শুধুমাত্র মস্কোর পুরুষ জনসমাজই ৮ই মার্চ উপলক্ষে প্রায় ৫৫ কোটি ডলার খরচ করবে. আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে রাজধানীর অধিবাসী পুরুষদের মতামত সংগ্রহ করেছেন সমাজতত্ত্ববিদেরা.

মস্কোর সবচেয়ে স্বচ্ছল পুরুষদের বয়স ৩৬ থেকে ৪৫ বছর. তারা মোটামুটি গড়ে ২০০ ডলার করে খরচ করবেন উপহারের পেছনে. কিসের পেছনে পুরুষরা এত অর্থ ব্যয় করবে? গল্প করছেন সমাজতত্ত্ববিদ আলেক্সান্দর কাফুঃ

উপহারের বৈচিত্র্য খুব বেশি নয়. আত্মীয়তার মাত্রার ওপর নির্ভর করে উপহারের মূল্য. সবচেয়ে দামী উপহার পায় পত্নীরা. তাদের উপহার দেওয়া হবে দামী অলঙ্কার, ইলেকট্রনিক্স – বিশেষতঃ অল্পবয়সীরা(১৮-২৫ বছর). মায়েদের উপহার দেওয়া হবে মূলতঃ ছোটোখাটো গৃহস্থালির যন্ত্র. প্রেমিকাদের সাধারনতঃ দেওয়া হয় ফুল ও চকোলেটের বাক্স.

বাস্তবিকই ফুল বিক্রেতারা মার্চ মাসে রোজগারের হিসাব করে হাত কচলাচ্ছে. মস্কোর ব্যবসা দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, যে আন্তর্জাতিক নারীদিবসের প্রাক্কালে ফুলের দাম ৫০-৬০% বাড়বে. উত্সবের অপরিহার্য অঙ্গ এই ফুলের পেছনে পুরুষরা উপরোক্ত ৫৫ কোটি ডলারের অর্ধেক ব্যয় করবে. কিন্তু ‘আলপারি’ কোম্পানীর বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান আলেক্সান্দর রাজুবায়েভের মতে, মস্কোবাসীরা এতে আদৌ কোনো গুরুত্ব দেয় না.

যদি আমরা উপহারের গড় মূল্যর দিকে লক্ষ্য করি, তবে দেখতে পাবো, যে পশ্চিম ইউরোপে ক্রিসমাসে কেনা উপহারের মতোই এখানে পুরুষরা খরচা করে. এটা প্রমাণ করে, যে আয় ও ব্যয়ের পরিমান এখানে পশ্চিম ইউরোপের মতোই. সংখ্যা দেখে বোঝা যায়, যে রাশিয়া গরীব দেশ নয়.

সমাজতত্ত্ববিদদের জানার আগ্রহ ছিল, যে নারীরা নিজেরা কোন উপহার প্রত্যাশা করছে. প্রায় সবাই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ফুলকে. জিজ্ঞাসা করা নারীদের অর্ধেকের বেশিই উত্সবে ফুলের স্তবক পাওয়ার প্রতীক্ষা করছে. তারপরে ক্রমশঃ কমসংখ্যায় ইচ্ছাঃ অলঙ্কার, কসমেটিক্স, নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন, পোষাক, চকোলেট. তবে সমাজতত্ত্ববিদেরা আবিস্কার করেছেন - ৮ই মার্চে সবচেয়ে ঘৃণ্য উপহার. নারীরা একেবারেই পছন্দ করে না এই উত্সবে বাসনকোসন, স্টেশনারি গুডস উপহার পেতে. আর শ্রদ্ধেয় পাণিগ্রাহীবৃন্দ, নারীদের কোনোমতেই স্টকিংস উপহার দেবেন না. ওরা নিজেরাই ওসব কিনে নেবে.