উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা সমেত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের খসড়া রাশিয়া সমর্থন করবে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রুশ প্রজাতন্ত্রের তরফ থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন. মঙ্গলবারে নিরাপত্তা পরিষদে পরামর্শ বৈঠকের পরে এই সিদ্ধান্তের খসড়ার বয়ান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন একই সঙ্গে চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধিরা, লি বাওদুন ও কিম সুক. আসা করা হয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তকে ১৫টি রাষ্ট্রের সব কয়টিই, যারা বর্তমানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য তারা সমর্থন করবে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বৃহস্পতিবারে এই খসড়া প্রস্তাবে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেছিল. রাশিয়া, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে মার্চ মাসে সভাপতিত্ব করা শুরু করে তাদের এই অবস্থানকে সমর্থন করে. প্রাথমিক ভাবে সেই কারণেই যে, পারমানবিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই খসড়া প্রকল্পে প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে, যা উত্তর কোরিয়া কয়েকদিন আগে করেছে. এটা সেই রকমের দলিল, যা তৈরী করার জন্য মস্কো একেবারে শুরু থেকেই চেষ্টা করে এসেছে. সিদ্ধান্তের খসড়া – এটা ওয়াশিংটন ও বেজিংয়ের সমঝোতার ফল, এই রকমই মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কোরিয়া পরিকল্পনা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ গিওর্গি তলোরায় বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা কঠোর করে শক্ত ভাবে চাপ দিতে চেয়েছে. চিন চেষ্টা করেছে সেই রকম হতে না দিতে, যাতে এই চাপে উপদ্বীপ এলাকাতেই পরিস্থিতি আরও তীক্ষ্ণ হয়, নতুন করে উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে প্ররোচনা দেওয়া হয় ও পিয়ংইয়ং এর প্রশাসনের অস্থিতিশীলতা তৈরী হয়”.

সব পক্ষের এবারে একটা ভারসাম্য সমেত অবস্থান তৈরী করা সম্ভব হয়েছে. আর একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়াকে একটি শক্তিশালী ও নির্দিষ্ট সঙ্কেতও দেওয়া সম্ভব হয়েছে যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করা সম্ভব নয়, যা তাদের পারমানবিক ও রকেট পরিকল্পনার উপরে ভেটো প্রয়োগ করেছে. ঠিক এই কারণেই মস্কো এই দলিলকে সমর্থন করতে যাচ্ছে, এই কথা মনে করে সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ কনস্তানতিন আসমোলভ বলেছেন:

“এক দিক থেকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসাবে ও এক পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসাবে, অবশ্যই পারমানবিক অস্ত্র প্রসার অনিয়ন্ত্রিত ভাবে হওয়া লাভজনক নয় ও সেই রকমের পরিস্থিতিও কাম্য নয়, যখন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত নিয়মিত ভাবেই ভঙ্গ করা হয়ে থাকে. আবার অন্য দিক থেকে, রাশিয়ার জন্য সীমান্ত এলাকায় স্থিতিশীলতাও খুব কম গুরুত্বপূর্ণ নয়”.

সিদ্ধান্তের খসড়া ছয় পক্ষের আলোচনার জন্য রাস্তা খোলা রেখেছে. সেই আলোচনা হয়ে থাকে চিন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, জাপান ও দুই কোরিয়ার অংশগ্রহণের মাধ্যমে, যাতে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত পরিস্থিতি অর্জন করা সফল হয়. এর আগে পিয়ংইয়ং ঘোষণা করেছিল যে, তারা এই আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, কারণ রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে তাদের মহাকাশে উপগ্রহ পাঠানোর জন্য ব্যালিস্টিক রকেট উড়ানের সমালোচনা করা হয়েছে বলে. এরই মধ্যে মস্কো ও বেজিং জোর দিয়েছে ছয় পক্ষের আলোচনা যত দ্রুত সম্ভব শুরু করা সম্ভব তা করার. এর সঙ্গে একমত হয়েছে ওয়াশিংটন ও সিওল. এটা এই খসড়ায় সামগ্রিক অবস্থান প্রতিফলিত করতে সম্ভব করেছে.

এই প্রস্তাব গ্রহণের পরে উত্তর কোরিয়া খুবই কঠোর নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীণ হবে, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের পক্ষ থেকে নেওয়া হতে চলেছে, এই প্রথমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘ উত্তর কোরিয়ার কূটনীতিবিদদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিতে পারে. সম্ভাব্য হয়েছে এই দেশের সংস্থা ও ব্যক্তিদের তালিকা দীর্ঘতর হওয়ার, যাদের জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা রয়েছে. অংশতঃ, রকেট প্রযুক্তি ও বিনিময় ও যোগাযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে. আর তারই সঙ্গে ব্যাঙ্কের কাজকর্ম ও নগদ অর্থের বেআইনি হস্তান্তর, যাতে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক পরিকল্পনায় এই ভাবে সহযোগিতা বন্ধ করা সম্ভব হয়.