২০১৩ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য আবেদনপত্রের সংখ্যা দুবছর আগে স্থাপিত রেকর্ডকেও হার মানিয়েছে. কিছু রাজনীতি তত্ত্ববিদদের মতে, প্রত্যেক বছর ক্রমবর্ধমান আবেদনপত্র এই পুরস্কারের সুউচ্চ মর্যাদার প্রমাণ দেয়. অন্যরা মনে করেন, যে পুরস্কারটা ক্রমশঃ রাজনীতির ফাঁদে আটকাচ্ছে. পুরস্কার প্রদাণ করার প্রাথমিক উদ্দেশ্যকে খর্ব করছে.

এই বছরে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য ২৫৯ জন প্রার্থী. ২০১১ সালে ২৪১ জন প্রার্থী ছিল. স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে পুরস্কার পেতে পারে যেমন কোনো ব্যক্তি, তেমনই সংস্থা, এমনকি রাষ্ট্রজোট. গতবছর নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল ইউরোপীয় সংঘকে. রাশিয়ার সংসদের উচ্চকক্ষের সদস্য আন্দ্রেই ক্লিমভ মনে করেন, যে যদি ইউরোপীয় সংঘের প্রতিষ্ঠাতাদের, হয়তো বা কাউকে মরনোত্তর পুরস্কার দেওয়া হতো, তবু তার একটা মানে ছিল. কিন্তু আমলাদের বা ঐ রাষ্ট্রজোটের ভূখন্ডে বসবাসকারী ৬০ কোটি মানুষকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হাস্যকর. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে আন্দ্রেই ক্লিমভ বলছেনঃ

কম দেশ নেই, যেমন সুইজারল্যান্ড, যারা বহুকাল কারও সঙ্গে যুদ্ধ করেনি. তাহলে সুইজারল্যান্ডকে অন্ততঃ পুরস্কার দেওয়া উচিত. শান্তির ক্ষেত্রে মঞ্চ এতটাই রাজনীতিকীর্ণ, যে বারাক ওবামা হঠাত কোথা থেকে শান্তি স্থাপকে পরিণত হলেন, তারপর আবার ইউরোপীয় সংঘ. আমার দৃষ্টিকোন থেকে নোবেল শান্তি পুরস্কার বহুকাল আগেই তার সম্মান খুইয়েছে.

যে সব ব্যক্তিকে এখন মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে এবং যারা পুরস্কার প্রাপকদের বাছাই করে, তারা আদৌ শান্তির ব্যাপারে ভাবেই না. কার্যকরী রাজনীতি তহবিলের অধ্যক্ষ কিরিল তানায়েভের মতে, ওরা সবাই ছোটোখাটো রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণ করতে ব্যস্তঃ

কিসের জন্য ব্যক্তিবৃন্দ ও সংস্থাসমূহকে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়? যাতে তাদের সম্পর্কে পৃথিবীতে জানান দেওয়া যায়. ব্যাপারটা হচ্ছে এই যে, নোবেল শান্তি পুরস্কারকে যথেষ্ট মর্যাদাজনক পুরস্কার হিসাবে গণ্য করা হয়, যার সাথে নাম জড়িত থাকলে সর্বক্ষেত্রে সুবিধা হয়. নোবেল কমিটি সাম্প্রতিককালে বেশ সংকটজনক পরিস্থিতির মধ্যে আছে – এটা একটা সমস্যা. আর বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠন যে নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দেয়, সেটা আরেকটা সমস্যা. তাদের গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়.