাজ চমকে দেওয়ার মতো প্রতিবাদের ধরণ – যেমন “ফেমিন” গোষ্ঠী. কিন্তু তাদের সংক্যা কম ও তারা মোটেও নারী আন্দোলনের প্রথম সারিতে নেই. বেশীর ভাগ মহিলা আন্দোলন বাস্তব সমস্যার সমাধানের জন্যই লড়াই করছে. তাদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে বিভিন্ন দেশে আইন গ্রহণের, যা মহিলাদের কাজে নেওয়ার সময়ে কোন রকমের অন্যায়, ছাঁটাই করা কঠিন করা, ও কোন রকমের যৌন নিগ্রহ হতে না দেওয়ার জন্য নেওয়া হয়েছে. “এটা খুবই যুক্তিসঙ্গত অবস্থান, আমি এই ধরনের নারীবাদের পক্ষে”, - বলেছেন রুশ গবেষিকা.

যে সমস্ত সমস্যা রয়েছে, যা আজ রাশিয়ার মহিলাদের সামাজিক সংগঠন গুলি সমাধানের চেষ্টা করছেন – তা হল আমাদের দেশে ইতিমধ্যেই নেওয়া সমস্ত আইন কার্যকর করার: যারা পড়াশোনা করছেন, কারখানা বা ব্যবসাতে কাজ করছেন, যারা শিশুদের ভরণ পোষণ করছেন, তার মধ্যে যাঁরা একাই পরিবার গড়ে তুলছেন পুরুষ মানুষের অনুপস্থিতিতে তাদের জন্য. ইরিনা কালাবিখিনা তাঁর মতে কিছু অন্য প্রশ্নের কথা তুলেছেন, তিনি বলেছেন:

“আমাদের রাজনীতিতে মহিলাদের সংক্যা কম, আর ক্ষমতার চূড়ায় মহিলাদের সংখ্যা শতকরা দশ থেকে তেরো ভাগ. সেই সব মহিলা, যাঁরা বাচ্চাদের ভরণ পোষণ করছেন, বাড়ীর কাজকর্ম করছেন, তাঁদের পক্ষে নিজেদের ক্যারিয়ারে উপরে ওঠায় অনেক বাধা রয়েছে. খুব কমই রয়েছে অনেক গুলি ছেলেমেয়ে সমেত পরিবার. আর আমাদের দেশের জনসংখ্যার সমস্যা খুবই তীক্ষ্ণ. এই সব সমস্যার সমাধানের ক্ষেত্রে সামাজিক ভাবে মহিলা ও নারীবাদী আন্দোলন অবশ্যই একটা গতি এনে দেবে”.

ভারতেও রয়েছে নারীবাদী সংগঠন আজ বহু দশক ধরেই. তাদের একটি মানুষী তৈরী করেছেন মধু কিশোয়ার – তিনি একজন সমীক্ষক, দিল্লীতে উন্নতিশীল সমাজ গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী. তিনি আপত্তি করেন না, যখন ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে কোথাও তাঁকে “ফেমিনিস্ট” বলা হয়ে থাকে, তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“১৯৮০ সাল থেকে “মানুষী” নামের এই সংস্থা ভারতীয় মহিলাদের অধিকারের জন্য লড়াই করছে, আমরা গ্রামের মহিলাদের কাজ ও বাড়ীতে ন্যায্য অধিকার পেতে সমর্থ হয়েছি.আমরা সেই সব মহিলাদের, যাঁরা গৃহহীণ, তাঁদের জন্য থাকার ব্যবস্থা করে থাকি, চেষ্টা করি কাজ পাইয়ে দিতে. পুরুষ ও মহিলাদের সমান অধিকার – এটা শুধু প্রথম ধাপ, আমাদের লক্ষ্য ভারতে নাগরিক অধিকারের বৃদ্ধি করা ও অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা করা, আমরা গান্ধীজীর অহিংসার মতেই বিশ্বাসী”.

ইরিনা কালাবিখিনা ও মধু কিশোয়ার আধুনিক নারীবাদকে মহিলাদের হেয় করার বিরুদ্ধে আন্দোলন বলেই বর্ণনা করেছেন, তাঁদের সকলের জন্যই সমান মানব অধিকার চেয়েছেন.

আমাদের শ্রোতা ও পাঠকেরা এই বিষয়ে কি ভাবেন, তা জানার ইচ্ছা রইল. আমাদের প্রশ্ন গুলি এই ধরনের:

নারীবাদ সম্বন্ধে আপনার মত কি? আজকের দিনে তার কি রূপ হয়েছে?

ভারতে ও বাংলাদেশে মহিলাদের প্রধান সমস্যা কি?

আপনি কি ভাবে সেই সমস্যা সমাধানের উপায় দেখতে পান?

রাশিয়ার মহিলাদের জীবন নিয়ে কি ধরনের প্রশ্ন আপনার রয়েছে ও আপনি রেডিও রাশিয়ার সাইটে কি জানতে চান?