রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী মহিলা হিসাবে জাতীয় সভার স্পীকার ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো পরপর দুই বছর স্বীকৃতী পেয়েছেন. রাজনীতি, সংস্কৃতি ও ব্যবসায়ের সেরা ১০০ উজ্জ্বল মহিলার নামের এই প্রকল্প রাশিয়ার সংবাদ মাধ্যম তৈরী করেছে. বৃহত্ রাজনীতিতে রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের স্পীকার - দেশের তৃতীয় প্রধান রয়েছেন তিরিশ বছরের বেশী সময় ধরেই. এক একান্ত সাক্ষাত্কারে রেডিও রাশিয়াকে ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো জানিয়েছেন ৮ই মার্চে দেশের সমস্ত মহিলাদের জন্য আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা ও দেশে নিজের কাজের জন্য এত উচ্চ মূল্যায়ণ পেতে হলে কি ধরনের গুণের প্রয়োজন হয়, তা নিয়ে ব্যাখ্যা করে বলেছেন.

ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো – দেশের ইতিহাসে প্রথম পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের স্পীকার. এর আগে তিনি ছিলেন – সেন্ট পিটার্সবার্গের প্রথম মহিলা রাজ্যপাল. আর এর আগে তাঁর জীবনে ছিল কূটনৈতিক ক্যারিয়ার. নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি নিজেদের দেশের হয়ে মাল্টা ও গ্রীসে প্রতিনিধিত্ব করেছেন. কিন্তু সমস্ত রকমের দায়িত্ব ও পদই তাঁকে একজন দায়িত্বশীলা স্ত্রী, মা ও এখন ঠাকুরমা হতে কোন রকমের বাধা সৃষ্টি করতে পারে নি. ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো সব সময়েই খুব ভাল রকমের সেজেগুজে থাকেন. তাঁর মধ্যে যুক্ত রয়েছে নারীত্ব ও আভ্যন্তরীণ ঋজুতা. কি ধরনের গুণ থাকা দরকার, যাতে এই ধরনের মাথা ঘোরানো রাজনৈতিক ক্যারিয়ার রাশিয়াতে করা সম্ভব হয়? পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষের স্পীকার ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো মত দিয়ে বলেছেন, প্রধান হল – কাজ করা দরকার ফলের জন্যই, তিনি যোগ করেছেন:

“আমার মনে হয় যে, এই মূল্যায়ণ শুধু আমার কাজেরই নয়, বরং দেশের জাতীয় সভার কাজেরও ফলপ্রসূতা নিয়ে করা হয়েছে. এটা ঠিকই যে, খুবই ভাল লাগে – আমি গোপন করছি না – যখন এই রকম করা হয়, তবে এটা অনেক কিছুতেই বাধ্য করে: নিজের মান ধরে রাখা খুবই কঠিন. কিন্তু আমি মনে করি যে, এখানে বিশেষ কিছু গোপন নেই – এটা পরিশ্রম, পেশাদারীত্ব ও উপযুক্ততা. এটা নিজের উপরেই ক্রমাগত কাজ করে যাওয়া, দায়িত্ব পালন করা ও কোন রকমের চৈতন্যের অভাব না হতে দেওয়া. যদি তুমি নিজের জন্য নির্বাচন করে থাকো, তবে তোমারই উচিত্ হবে তার সঙ্গে মানিয়ে চলার ও সমস্ত কিছুই সম্ভব মতো করার, যাতে ফল পাওয়া যেতে পারে. আমি সব সময়েই চেষ্টা করেছি ফলের জন্য কাজ করতে. আমি সারা জীবন কাজ করেছি পুরুষদের মধ্যেই ও আমাদের সমাজে যেমন ধরেই নেওয়া হয়েছে যে, একটা পুরুষের উপযুক্ত কাজে. কিন্তু একই সঙ্গে আমি নিজেকে মহিলা থাকার উপযুক্ত দুর্বলতা থাকতে দিয়েছি. আমার মনে হয়েছে যে, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ”.

রাশিয়াতে সক্রিয়ভাবে প্রক্রিয়া চলছে রাজনৈতিক ও নির্বাচনের ব্যবস্থার. এই প্রসঙ্গে ভালেন্তিনা মাতভিয়েঙ্কো রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া সাক্ষাত্কারে উল্লেখ করেছেন যে, বিগত বছর গুলিতে এক গুচ্ছ নতুন আইন নেওয়া হয়েছে, যা সমাজের জীবনের গণতান্ত্রিকরণের জন্যই করা হয়েছে, তিনি তাই বলেছেন:

“এটা রাজ্যপাল নির্বাচনকে নিয়ে হয়েছে, আর রাজনৈতিক ব্যবস্থাকেও লিবারেল করা হয়েছে – বর্তমানে রাজনৈতিক দল নথিভুক্ত করা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাস্তবে একটা স্রেফ জানানোর ব্যবস্থা. আর নির্বাচনের সময়ে সংযুক্ত ব্যবস্থা ও লোকসভা নির্বাচনে বাধা কম করে দেওয়ার জন্য সম্ভব হবে অনেক সংখ্যক রাজনৈতিক দলেরই লোকসভাতে প্রতিনিধিত্ব করার. তাছাড়া, দেশে দুর্নীতির সঙ্গে সত্যই প্রসারিত ভাবে লড়াই করা হচ্ছে এবং রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব এই বিষয়ে খুবই কঠোর মনোভাব দেখিয়েছে. এর সবই বাস্তব ঘটনা, কোন স্রেফ কথাবার্তা নয়. এটা দেশের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে রাশিয়াতে গণতান্ত্রিক সংশোধন চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছার প্রমাণ”.

২০১২ সালের ১০০ জন সেরা ও সবচেয়ে প্রভাবশালী মহিলার মধ্যে নেতৃস্থানীয় জায়গা নিয়েছেন রাজনীতিতে থাকা মহিলারাই, অথবা সেই সব মহিলা, যাঁরা দেশের ক্ষমতার অলিন্দে উচ্চ পদে আসীন রয়েছেন – মন্ত্রীরা, রাজ্যপালরা, অন্যান্য পরিষদের প্রধানরা. তিনজন নেতৃত্বে থাকা মহিলাদের মধ্যে, একই সঙ্গে রয়েছেন রুশ প্রশাসনের মন্ত্রীসভার উপ প্রধানমন্ত্রী ওলগা গলোদেত্স এবং প্রধানমন্ত্রীর তথ্য সচিব নাতালিয়া তিমাকোভা.